সেই খিচুড়ি।—নিজস্ব চিত্র।
অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র থেকে দেওয়া খিচুড়ির মধ্যে মিলল সিদ্ধ ব্যাঙ। শুক্রবার এমনই অভিযোগ উঠল রাজনগরের আলিগড় অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের বিরুদ্ধে। এলাকার ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা সিডিপিও এবং বিডিও-র কাছে এ ব্যাপারে অভিযোগ জানিয়েছেন। রাজনগরের বিডিও দীনেশ মিশ্র বলেন, ‘‘খিচুড়িতে ব্যাঙ পড়ে যাওয়ার অভিযোগ পেয়েছি। সংশিষ্ট আধিকারিককে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছি। ওই খাবার খেয়ে কোনও বিষক্রিয়া হয় কি না সেই আতঙ্কে পাঁচ শিশু ও এক প্রসূতিকে ঘণ্টা খানেক রাজনগর ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছিল। তাঁরা সকলেই সুস্থ আছেন বলে খবর পেয়েছি।’’
প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, আদিবাসী গ্রাম আলিগড়ে ওই কেন্দ্র থেকে সকালে খিচুড়ি নিয়ে যান মা ও শিশুরা। অভিযোগ বাড়িতে নিয়ে আসার পর সূর্যকান্ত হেমব্রম নামে বছর আড়াইয়ের এক শিশু যখন খিচুড়ি থালায় ঢেলে খেতে যাচ্ছে তখনই তার থালায় ব্যাঙ দেখতে পান শিশুর বাবা বৈদ্যনাথ হেমব্রম। ঘটনা জানাজানি হলে বাকিরা সেই খাবার না খেলেও ততক্ষণে এলাকার পাঁচ শিশু ও এক মহিলা ওই খাবার খেয়ে ফেলেছিলেন। ক্ষুব্ধ কয়েকজন বাসিন্দা তখন ওই থালা নিয়েই অভিযোগ জানাতে রাজনগর ব্লক অফিসে যান। ক্ষুব্ধ জয়েশ হাঁসদা, বৈদ্যনাথ হাঁসদারা বলেন, ‘‘শিশুদের খাবার রান্নার ক্ষেত্রে এমন গাফিলতি কেন থাকবে? বিপদ ঘটতেই পারত। যদিও চেষ্টা করেও ওই কেন্দ্রের কর্মী রিন্ময়ী ভাণ্ডারী ও সহায়িকা বিনাপানী ভাণ্ডারীর সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি। রাজনগরের সুসংহত শিশু বিকাশ প্রকল্প আধিকারিক মহম্মদ সফিউল্লা বলেন, ‘‘অভিযোগ পাওয়ার পরই ওই কর্মীকে কারণ দর্শানোর নোটিস দেওয়া হয়েছে। আমরাও তদন্ত করে দেখছি।’’