সিউড়ির আদালত চত্বরে রবিবার মাধব সিংহ। —নিজস্ব চিত্র।
দশমীর রাতে সিউড়ির সাজানোপল্লিতে এক বধূকে খুনের ঘটনায় শনিবারই এক মহিলা-সহ দু’জনকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। ধৃত মাধব সিংহ এবং মুনমুন সাহা মণ্ডলকে ১০ দিনের জন্য নিজেদের হেফাজতে চেয়ে পুলিশ তাঁদের রবিবার মুখ্য বিচারবিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেটের (সিজেএম) এজলাসে আদালতে তুলেছিল। ভারপ্রাপ্ত সিজেএম বিশ্বনাথ ভৌমিক ধৃতদের ৬ দিনের পুলিশ হেফাজত মঞ্জুর করেন।
দশমীর রাতে বাড়ি থেকে শিউলি পাল (৩৫) নামে এক মহিলার দেহ উদ্ধার হয়। সাজানোপল্লির বাড়িতে শিউলি একটি বিউটি পার্লার চালাতেন। রাত ৯টা নাগাদ তাঁর স্বামী, ইসিএল কর্মী লক্ষ্মীকান্ত পাল বাড়ি ফিরে দেখেন, বাড়ির বিছানায় গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় পড়ে রয়েছে স্ত্রী-র দেহ। শহরের বুকে এমন হত্যাকাণ্ডে চাঞ্চল্য ছড়ালেও ঠিক কী কারণে খুন হলেন শিউলি, তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছিল। এসেছিল পুলিশ কুকুরও। বধূর বাপেরবাড়ির লোকেদের দাবি ছিল, পরিচিত কেউই খুন করেছে ওই মহিলাকে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, তদন্তে নেমে মৃতার মোবাইলের কল রেকর্ড থেকে তেমনই সূত্র মেলে। শনিবার মাধব ও মুনমুন নামে যাঁদের ধরা হয়েছে, তাঁরা শিউলির পূর্ব পরিচিত। পুলিশের দাবি, জেরার মুখে ধৃতেরা তাঁদের অপরাধ কবুল করেছে। একটি ত্রিকোণ সম্পর্কের জন্যই শিউলিকে সরতে হয়েছে বলে পুলিশ তদন্তে জানতে পেরেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০০৩ সালে সিউড়ির বাসিন্দা জিতেন ঘোষের মেয়ে শিউলির সঙ্গে পশ্চিম বর্ধমানের পাণ্ডবেশ্বরের যুবক লক্ষ্মীকান্ত পালের বিয়ে হয়। শিউলির বাপের বাড়ি সিউড়ি কলেজপাড়ায়। বেশ কয়েক বছর ধরে অবশ্য শিউলি তাঁরই বাবার তৈরি করা সাজানোপল্লির বাড়িতেই থাকতেন সপরিবার। কলেজ পাড়ার বাড়িতে বেশ কয়েক মাস ধরে ভাড়ায় থাকেন হাটজনবাজারের বাসিন্দা মাধব ও পুরন্দরপুরের বাসিন্দা মুনমুন। দু’জনেই বিবাহিত হলেও সংসার ছেড়ে তাঁরা একসঙ্গে থাকতেন।
পুলিশের দাবি, জেরার মুখে মুনমুন ও মাধব জানিয়েছেন, মাধবের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল শিউলির। সেটাই সংঘাতের মূলে। মুনমুন সেই সম্পর্ক মানতে নারাজ ছিলেন। শেষে পরিকল্পনা করে শিউলিকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে ফেলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়। পুলিশের দাবি, ধৃতদের কল-রেকর্ড থেকে দেখা গিয়েছে, যে দিন তিনি খুন হন, সে দিন মুনমুন ও মাধব শিউলির বিউটি পার্লারে উপস্থিত ছিলেন। ঠিক কী ভাবে খুন করা হয় ওই মহিলাকে, তা বিশদে জানতেই ধতদের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
অভিযুক্তপক্ষের আইনজীবী মৃদুল দে অবশ্য দাবি করেছেন, তাঁর মক্কেলরা নির্দোষ। পুলিশ ফাঁসিয়ে দিয়েছে।