কেবল কেটে যাওয়ায় ফের বিএসএনএলের মোবাইল ও ল্যান্ডলাইন পরিষেবা মুখ থুবড়ে পড়ল রঘুনাথপুর মহকুমার বিস্তীর্ণ এলাকায়। একই কারণে মানবাজার এলাকাতেও বিএসএনএল পরিষেবা দিনভর বিপর্যস্ত হয়েছে।
বুধবার বেলা সাড়ে ১০টা থেকেই রঘুনাথপুর, আদ্রা, নিতুড়িয়া, কাশীপুর-সহ গোটা মহকুমা জুড়েই বিএসএনএলের সিগন্যাল চলে যায়। একই ছবি মানবাজার, পুঞ্চা, বোরো, বান্দোয়ান, বরাবাজার-সহ বিস্তীর্ণ এলাকায়। মাসের মধ্যে দু’বার, কখনও তিনবার নিয়ম করে বিএসএনএলের পরিষেবা মুখ থুবড়ে পড়ছে। স্বাভাবিক ভাবেই ক্ষুব্ধ গ্রাহকেরা। কাজের দিনে দিনভর মোবাইল পরিষেবা উধাও হয়ে যাওয়ায় দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে গ্রাহকদের। হাওড়ার বাসিন্দা চন্দন চৌধুরী এ দিন দুপুরে আদ্রা স্টেশনে নেমে কারও সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছিলেন না। তিনি বলেন, “স্টেশনে নেমেই দেখি মোবাইলের সিগন্যাল নেই। স্টেশনের আশপাশ ঘুরে কোথাও পাবলিক টেলিফোন বুথ পেলাম না। অগত্যা স্টেশনেই বসে থাকতে হল।” মানবাজারের মানভূম কলেজের অধ্যাপক প্রদীপ মণ্ডলের ক্ষোভ, “আমি বিএসএনএলের গ্রাহক। কিন্তু দিনভর পরিষেবা না পাওয়ায় দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। এই ছবি এখন প্রায়ই হচ্ছে।” ক্ষুব্ধ গ্রাহকদের প্রশ্ন, পরিষেবা উধাও হলেই বিএসএনএল কর্তারা কেবল কাটা পড়ার যুক্তি দেখান। কিন্তু প্রকৃত ঘটনা কি তাই? না কি অন্য কোনও কারণে পরিষেবা বিঘ্নিত হচ্ছে তার তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।
বিএসএনএলের জেলা প্রবন্ধক গৌতম মুখোপাধ্যায় বলেন, “বুধবার পুরুলিয়া-বরাকর রাজ্য সড়কের একটি জায়গায় ও পুরুলিয়া-মানবাজার রাস্তার একটি জায়গায় কেবল কাটা পড়ার কারণে এ দিন পরিষেবা বিপর্যস্ত হয়েছে। মানবাজারে পূর্ত দফতর রাস্তার কাজ করতে গিয়ে কেবল কেটে দিয়েছে। আর রঘুনাথপুরে আমাদের দফতরের কাজের জন্যই কেবল কাটা পড়েছিল।” তবে বিকেলের মধ্যে পরিষেবা সচল হয়ে গিয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি। গ্রাহকদের ক্ষোভের বিষয়ে বিএসএনএলের চিফ জেনারেল ম্যানেজার কিশোর কুমার বলেন, “কেন পুরুলিয়ায় এ রকম ভাবে পরিষেবা বিপর্যস্ত হচ্ছে খতিয়ে দেখা হবে।”