Bankura Municipality

শৌচালয় বানাতে বাঁকুড়া পুরসভার ব্যয় সাড়ে ৬ লক্ষ টাকা, ‘ঐতিহাসিক’ বলল বিজেপি, দুর্নীতির অভিযোগ

শহরাঞ্চলে সরকারি আবাস প্রকল্পে বাড়ি তৈরির জন্য বরাদ্দ যেখানে ৩ লক্ষ ৬৮ হাজার, গ্রামের মানুষ মানুষ পান ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা, সেখানে বাঁকুড়া পুরসভা দুই কামরার শৌচালয় তৈরিতে বরাদ্দ করেছে সাড়ে ছ’লক্ষ টাকা! এত টাকা বরাদ্দ করায় দুর্নীতির অভিযোগে সরব বিরোধীরা।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৫ জানুয়ারি ২০২৬ ১৭:৪২
Share:

যে বোর্ড দেখে বিতর্কের শুরু। —নিজস্ব ছবি।

শহরাঞ্চলে সরকারি আবাস প্রকল্পে বাড়ি তৈরির জন্য বরাদ্দ যেখানে ৩ লক্ষ ৬৮ হাজার, গ্রামের মানুষ মানুষ পান ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা, সেখানে বাঁকুড়া পুরসভা শৌচালয় বানাতে এত টাকা বরাদ্দ করায় দুর্নীতির অভিযোগে সরব বিরোধীরা। নির্মীয়মান শৌচালয়কে ‘ঐতিহাসিক’ বলে কটাক্ষ করেছেন বিজেপি বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পাল।

Advertisement

বাঁকুড়া পুরসভা ভবনের ঠিক সামনে পুরনো একটি শৌচালয় ভেঙে ফেলা হয়েছে। নতুন শৌচালয় তৈরিতে হাত দিয়েছে বরাত পাওয়া ঠিকাদার সংস্থা। নিয়ম মেনে ওই নির্মাণকাজের তথ্য সম্বলিত বোর্ড লাগানো হয়েছে পুরসভার সামনে। তাতে লেখা, শৌচালয় নির্মাণের জন্য বরাদ্দ হয়েছে মোট ৬ লক্ষ ৫১ হাজার ৭৩৩ টাকা। ‘মহার্ঘ্য’ শৌচালয়ের তথ্য সম্বলিত বোর্ডের ছবি তুলে ধরে সমাজমাধ্যমে পোস্ট করছেন এলাকার বাসিন্দা থেকে রাজনৈতিক নেতারা। এই নিয়ে আসানসোলের বিজেপি বিধায়ক অগ্নিমিত্রাও সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট করেন। তিনি লেখেন, ‘‘সাধারণ মানুষের করের টাকা কি এ ভাবেই নেতাদের পকেটে কাটমানি হয়ে ঢুকবে?’’ বিজেপির বাঁকুড়া সাংগঠনিক জেলার সহ-সভাপতি দেবাশিস দত্ত বলেন, ‘‘শৌচালয়টি নিশ্চয়ই সোনা দিয়ে তৈরি হচ্ছে না! তা হলে এত টাকা লাগছে কী ভাবে? আমার প্রশ্ন, বরাতপ্রাপ্ত সংস্থার সঙ্গে পুর প্রশাসনের আলাদা কোনও সম্পর্ক নেই তো? আসলে এই শৌচালয়ের জন্য বাড়তি অর্থ বরাদ্দ করার বিষয়টি পুরসভার আর পাঁচটা দুর্নীতির মতোই আরও একটা ভয়ঙ্কর দুর্নীতি।’’

যদিও বাঁকুড়ার পুরপ্রধান অলকা সেন মজুমদার অবশ্য এই সব অভিযোগ মানতে নারাজ। তাঁর যুক্তি, ‘‘শৌচালয় নির্মাণের কাজ আগে সম্পূর্ণ হোক। তার পর বিরোধীরা প্রশ্ন তুলবেন। আগে থেকে এ ভাবে প্রশ্ন তোলার কোনও অর্থ হয় না।’’ তিনি বলেন, ‘‘এই শৌচালয়টি আধুনিক মানের হবে। নির্মাণের জন্য অর্থ বরাদ্দ থেকে পরিকল্পনা সবই করেছে ‘স্টেট আর্বান ডেভেলপমেন্ট অথোরিটি’ বা সুডা। পুরসভার তরফে শুধুমাত্র ই-টেন্ডার করে বরাতপ্রাপ্ত সংস্থাকে কাজের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে বিতর্ক অমূলক।’’

Advertisement

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement