West Bengal Assembly Election 2026

মিছিলের চ্যালেঞ্জ মন্ত্রীর বিক্ষুব্ধদের

সন্ধ্যার বিরুদ্ধে তাঁরা তৃণমূলের রাজ্য নেতৃত্বের কাছে দরবারও করে এসেছেন। এলাকায় সভাও করছেন।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৯:৩৭
Share:

—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

মানবাজারের তৃণমূল বিধায়ক তথা রাজ্যের মন্ত্রী সন্ধ্যারানি টুডুকে যাতে প্রার্থী না করা হয়, সে জন্য ক্রমশ সুর চড়াচ্ছেন তাঁর দলের বিক্ষুব্ধ নেতা-কর্মীরা। রাজ্য নেতৃত্বের বৈঠকেও রফা সূত্র মেলেনি। এ বার বিক্ষুব্ধ গোষ্ঠীর এক নেতা মানবাজারে দশ হাজার মানুষের মিছিল করতে চান বলে সমাজমাধ্যমে দাবি করেছেন। তা সন্ধ্যা-গোষ্ঠীর দিকে তাঁর চ্যালেঞ্জ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ। তবে সন্ধ্যা-ঘনিষ্ঠেরা এ ক্ষেত্রে নীরবতা বজায় রেখে চলেছেন। মন্ত্রী সন্ধ্যারানি টুডু ও তাঁর স্বামী গুরুপদ টুডুর বিরোধীরা গত কয়েক মাস ধরেই এ বার যাতে অন্য কাউকে দল প্রার্থী করে, সে দাবিতে সক্রিয়তা বাড়িয়েছেন। সন্ধ্যার বিরুদ্ধে তাঁরা তৃণমূলের রাজ্য নেতৃত্বের কাছে দরবারও করে এসেছেন। এলাকায় সভাও করছেন।

এর মধ্যে সন্ধ্যা-বিরোধী গোষ্ঠীর অন্যতম নেতা তথা মানবাজার ১ পঞ্চায়েত সমিতির সহকারী সভাপতি দিলীপ পাত্র শুক্রবার সমাজমাধ্যমে একটি মন্তব্য করায় নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। তিনি লিখেছেন, ‘‘জেলা তৃণমূলের সকল সদস্য, জেলা সভাপতি, রাজ্য সভাপতি এবং প্রশাসন যদি অনুমতি দেয়, তাহলে আমরা এলাকায় দশ হাজার মানুষের মিছিল করে দেখাতে চাই’। মিছিল করার অনুমতি চাওয়ার মধ্যে আপাত দৃষ্টিতে সমস্যার কিছু নেই। তবে রাজনীতির কারবারিদের প্রশ্ন, দশ হাজার মানুষের মিছিল করতে চাওয়ার মধ্যে দিয়ে জনসমর্থন যে তাঁদের পাশেই রয়েছে, সেটাই কি দলের শীর্ষ নেতৃত্বকে বোঝাতে চেয়েছেন বিক্ষুব্ধ গোষ্ঠীর নেতারা? একই সঙ্গে মন্ত্রীর ঘনিষ্ঠদের দিকেও চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলেন ওই বার্তায়? দিলীপ বলেন, ‘‘নির্বাচনের আগে দলীয় কর্মীদের উজ্জীবিত করতে মিছিল, সভা করা যেতেই পারে। এতে অসুবিধা কোথায়? এতে বরং দল শক্তিশালীই হবে। কেউ অন্য ভাবে ব্যাখ্যা করলে তার দায় আমাদের নয়।’’ মন্ত্রী সন্ধ্যারানি এই পর্বে কোনও প্রতিক্রিয়া দিচ্ছেন না। তবে তাঁর ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত, তৃণমূলের মানবাজার ১ ব্লক সভাপতি অপূর্ব সিংহ বলেন, ‘‘ওই পোস্ট আমি দেখিনি। না দেখে মন্তব্য করব না।’’ বৃহস্পতিবার বাঘমুণ্ডির তৃণমূল বিধায়ক সুশান্ত মাহাতোকেও যাতে প্রার্থী না করা হয়, সে দাবিতে সরব হয়েছেন স্থানীয় নেতৃত্বের একাংশ। সেখানে তাঁরা বিকল্প প্রার্থীর নামও ভাসিয়েছেন। তবে মানবাজারে সন্ধ্যারানির বদলে প্রার্থী হিসেবে কারও নাম সামনে আসেনি। তবে দলের অভ্যন্তরের খবর, চর্চায় যাঁদের নাম রয়েছে, তাঁদের একজন একটি পঞ্চায়েতের তিন বারের প্রধান এক আদিবাসী মহিলা। এক আদিবাসী চিকিৎসক, পঞ্চায়েত সমিতির এক মহিলা জনপ্রতিনিধির নামও আলোচনায় রয়েছে। তবে দলের অন্য সূত্রের দাবি, তেমন বড় কোনও অঘটন না ঘটলে দলের রাজ্য নেতৃত্ব এ বারও সন্ধ্যারানির উপরেইআস্থা রাখতে পারেন।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন