কীর্ণাহার তরুণ সমিতির সভাকক্ষে স্কুলের ছাত্র ছাত্রীরা বন্দেমাতরম গানের তালিম নিচ্ছে। নিজস্ব চিত্র ।
সম্প্রতি স্কুলগুলিতে জাতীয় সঙ্গীতের পাশাপাশি, ‘বন্দেমাতরম্’ গাওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এদিকে এই গানটি তালিম ছাড়া গাওয়া বেশ কঠিন হয়ে উঠছে ছাত্রছাত্রীদের কাছে।সেই সমস্যা দূর করতে কীর্ণাহার তরুণ সমিতি পড়ুয়াদের জন্য বিনা খরচে ‘বন্দেমাতরম্’ গানের তালিম দেওয়ার ব্যবস্থা করেছে।
নেতাজি সহযোগী দেবনাথ দাস ১৯৩৬ সালে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন কীর্ণাহার তরুণ সমিতি। দেশভাগের সময় শরণার্থীদের আশ্রয় দেওয়া, সম্প্রতি অতিমারির সময়ে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে সংগঠনটি। এবার সঙ্গীতশিল্পীদের মাধ্যমে সমিতির সভাকক্ষে ছাত্র-ছাত্রীদের ‘বন্দেমাতরম্’ গানটি প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।
আপাতত সপ্তাহে একদিন তালিমের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সেইমতো রবিবার বিকেলে জাতীয় গান শিখতে এসেছিল দশম শ্রেণির অতসী দাস, পঞ্চম শ্রেণির কথাকলি বন্দ্যোপাধ্যায়, সপ্তম শ্রেণির ইচ্ছে দলুই, ষষ্ঠ শ্রেণির ওম পাল-সহ জনা পঁচিশ ছাত্র-ছাত্রী। তাদের কথায়, এখানে এসে একসঙ্গে গান শিখতে খুব ভাল লাগছে। তাড়াতাড়ি আমরা ‘বন্দেমাতরম্’ গান পুরোটাই শিখে, স্কুলে গিয়ে গাইতে পারব।
গানের তালিম দিচ্ছেন সঙ্গীতশিল্পী কুমকুম খান। তিনি বলেন, “ছাত্র-ছাত্রীদের প্রশিক্ষণের এই সিদ্ধান্ত অত্যন্ত প্রশংসনীয় প্রয়াস। জাতীয় গানের প্রতি সম্মান রেখে ওদের অনুশীলন করাচ্ছি। এলাকার সকল ছাত্র-ছাত্রীকে এখানে আসতে অনুরোধ করছি।”
উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন কীর্ণাহার শিবচন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত শিক্ষিকা স্নিগ্ধা গোস্বামী। ইতিমধ্যে তিনি তাঁর স্কুলের ছাত্রদের নির্দিষ্ট স্থানে ও সময়ে হাজির থেকে গানের তালিম নেওয়ার নির্দেশও দিয়েছেন। তিনি বলেন, “গ্রীষ্মাবকাশের মধ্যে তরুণ সমিতির এই কর্মসূচি ছাত্র-ছাত্রীদের গানটি আত্মস্থ করার ক্ষেত্রে সহায়ক হবে।”
কীর্ণাহার তরুণ সমিতির সভাপতি চন্দন রায় ও সম্পাদক তপন দত্ত বলেন, “রাজ্য সরকারের এই সিদ্ধান্তকে আমরা স্বাগত জানাচ্ছি। ছাত্র-ছাত্রীদের যাতে অসুবিধা না হয়, তার জন্যই এই ব্যবস্থা। এ মাসের ২৬ তারিখে এই গানের স্রষ্টা সাহিত্য সম্রাট বঙ্কিমচন্দ্রের জন্মদিন। ওই দিনে আমরা ‘বন্দেমাতরম্’ গানের উপরে অনুষ্ঠান ও প্রতিযোগিতারও আয়োজন করছি।”
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে