যোগিতা রানা এবং জ্যোতি বিশ্বাস। —নিজস্ব ছবি।
বেপরোয়া গতির বলি হলেন তিন যুবক-যুবতী। গুরুতর জখম গাড়িচালক। গাড়ির চাকায় পিষে গিয়েছে একটি পথকুকুরও। ঘটনাস্থল হুগলির পোলবার সোনাদায়।
পুলিশ সূত্রে খবর, দুর্ঘটনাটি হয়েছে হুগলির তারকেশ্বর রোডে। সাড়ে ৩টে নাগাদ একটি চারচাকার গাড়ি দাসপুর থেকে চুঁচুড়ার দিকে যাচ্ছিল। রাস্তায় একটি পথকুকুরকে ধাক্কা দিয়ে প্রায় উড়িয়ে দিয়ে রাস্তার ধারে একটি গাছে সজোরে ধাক্কা মারে গাড়িটি। ঘটনাস্থলেই তিন জনের মৃত্যু হয়েছে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দুর্ঘটনাগ্রস্ত গাড়িটিতে দু’জন নর্তকী ছিলেন। তাঁদের নাম যোগিতা রানা এবং জ্যোতি বিশ্বাস। দু’জনের বয়স ২১ বছর। যোগিতা আদতে হরিয়ানার বাসিন্দা। জ্যোতির বাড়ি নদিয়ার রানাঘাটে। গাড়িটি চালাচ্ছিলেন সৈয়দ সাগির হোসেন নামে এক ব্যক্তি। তাঁর বাড়ি দাদপুরে। দাদপুরের লোকনাথ পানশালায় কাজ করতেন দুই যুবতী। তাঁদের সঙ্গে রবিবার ওই গাড়িতে ছিলেন শেখ হাসিব আহমেদ নামে বছর ত্রিশের আর এক যুবক। তাঁর বাড়ি দাদপুরে।
রবিবার রাতে গুড়াপে একটি ধাবায় খাওয়া-দাওয়া সেরে চুঁচুড়ায় ফিরছিলেন চার জন। গাড়িটি যখন পোলবার আলিনগরের কাছে, তখন একটি কুকুর রাস্তা পার হচ্ছিল। প্রথমে তাকে ধাক্কা মারে গাড়িটি। নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তার পর একটি গাছে ধাক্কা মারে গাড়িটি। তার পর আরও একটি গাছে ধাক্কা মেরে উল্টে যায় গাড়িটি।
পোলবা থানার পুলিশের টহলদারি গাড়ি ঘটনাস্থলে গিয়ে চার জনকে উদ্ধার করে চুঁচুড়া ইমামবাড়া জেলা হাসপাতালে নিয়ে যায়।
সোমবার হুগলি গ্রামীণ পুলিশের ডিএসপি (ডিঅ্যান্ডটি) প্রিয়ব্রত বক্সী বলেন, ‘‘ঘটনার খবর পেয়েই পুলিশের গাড়ি সেখানে পৌঁছে গিয়েছিল। সকলকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। কিন্তু তিন জনের মৃত্যু হয়েছে। চালকের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাঁর চিকিৎসা চলছে। মৃতদের মধ্যে দুই যুবতী রয়েছেন। তাঁরা একটি পানশালায় কাজ সেরে ফিরছিলেন।’’