—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।
বাড়িতে ঢুকে এক তৃণমূল নেতাকে খুনের অভিযোগে উত্তপ্ত বীরভূমের বোলপুরের গ্রাম। পরিবারের দাবি, খুনের নেপথ্যে রয়েছে বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীরা।
বোলপুর থানার বাহিরী পাঁচশোয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের বাহিরী পূর্বপাড়া গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন হাবল লোহার। বয়স ৪৮ বছর। স্থানীয় সূত্রে খবর, তৃণমূল নেতা হিসাবে এলাকায় পরিচিত ছিলেন হাবল। পরিবারের দাবি, মঙ্গলবার গভীর রাতে একদল লোক তাদের বাড়িতে চড়াও হয়ে বেধড়ক মারধর করে হাবলকে। মারের চোটে মারা যান ওই যুবক। মৃতের পরিবারে এক সদস্যের অভিযোগ, ‘‘মঙ্গলবার রাতে গ্রামেরই কয়েক জন যুবক, যাঁরা নিজেদের বিজেপি নেতা-কর্মী হিসেবে পরিচয় দিতেন, তাঁরা হাতে লাঠি, রড, ধারালো অস্ত্র নিয়ে আমাদের বাড়িতে হামলা চালিয়েছিলেন।’’
পরিবারের দাবি, হামলাকারীরা শুধু তাদের বাড়িতেই নয়, আশপাশের কয়েকটি বাড়িতেও চড়াও হয়েছিল। তাণ্ডবে গভীর রাতে গোটা এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা প্রাণভয়ে বাড়ির দরজা-জানালা বন্ধ করে দেন। ঘটনার সময় হাবল লোহারের সঙ্গে আরও একজন তৃণমূল কর্মী উপস্থিত ছিলেন বলে স্থানীয় সূত্রে খবর। অভিযোগ, হাবলকে মারধর করতে দেখে তিনি প্রাণভয়ে সেখান থেকে পালিয়ে যান। পরে সারারাত একটি গাছের উপরে আশ্রয় নিয়ে আত্মগোপন করে ছিলেন। সকালে গাছ থেকে নেমে তিনি গ্রামে গিয়ে পুরো ঘটনার কথা জানান।
হাবল দীর্ঘ দিন ধরে তৃণমূলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। মঙ্গলবার বোলপুর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দেহ উদ্ধার করেছে। দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ইতিমধ্যেই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। কারা এই হামলার সঙ্গে জড়িত, কী কারণে এই ঘটনা ঘটল এবং এর পিছনে কোনও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ওই মৃত্যুকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে বোলপুরে। তৃণমূলের দাবি, বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীরাই এই খুন করেছে। অন্য দিকে, বিজেপি নেতৃত্ব তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। বিজেপির দাবি, তৃণমূল গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের ফল এটা।
ওই ঘটনার জেরে বাহিরী পূর্বপাড়া গ্রাম ও সংলগ্ন এলাকা এখনও থমথমে। পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে পুলিশ। জেলার এক পুলিশকর্তা জানান, তদন্ত চলছে। এখনই এ নিয়ে বিস্তারিত কিছু বলা সম্ভব নয়।