নিষেধ: কন্টেনমেন্ট জ়োনে বন্ধ করা হয়েছে রাস্তা। সিউড়ির কড়িধ্যার বিবেকানন্দ পল্লিতে। নিজস্ব চিত্র
মাঝে সংক্রমণ বৃদ্ধির হারে কিছুটা লাগাম পরেছিল। যা স্বস্তি দিয়েছিল জেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য দফতরকে। কিন্তু, গত কয়েক দিনে বীরভূমে নতুন করে বেশ কয়েক জনের শরীরে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঘটেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা আক্রান্ত হয়েছেন রামপুরহাটের একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের মহিলা কর্মী এবং বোলপুর ও সাঁইথিয়ার আরও চার জন। অন্য দিকে রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে এক প্রৌঢ়ের অস্ত্রোপচারের পরে তাঁর শরীরে করোনা সংক্রমণ ধরা পড়েছে।
বৃহস্পতিবার সকালে ওই ব্যাঙ্ককর্মীর করোনা পজ়িটিভ রিপোর্ট রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে এসে পৌঁছয়। ওই মহিলা একটি রাষ্টায়ত্ত ব্যাঙ্কের মাড়গ্রাম শাখায় কর্মরত। সেই শাখার ম্যানেজার আশিস রঞ্জন বলেন, ‘‘যখন খবর পাই, তখন ব্যাঙ্কে আসছিলাম। সঠিক ভাবে জানার জন্য পরবর্তীতে ওই কর্মীকে ফোন করি। তাঁর কাছ থেকেও করোনা পজ়িটিভ হওয়ার সঠিক তথ্য জানার পরেই শাখা অফিস বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।’’ তিনি জানান, ব্যাঙ্কের বাইরে সেই মর্মে নোটিসও টাঙিয়ে দেওয়া হয়েছে। ব্যাঙ্ক জীবাণুমুক্ত করা হয়েছে। বাকি কর্মীদের করোনা টেস্ট করা হবে।
ওই কর্মী ৪ জুলাই থেকে ছুটিতে ছিলেন। সেই সময় তিনি কলকাতা গিয়েছিলেন। ৮ তারিখ ব্যাঙ্কে ঘণ্টাখানেকের জন্য এসেছিলেন। গায়ে হাল্কা জ্বর থাকায় ১২ জুলাই (রবিবার) রামপুরহাট মেডিক্যালের ফিভার ক্লিনিকে তাঁর করোনা টেস্ট করা হয়। সিউড়ি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল থেকে বৃহস্পতিবার সকালে রিপোর্ট পজ়িটিভ আসে। ওই ব্যাঙ্ককর্মীর স্বামীও বোলপুরের একটি বেসরকারি ব্যাঙ্কে কাজ করেন।
সূত্রের খবর, ওই দম্পতি রামপুরহাটের সানঘাটাপাড়া মোড় সংলগ্ন একটি লজে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ঘর ভাড়া নিয়েছিলেন। এ দিন সকালে লজ থেকে স্বাস্থ্য দফতরের কর্মীরা করোনা আক্রান্ত ব্যাঙ্ককর্মীকে রামপুরহাটের কোভিড হাসপাতালে ভর্তি করান। তাঁর স্বামীকে সরকারি নিভৃতবাসে থাকার নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি তাঁর লালারসের নমুনাও সংগ্রহ করা হয়েছে। ওই লজ ও সেটির রেস্তোরাঁ বন্ধ করা হয়েছে। লজটিকেও স্যানিটাইজ় করা হয়েছে। লজের ৭ জন কর্মী এবং দু’জন আবাসিক-সহ মোট ৯ জনকে আপাতত লজের বাইরে যেতে মানা করা হয়েছে।
মাড়গ্রামের ওই মহিলা ব্যাঙ্ককর্মীর করোনা আক্রান্ত হওয়ার খবর জেনে আতঙ্কিত ওই ব্যাঙ্কের রামপুরহাট শাখার কর্মীরাও। তাঁরা জানান, মাড়গ্রামের কর্মীদের সঙ্গে রামপুরহাট শহর শাখা এবং নারায়ণপুর শাখার যোগাযোগ ছিল। সংক্রমণের আশঙ্কায় রামপুরহাট শাখা এ দিন ঘণ্টাখানেক বন্ধ রেখে জীবাণুমুক্ত করা হয়। ওই শাখার কর্মীরাও তাঁদের পরীক্ষা করার জন্য আবেদন জানিয়েছেন।
এ দিন রামপুরহাট মেডিক্যালে সার্জারি বিভাগে এক প্রৌঢ়ের হার্নিয়া অস্ত্রোপচার করার পরে বিকেলে করোনা ধরা পড়ে। তাঁকে রামপুরহাট কোভিড হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। হাসপাতালের সার্জারি বিভাগ ও অপারেশন থিয়েটার জীবাণুমুক্ত করা হয়। ওই অস্ত্রোপচারের সঙ্গে যুক্ত তিন জন সার্জেন, তিন অ্যানেস্থেটিস্ট, নার্স এবং অপারেশন থিয়েটারের বাকি কর্মীদের করোনা পরীক্ষা করা হবে।
উচ্চমাধ্যমিকের ফলাফল সম্পর্কিত যাবতীয় আপডেট পেতে রেজিস্টার করুন এখানে