জেলাশাসকের দফতরে বিজেপির বিক্ষোভ। নিজস্ব চিত্র।
ভোট হওয়ার আগেই জেলার দুই পুরসভা চলে গিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের ঝুলিতে। বাকি তিন পুরসভাতেও অনেক বিরোধী প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। এই অবস্থায় পুর-নির্বাচনের নামে ‘প্রহসন’হচ্ছে অভিযোগ তুলে শনিবার সিউড়িতে জেলাশাসকের কার্যালয়ে বিক্ষোভ দেখাল বিজেপি। অবস্থানও করেন বিজেপি নেতারা। পরে প্রশাসনের কর্তাদের আশ্বাসে বিক্ষোভ থামে।
‘সন্ত্রাসের’ কারণে সাঁইথিয়া ও বোলপুরে তারা প্রার্থী দিতে পারেনি বলে দাবি বিজেপির। শুক্রবার সিউড়ি, দুবরাজপুর ও রামপুরহাটের বিভিন্ন ওয়ার্ডে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকা একের পর এক বিজেপি প্রার্থীদের মনোনয়ন প্রত্যাহারের পরে বিজেপির দাবি ছিল, ভয় দেখিয়ে, মিথ্যা মামলা ফাঁসানোর হুমকি দিয়ে মনোনয়ন তুলতে বাধ্য করেছে শাসকদল। ‘সহযোগিতা’ করেছে পুলিশ ও প্রশাসন। শনিবারও আরও কয়েকটি আসনে মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছেন বিজেপি প্রার্থীরা।
সিউড়ির ২১টি ওয়ার্ডের মধ্যে ১৫টি আগেই বিরোধী শূন্য হয়ে গিয়েছিল। লড়াই হওয়ার ছিল ২, ৩, ৪,১১, ১২ ও ১৯ নম্বর ওয়ার্ডে। শুক্রবারই ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বিরোধী প্রার্থীও মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নেন। সাঁইথিয়ার তিনটি ওয়ার্ডে বিরোধী প্রার্থী ছিল বামেদের। সেখান থেকে এক জন মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। বোলপুরের ২২টি ওয়ার্ডের ৮টি বিরোধী-শূন্য হয়ে গিয়েছিল। শনিবার আরও দু’টি আসন, ৩ ও ৪ নম্বর ওয়ার্ড বিরোধী-শূন্য হয়ে গিয়েছে। রামপুরহাটেও ৯টি ওয়ার্ড থেকে বিজেপি প্রার্থীরা মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছেন।
এমনই প্রেক্ষিতে এ দিন জেলাশাসক তথা জেলা নির্বাচনী আধিকারিকের সঙ্গে দেখা করতে প্রশাসন ভবনে এসেছিল বিজেপি-র প্রতিনিধিদল। সেই দলে ছিলেন বীরভূম সাংগঠিনক জেলার সভাপতি ধ্রুব সাহা, দুবরাজপুরের বিধায়ক অনুপ সাহা-সহ কয়েক জন। কিন্তু ওই সময়ে জেলাশাসক ছিলেন বোলপুরে একটি সরকারি অনুষ্ঠানে। তাঁকে না-পেয়ে প্রশাসনিক ভবনেই অবস্থান-বিক্ষোভে বসেন বিজেপি নেতারা। স্লোগান তুলে দাবি করতে থাকেন, কাদের স্বার্থে বিজেপি প্রার্থীদের মনোনয়ন প্রত্যাহার করানো হচ্ছে জেলাশাসককে তার জবাব দিতে হবে। পরে অবশ্য অতিরিক্ত জেলাশাসক (সাধারণ) নীত শুক্লের সঙ্গে দেখা করে তাঁর আশ্বাস পেয়ে বিক্ষোভ থামায় বিজেপি।
পরে সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে ধ্রুব সাহা বলেন, ‘‘পুরভোটের আগে তৃণমূলের জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল বলেছিলেন, কুঁড়ি ফুটবে, ফুল ফুটবে না। অর্থাৎ মনোনয়ন জমা পড়লেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবে না বিরোধীরা। সেই ঘোষণা অনুয়ায়ীই কাজ হয়েছে। তাতে পুলিশ-প্রশাসন সর্বতো ভাবে সাহায্য করেছে। যেমনটা হয়েছিল বিধানসভা নির্বাচনের পরেও।’’ সিপিএমের জেলা সম্পাদক গৌতম ঘোষ বলেন, ‘‘পুর-নির্বাচন আদৌ করাতে চায়নি শাসকদল। আদালতের রায়ে বাধ্য হয়ে সেটা করাতে হচ্ছে। এখন ভোটের নামে যা হচ্ছে, তা চোখে ধুলো ছাড়া কিছুই নয়।’’ এই পরিস্থিতিতে ভোট প্রক্রিয়া কি আদৌ শান্তিপূর্ণ ভাবে হবে, সেটাও তাঁরা এ দিন প্রশাসনের কাছে জানতে এসেছিলেন বলে জানিয়েছেন বিজেপি-র বীরভূম সাংগঠনিক জেলা সভাপতি।
জেলাশাসক বিধান রায় অবশ্য জানিয়েছেন, অভিযোগ পেলেই সেটার নিষ্পত্তি করা হয়েছে। তৃণমূলের জেলা সহ-সভাপতি মলয় মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘‘আসলে বিরোধীদের না আছে সংগঠন, না আছে লোকজন। তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তে যাঁরা বিরোধী দলের প্রার্থী হয়েছিলেন, তাঁরা পরে ভুল বুঝে সরে গিয়েছেন। সেই দায় আমাদের উপরে চাপানোর চেষ্টা চলছে। কাউকে মনোনয়ন প্রত্যাহার করতে বাধ্য করা হয়নি।’’