চিকিৎসকদের পরামর্শ নিয়েই ভোট প্রচার সারছেন প্রার্থীরা

দক্ষিণবঙ্গে তাপমাত্রার পারদ চড়ছে। সোমবার বীরভূমে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৮ ডিগ্রি। তবে আসন্ন লোকসভা ভোটের প্রচারে একটুও সময় নষ্ট না করা চলবে না। রোদগরমে প্রার্থীরা কোথাও ভোটারদের উঠনে হাজির, তো কোথাও আবার পথসভাতে। কখনও রোড শো করছেন প্রার্থীরা, কোথাও কোথাও গরমে নরম থাকার দাওয়ায়ই নিচ্ছেন প্রার্থীরা।

Advertisement

মহেন্দ্র জেনা

শেষ আপডেট: ০১ এপ্রিল ২০১৪ ০১:০০
Share:

খুদেদের সঙ্গে আইসক্রিম হাতে অনুপম। ছবি: বিশ্বজিৎ রায়চৌধুরী।

দক্ষিণবঙ্গে তাপমাত্রার পারদ চড়ছে। সোমবার বীরভূমে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৮ ডিগ্রি। তবে আসন্ন লোকসভা ভোটের প্রচারে একটুও সময় নষ্ট না করা চলবে না। রোদগরমে প্রার্থীরা কোথাও ভোটারদের উঠনে হাজির, তো কোথাও আবার পথসভাতে। কখনও রোড শো করছেন প্রার্থীরা, কোথাও কোথাও গরমে নরম থাকার দাওয়ায়ই নিচ্ছেন প্রার্থীরা।

Advertisement

এই গরমে কেমন চলছে প্রচার?

প্রথমে আসা যাক বোলপুর লোকসভা কেন্দ্রের সিপিএম প্রার্থী রামচন্দ্র ডোমের কথায়। পেশায় চিকিৎসক। তাই এই দাবদাহে নিজের আর দলের কর্মী-সমর্থকদের শরীরের দিকে ভালই নজর রয়েছে তাঁর। সকালে সকালে স্নান সেরে হালকা জলখাওয়ার ব্যবস্থা। চিড়ে দই, মুড়ি, শসা কুচি পছন্দের তালিকায় শীর্ষে। প্রচার পর্ব চলে বেলা ১১টা পর্যন্ত। ঘণ্টা চারেকের গা জিরিয়ে নেওয়া, তার মধ্যে ওই সময়ে থাকছে নিজেরদের কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে আলোচনা ও দুপুরে হালকা খাবার। নিরামিষ অথবা কম তেল-মশলার মাছের ঝোল, সামান্য ফলের রস হলে চলে। বিকেল চারটে নাগাদ ফের প্রচার তুঙ্গে। মাঝে মধ্যে সাদা জল। ঠান্ডা পানীয়, ঝাল, মশলাদার খাবার সর্বদা বর্জনীয়। রামচন্দ্রবাবুর পক্ষে এ দিন এমনই দাওয়াই নিয়ে নানুরের দক্ষিণপ্রান্তে সকালে এবং বিকেলে উত্তরপ্রান্তে প্রচার সারলেন তিনি।

Advertisement

কংগ্রেসের তপনকুমার সাহা। অবসরপ্রাপ্ত স্কুল শিক্ষক পেশায় চিকিৎসক না হলেও সঙ্গে থাকছে চিকিৎসক ভাই মোহিতবাবুর পরামর্শ। ভাল করে স্নান সেরে সকালে হালকা গরম চা, সঙ্গে দু’টি বিস্কুট। সকাল-সকাল দ্রুত এবং জোর কদমে প্রচার। মাঝে কর্মী সমর্থকদের সঙ্গে এবং বাড়িতে মুড়ি, শসা, ছোলা সহকারে জলযোগের ব্যবস্থা। তবে সঙ্গে সব সময়ে থাকছে নুনচিনির জল। দুপুর প্রচার অভিযান বন্ধ রেখে এলাকার কর্মীদের নিয়ে ইন্ডোর বৈঠক। ফের বিকেলের দিকে প্রচার, রোড শো। তবে শরীরের জল যাতে না কমে, তার জন্য বিশেষ সতর্ক থাকতে তপনবাবু এবং তাঁর কর্মী সমর্থকদের পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসক মোহিত সাহা। এ দিন সকাল থেকে লাভপুর বিধানসভা এলাকা এবং বিকেলে বর্ধমান জেলার আওতায় থাকা বোলপুর লোকসভা কেন্দ্রের এলাকাগুলিতে প্রচার সারেন তপনবাবু।

অন্য দিকে, এসইউসি প্রার্থী বিশ্বভারতীর শিক্ষক বিজয় দলুই বলছেন, “সারা বছর তো আমরা নানা কর্মসূচিতে বাইরে থাকি। তাই রোদ গরম একটু কমই লাগে। তাও চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে নিতে হয়।” তপনবাবু বা রামচন্দ্রবাবুর মতো সকালে স্নান সেরে দু’টি রুটি এবং হালকা তেলে আলুভাজা লাল চা খেয়ে প্রচার শুরু। তবে রোদ থেকে বাঁচতে সর্বদা নুন-চিনির জল, কখনও লেবুর সরবত সঙ্গে থাকে। এ ভাবেই এ দিন তিনি প্রাচারে সারাদিন ছিলেন লাভপুর বিধানসভা কেন্দ্রে।

আর এক বিশ্বভারতীর শিক্ষক তথা তৃণমূল প্রার্থী অনুপম হাজরা কেমন প্রচার সারলেন এদিন। কম বয়স হওয়ার সুবাদে দুপুরে প্রচারের দৌড়ে অন্য প্রতিদ্বন্দ্বীদের থেকে সামান্য হলেও এগিয়ে। জিম করা সুস্বাস্থ্যের দিকে সর্বদা নজর থাকা যুবক লেবু, মধু খান। সকালে সামান্য পরে দুধ সহযোগে কর্নফ্লেক্স। মিনিট পনেরো ব্যায়াম। কর্মীসমর্থদের নিয়ে সকালে সকালে প্রচারে বেরিয়ে পড়া। দুপুরের আহারের আগে ফাঁক পেলেই গ্লুকোজের জলে গলা ভিজিয়ে নিচ্ছেন তিনি। লেবু-চিনির জল পেলে মন্দ নয়। তবে অন্য প্রার্থীদের মতো তিনি ঠান্ডা পানীয় বা আইসক্রিম লোভ ছাড়তে পারেননি। দুপুর উজিয়ে গ্রামে গ্রামে দৌড় প্রচারের জন্য রাতেও। হালকা খাওয়ার। তবে সন্ধ্যার সময়ে মুড়ি, চপ খুব পছন্দের। তবে চিকিৎসকদের পরামর্শ যে মানেন না, তা নয়। এ ভাবেই এ দিন অনুপমবাবু বোলপুর ও আশপাশ এলাকায় প্রচার সারলেন। এ দিকে, সর্বদা নিরামিষভোজী এবং সাত্বিক মানুষ হিসেবে যেমন কর্মজীবনে তেমনি প্রার্থী হিসেবেও এলাকা তথা জেলায় পরিচিত বিজেপির কামিনিমোহন সরকার পাতলা ছিপছিপে ছোটখাটো চেহেরার মানুষটি বাইরের কিছু আহার হিসেবে নেন না। কিন্তু অবসর জীবনেও তেজ কমেনি। সদ্য যুবকের মতো কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সমান তালে প্রচার অভিযানে নেমেছেন তিনিও।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement