অমিত খুনে ধরা পড়ল তৃণমূল কর্মী

দেড় বছর পার হয়ে গিয়েছে। মামলার চার্জ গঠনও হয়ে গিয়েছে। বিচার প্রক্রিয়া শুরু হবে আগামী মাসের ১৫ তারিখের পরই। ঠিক তারই আগে, দুবরাজপুরের সাব-ইনস্পেক্টর অমিত চক্রবর্তী খুনে অন্যতম অভিযুক্ত শেখ দুলালকে গ্রেফতার করল পুলিশ।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৪ জানুয়ারি ২০১৬ ০০:২২
Share:

শেখ দুলাল। —নিজস্ব চিত্র।

দেড় বছর পার হয়ে গিয়েছে। মামলার চার্জ গঠনও হয়ে গিয়েছে। বিচার প্রক্রিয়া শুরু হবে আগামী মাসের ১৫ তারিখের পরই।

Advertisement

ঠিক তারই আগে, দুবরাজপুরের সাব-ইনস্পেক্টর অমিত চক্রবর্তী খুনে অন্যতম অভিযুক্ত শেখ দুলালকে গ্রেফতার করল পুলিশ। শুক্রবার দুবরাজপুর থানা এলাকার যশপুর পঞ্চায়েতের খোঁয়াজ মহম্মদপুর গ্রামের বাড়ি থেকে সক্রিয় তৃণমূল কর্মী বলে পরিচিত দুলালকে গ্রেফতার করে পুলিশ। দুবরাজপুর ব্লক সভাপতি ভোলানাথ মিত্রের দাবি, ‘‘কে দোষী, কে নির্দোষ সেটা দেখার দায় আমার নয়। আইন আইনের পথে চলবে।’’ পুলিশ জানিয়েছে, এলাকায় ‘সমাজবিরোধী’ বলে পরিচিত শেখ দুলাল শুধু অমিত খুনেই অভিযুক্ত নয়, একাধিক অপরাধের সঙ্গে জড়িত। এসআই খুন ও দুর্গাপুরের একটি ডাকাতির ঘটনায় অভিযুক্ত হিসাবে শনিবার দুবরাজপুর আদালতে তোলে পুলিশ। সরকারি আইনজীবী মণিলাল দে বলেন, ‘‘বিচারক ধৃতকে জেল হাজত দিয়েছেন। সোমবার তাঁকে সিউড়ি আদালতে হাজির করাতে হবে।’’ গত ৫ তারিখ দুবরাজপুরের ওই সাব-ইনস্পেক্টর খুনে অভিযুক্ত ৩৬ জনকে নিরপরাধ তকমা দিয়ে মামলা থেকে তাদের নাম প্রত্যাহারের আর্জি আদালতের কাছে জানিয়েছিলেন, বীরভূমের সরকারি কৌঁসুলি রণজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। সেই তালিকায় ৩ নম্বরে শেখ দুলালের নাম ছিল। যদিও পরে সেই আবেদনটি নিয়ে আর এগোতে চাননি রণজিৎবাবু। বরং তাঁরই আবেদনের ভিত্তিতে গত ১৯ তারিখ সিউড়ি আতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ইন্দ্রনীল ভট্টাচার্যের এজলাসে ওই মামলায় ধৃত পনেরো জনের বিরুদ্ধে চার্জ গঠিত হয়েছে।

২০১৪ সালের ৩ জুন দুবরাজপুরের যশপুর পঞ্চায়েতের আউলিয়া গোপালপুর গ্রামে ১০০ দিন প্রকল্পে একটি পুকুর সংস্কার করাকে কেন্দ্র করে তৃণমূল ও সিপিএমের সংঘর্ষ শুরু হয়েছিল। খবর পেয়ে ওই সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে দুষ্কৃতীদের ছোড়া বোমার আঘাতে মারাত্মক জখম হয়েছিলেন দুবরাজপুর থানার টাউনবাবু অমিত চক্রবর্তী। দুর্গাপুরের মিশন হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসাধীন অমিতবাবুর ৫৫ দিনের লড়াই শেষ হয় ২৮ জুলাই। ঘটনার পর ৫০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছিল পুলিশ। অমিতবাবুর মৃত্যুর পরে খুনের মামলাও রুজু হয়। গ্রেফতার হয়েছিলেন এক নাবালক-সহ ১৭ জন। ওই বছরের সেপ্টেম্বরে ৫০ জনের বিরুদ্ধেই চার্জশিট জমা দেয় পুলিশ। পুলিশ গত দেড় বছরে আর কাউকেই ধরতে পারেনি। অধরাদের মধ্যে ওই নেতা শেখ আলিম-সহ শাসকদলের নেতা কর্মী-সমর্থকেরাই সংখ্যাগুরু। বিরোধীদের অভিযোগ, পুলিশ খুনে কোনও ভাবেই যেন তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা ধরা না পড়ে, এমন একটা চাপ শাসকদলের পক্ষ থেকে ছিলই। সিপিএম নেতৃত্ব বলছেন, গত কয়েকদিন ধরে এত সমালোচনার মুখে পড়ে শেষ পর্যন্ত শেখ দুলালদের গ্রেফতার করার তাগিদ দেখাল পুলিশ। পুলিশ দাবি করেছে, দুলালকে ধরতেও তারা তৎপর ছিল।

Advertisement

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement