সেই গাড়ি। নিজস্ব চিত্র
হ্যান্ড স্যানিটাইজ়ার পরিবহণের ভুয়ো স্টিকার লাগিয়ে মিনি ট্রাকে করে কলকাতা থেকে ভিন্ রাজ্যে ফিরতে গিয়ে পুলিশের হাতে ধরা পড়লেন একদল শ্রমিক। রবিবার ঘটনাটি ঘটেছে সিউড়ি থানা এলাকার তারাপুর গ্রামের কাছে। পরে পুলিশ বিহার ও ঝাড়খণ্ডের বাসিন্দা ওই শ্রমিকদের ইলামবাজার এলাকায় বীরভূম সীমানায় ছেড়ে আসে।
ওই শ্রমিকেরা জানান, তাঁরা মাসখানেক আগে কলকাতা গিয়েছিলেন কাজের জন্য। তাঁরা কলকাতায় দিনমজুর হিসেবে কাজ করতেন। কিন্তু লকডাউনের কারণে তাঁরা সকলেই কলকাতায় আটকে পড়েন। তাঁদের জমানো টাকাও শেষ হয়ে যায়। তাঁরা নিয়মিত খেতেও পাচ্ছিলেন না বলে অভিযোগ। এই পরিস্থিতিতে তাঁরা বাড়ি ফেরার সিদ্ধান্ত নেন। সেই মত মাথাপিছু ১৪০০ টাকার বিনিময়ে ওই মিনিট্রাক ভাড়া করেন এবং বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হন তাঁরা। ট্রাকের পিছনে ত্রিপল ঢাকা দিয়ে লুকিয়ে ছিলেন তাঁরা।
শ্রমিক ও চালকদের থেকে জানা গিয়েছে, কলকাতা থেকে সিউড়ি আসার রাস্তায় তিন জায়গায় তাঁদের চেকিংয়ের মুখে পড়তে হলেও জরুরি পণ্য হ্যান্ড স্যানিটাইজ়ারের স্টিকার লাগানো থাকায় খুব সহজেই তাঁরা সেই চেকিং পেরিয়ে যান। সিউড়ি থানা এলাকার তারাপুরের কাছে গাড়িটি দেখে সন্দেহ হয় পুলিশ কর্মীদের। তখন তাঁরা গাড়িটিকে আটক করেন এবং দেখেন গাড়ির মধ্যে প্রায় ২৫ জন শ্রমিক রয়েছেন।
জেলা পুলিশের এক কর্তা বলেন, ‘‘লকডাউনের কারণে আন্তঃরাজ্য সীমানা সিল করা হয়েছে। তাই ওঁরা যেখান থেকে এসেছিলেন সেখানেই ফেরত পাঠানো হয়েছে।’’ কিন্তু লকডাউন থাকা সত্ত্বেও কীভাবে ভুয়ো স্টিকার লাগিয়ে তাঁরা কলকাতা থেকে এতদূর আসতে সক্ষম হলেন তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
ওই শ্রমিকদের পক্ষ থেকে লাল চাঁদ দাস, হৃদয় দাস, শম্ভু হরিজন বলেন, ‘‘হাতে আর কোনও টাকা নেই। তাই সবাই মিলে বাড়ি ফেরার পরিকল্পনা করেছিলাম।’’ গাড়ির চালক বলেন, ‘‘আমাকে মালিক বলেছিলেন এদের ঝাড়খণ্ডের দুমকায় নামাতে হবে। আমি সেই মতো ওঁদেরকে নিয়ে চলে আসি।" তবে গাড়ির সামনে হ্যান্ড স্যানিটাইজ়ার সরবরাহের স্টিকার লাগানো নিয়ে চালক বলেন, ‘‘আমি কিছু জানি না। মালিক যেভাবে গাড়ি দিয়েছেন সেইভাবেই নিয়ে এসেছি।’’