ইনসাফ চান স্ত্রী

‘ইনসাফ’ চাইছে গোটা দর্জিপাড়া।কী পরিস্থিতিতে মরতে হল এলাকার যুবক রাজু থান্দারকে, তা জানতে চান বোলপুরের এই তল্লাটের বাসিন্দারা। রবিবার সকালে বোলপুর মহকুমা হাসপাতাল চত্বরে বছর আঠাশের রাজুর নিথর দেহ পড়ে থাকার খবর পাওয়া ইস্তক দিনভর এ নিয়ে চর্চা চলেছে থানা থেকে ঢিল ছোড়া দূরত্বের দর্জিপাড়ায়।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৫ অগস্ট ২০১৬ ০১:০৪
Share:

থানার সামনে পড়ে রাজু থান্দারের নিথর দেহ।

‘ইনসাফ’ চাইছে গোটা দর্জিপাড়া।

Advertisement

কী পরিস্থিতিতে মরতে হল এলাকার যুবক রাজু থান্দারকে, তা জানতে চান বোলপুরের এই তল্লাটের বাসিন্দারা। রবিবার সকালে বোলপুর মহকুমা হাসপাতাল চত্বরে বছর আঠাশের রাজুর নিথর দেহ পড়ে থাকার খবর পাওয়া ইস্তক দিনভর এ নিয়ে চর্চা চলেছে থানা থেকে ঢিল ছোড়া দূরত্বের দর্জিপাড়ায়। রাজুর স্ত্রীর অভিযোগ, চুরির ঘটনায় যুক্ত সন্দেহে গত বৃহস্পতিবার তাঁর স্বামীকে তুলে নিয়ে গিয়েছিল বোলপুর থানার পুলিশ। তার পর থেকে তাঁকে গ্রেফতার দেখানো বা আদালতে তোলার প্রয়োজন মনে করেনি পুলিশ। উল্টে লক-আপে মারধর করা হয়েছে। ওই মারধরের জেরেই রাজু মারা গিয়েছেন বলে তাঁর পরিবারের দাবি।

এলাকাবাসী জানাচ্ছেন, এর আগে দু-এক বার চুরির ঘটনাতেই রাজুকে আটক করা হয়েছিল। কিন্তু, গ্রেফতার করা হয়নি। নেশা করার অভ্যাস থাকলেও কারও সঙ্গে কোনও বিবাদ ছিল না রিকশাচালক রাজুর। ফলে পুলিশ হেফাজতে থাকাকালীন রাজুর মৃত্যুর ঘটনায় জনরোষ ছড়িয়ে পড়ে ওই এলাকায়। থানায় হামলা হয়। পুলিশের ছোড়া রবার বুলটে রাজুর পাঁচ জন আত্মীয় জখম হন। এ দিনই তাঁদেরই অন্যতম, রাজুর শ্বশুর মিহির বীরবংশী বোলপুর হাসপাতালের শ্যায় শুয়ে বলছিলেন, ‘‘কোনও কারণ ছাড়াই হঠাৎ বৃহস্পতিবার দুপুর দেড়টা নাগাদ রাজুকে তুলে নিয়ে গেল পুলিশ। আমরা অনেকবার থানায় গিয়েছি ওর সঙ্গে দেখা করতে। কিন্তু, পুলিশ দেখা করতে দেয়নি। তখনই সন্দেহ জেগেছিল। শনিবার রাতে রাজুকে নিয়েই আমাদের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়েও পুলিশ কিছু পায়নি।’’ রাজুর মামা শ্বশুর কমল বীরবংশীর অভিযোগ, ‘‘সুস্থ ছেলেটাকে পিটিয়ে মারল পুলিশ! আমরা এর বিচার চাই।’’ একই সুরে দর্জিপাড়ার বাসিন্দারাও ঘটনার ন্যায়বিচার বা ‘ইনসাফ’ চেয়েছেন। তাঁদের প্রশ্ন, শনিবার রাতেই পুলিশ যাঁকে হাতকড়া পরিয়ে বাড়িতে নিয়ে এসে তল্লাশি চালিয়েছিল, সকালে কী ভাবে তিনি মারা গেলেন।

Advertisement

শোকস্তব্ধ স্ত্রী।

ঘটনার খবর পেয়ে এ দিন দুপুরে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জে বি থমাস বোলপুর থানায় আসেন। তিনি এ বিষয়ে কোনও মন্তব্য করতে চাননি। তবে, ঘটনার নিন্দায় সরব হয়েছেন গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষা সমিতির বীরভূম জেলা সম্পাদক শৈলেন মিশ্র। তিনি বলেন, ‘‘পুলিশ লকআপে হত্যা সব সময়ে নিন্দনীয়, অমানবিক এবং নিষ্ঠর ঘটনা। এই ঘটনায় গনতান্ত্রিক অধিকার, মানবাধিকার এবং দেশের শীর্ষ আদালতের আদেশ লঙ্ঘন হয়েছে। ঘটনার সম্পূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত, দোষী পুলিশকর্মীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং মৃতের পরিবারকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণের দাবি জানাব আমরা।’’ রাজুর মৃত্যু এবং পুলিশি ‘হামলার’ প্রতিবাদে আজ, সোমবার বোলপুর চৌরাস্তা মোড়ে প্রতিবাদ সভা হবে বলেও তিনি জানিয়েছেন। সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটি সদস্য তথা বোলপুরের প্রাক্তন সাংসদ রামচন্দ্র ডোমের দাবি, “পুলিশের হেফাজতে এক যুবক মারা গিয়েছেন। নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে উচ্চ পর্যায়ের তদন্তের আর্জি জানাচ্ছি। পরিবারকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। আদালতে কেন তোলা হয়নি, সেটাও পুলিশ কে বলতে হবে।’’ দোষীদের বিরুদ্ধে খুনের মামলা রুজু করা উচিত বলেও তাঁর অভিমত।

ভাঙচুরের পরে।

পুলিশ অবশ্য আপাতত অস্বাভাবিক মৃত্যু মামলা রুজু করেছে। এ দিন ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতি বোলপুর হাসপাতালে রাজুর দেহের ময়নাতদন্ত হয়। তবে, এই ঘটনায় জেলা পুলিশ যে চাপে পড়েছে, তা তাঁদের মুখ বন্ধ রাখা থেকেই স্পষ্ট। রবিবার রাতে পুলিশই ভ্যানে চাপিয়ে রাজুর দেহ সৎকারের জন্য পাঠায়। সতীঘাটে সৎকার হয়। সেখানেও জেলা পুলিশের অফিসারেরা উপস্থিত ছিলেন।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement