প্রতীকী ছবি।
মেদিনীপুরে বিজেপির সভায় তখন শুভেন্দু অধিকারী-সহ তৃণমূলের একাধিক সাংসদ-বিধায়কের বিজেপিতে যোগদানের কথা ঘোষণা করা হয়ে গিয়েছে। হঠাৎই ঘোষককে বলতে শোনা গেল, ‘দলে যোগদানকারীদের মধ্যে একটি নাম শুরুতে বলতে ভুলে গিয়েছিলাম। তিনি বাঁকুড়ার তৃণমূল নেতা জয়ন্ত মিত্র’।
ঘোষণার পরেই জেলার রাজনৈতিক মহলে শুরু হয় জল্পনা। যদিও দিনের শেষে বাঁকুড়ার খাতড়া পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি তথা জেলা তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক জয়ন্তবাবুর দাবি, ‘‘এ সব মিথ্যা রটনা।’’ তাঁর ক্ষোভ, “এই ঘটনায় খুবই অস্বস্তিতে পড়েছি। ওই সভাতেই যাইনি আমি। আর ওরা ঘোষণা করল, আমি বিজেপিতে যোগ দিয়েছি। আমি তৃণমূলেই আছি।” জেলা তৃণমূল সভাপতি শ্যামল সাঁতরাও বলেন, “জয়ন্তবাবু বিজেপিতে গিয়েছেন বলে আমার জানা নেই।” এর আগে দলের জেলা সভাপতি ও রানিবাঁধের বিধায়ক জ্যোৎস্না মান্ডির বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে মুখ খুলে বিতর্কে জড়ান জয়ন্তবাবু। কালীপুজোর উদ্বোধনে সদ্য বিজেপিতে যোগ দেওয়া শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গেও দেখা গিয়েছিল তাঁকে। ফলে, জয়ন্তবাবু দলত্যাগ করতে পারেন, এমন গুঞ্জন রাজনৈতিক মহলে দানা বেঁধেছিল।
এ দিকে, এ দিনই দলে জয়ন্তবাবুর বিরোধীদের একাংশ দাবি করেন, তিনি মেদিনীপুরে বিজেপির সভায় গিয়েছেন বিজেপিতে যোগদান করতে। তাঁদের আরও দাবি, খাতড়া থেকে কিছু লোকজনকে সভায় নিয়ে যেতে বাসও ভাড়া করেছেন জয়ন্তবাবু। সকাল থেকে জয়ন্তবাবুর সঙ্গে বারবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও না পাওয়ায় বিষয়টি নিয়ে ধোঁয়াশা বাড়ে। এরই মাঝে মেদিনীপুরে বিজেপির সভা শেষে তাঁর নাম ঘোষণা করা হয়।
যদিও বিকেলে ফোনে জয়ন্তবাবু দাবি করেন, “হতে পারে, কেউ চক্রান্ত করে আমার নাম বিজেপিতে যোগদানকারীদের তালিকায় দিয়ে দিয়েছিল। আমি বিজেপির সভায় যায়নি বা সভার জন্য কোনও বাসও ভাড়া করিনি।”
বিষয়টি নিয়ে বিজেপির বাঁকুড়া সাংগঠনিক জেলা সভাপতি বিবেকানন্দ পাত্র বলেন, “জেলা থেকে কে বিজেপিতে যোগদান করছেন, আমার কাছে কিছু খবর নেই। খাতড়ার কোনও তৃণমূল নেতার বিষয়েও আমার জানা নেই। সভা মঞ্চ থেকে খাতড়ার কারও নাম ঘোষণা করা হয়েছে বলেও শুনিনি।”