প্রতীকী ছবি
প্রতিদিন করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে বীরভূমে। সেই সঙ্গে বাড়ছে উদ্বেগও। তার সঙ্গে আরও একটি বিষয় অস্বস্তি বাড়িয়েছে। সেটা হল, দুই স্বাস্থ্য জেলার করোনা আক্রান্তের সংখ্যার সঙ্গে রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরের বুলেটিনের মধ্যে সাযুজ্য বা মিল না থাকা।
প্রথম থেকেই জেলার দেওয়া করোনা আক্রান্তের সংখ্যার থেকে রাজ্য স্বাস্থ্য দফতের দেওয়া বুলেটিনে সংখ্যাটা বেশি। ২৬ জুলাই পর্যন্ত বীরভূম ও রামপুরহাট—এই দুই স্বাস্থ্য জেলার তথ্য বলছে, জেলায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৪১৩ জন। সেখানে স্বাস্থ্য দফতরের তরফে প্রকাশিত বুলেটিন অনুয়ায়ী আক্রান্তের সংখ্যা ৪৫৬। অর্থাৎ ৪৩ জন বেশি। সেটাই অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে জেলা প্রশাসনের কাছে। লক্ষ্য করার মতো বিষয়, জেলা স্বাস্থ্য দফতরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী রবিবার বীরভূম স্বাস্থ্য জেলায় নতুন আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৪, অন্য দিকে রামপুরহাট স্বাস্থ্য জেলায় ১৪ জন আক্রান্ত হয়েছিলেন। দুইয়ে মিলে ১৮। কিন্তু, রবিবারই রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরের দেওয়া তথ্য বলছে, বীরভূমে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েছে ১৯টি। এ ভাবে এক দুই করতে করতে সংখ্যাটা প্রতিদিন বেড়েই চলেছে।
জেলাশাসক মৌমিতা গোদারা বসু বলছেন, ‘‘কেন এমন তফাত বলতে পারব না। সিএমওএইচরা কী তথ্য পাঠাচ্ছেন, সেটা ওঁরাই বলতে পারবেন।’’ দু’টি স্বাস্থ্য জেলারই কর্তাদের দাবি, জেলা থেকে তথ্য দেওয়ায় সমস্যা নেই। বেশ কিছু কারণের জন্যই এই বিচ্যুতি রাজ্যের। বীরভূম স্বাস্থ্য জেলার সিএমওএইচ হিমাদ্রি আড়ি বলেন, ‘‘জেলার তথ্যের সঙ্গে রাজ্যের তথ্যের ফারাক শুধরে নিতে রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরকে অনুরোধ করা হয়েছে। কিন্তু এখনও ঠিক করা হয়নি।’’
স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, জেলায় প্রথম তিন করোনা আক্রান্তের খোঁজ মিলেছে ৩০ এপ্রিল। তার পর থেকে সংখ্যাটা ক্রমশ বাড়ছিল। পরিযায়ী শ্রমিকেরা ঢুকতেই হু হু করে বাড়তে থাকে আক্রান্তের সংখ্যা। প্রথম দিকে যখন লালারসের নমুনা পরীক্ষার জন্য কলকাতার নাইসেডের উপর নির্ভর করতে হত, তখনও পর্যন্ত গরমিল দেখা যায়নি। কিন্তু, মুর্শিদাবাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, দুর্গাপুরের সনকা এবং পরে সিউড়ি জেলা হাসপাতাল কোভিড টেস্টে স্বর্নিভর হওয়ার পর থেকে রাজ্য ও জেলার তথ্যগত তফাত শুরু হয়েছে। বর্তমানে সেই ফারাক অনেকটাই বেড়েছে।
প্রশ্ন হল, এক জন সম্ভাব্য করোনা আক্রান্ত লালারসের নমুনা দিলেই তিনি একটি (আইডি) নম্বর পান। তা হলে জেলা ও রাজ্যের পজ়িটিভ রিপোর্টে কেন তফাত থাকছে?
জানা গিয়েছে, বীরভূম স্বাস্থ্য জেলায় রবিবার পর্যন্ত মোট আক্রান্তের সংখ্যা ১৬২ জন। রামপুরহাট স্বাস্থ্য জেলায় আক্রান্তের সংখ্যা ২৫১ জন। এঁদের মধ্যে ভিন্ জেলা বা ভিন্ রাজ্য মোট আট জন রয়েছেন। তথ্যগত ফারাকের পিছনে এই ভিন্ জেলা বা ভিন্ রাজ্য যোগ থাকতে পারে বলে জেলা স্বাস্থ্যকর্তাদের অনুমান। তাঁদের ব্যাখ্যা, কলকাতা বা ভিন্ রাজ্যে থাকাকালীন বীরভূমের কেউ যদি করোনা আক্রান্ত হন এবং তিনি যদি তাঁর বাড়ির ঠিকানা বীরভূম দিয়ে থাকেন, তা হলে বীরভূমে লালারসের নমুনা পরীক্ষা না করালেও রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরের পোর্টালে সেই আক্রান্তকে বীরভূমের আক্রান্ত হিসেবে নথিভুক্ত হচ্ছেন। তবে, এই সমস্যাটাও দূর হওয়া উচিত বলে মানছে জেলা স্বাস্থ্য দফতর।