টুকরো খবর

আত্মীয়ের বাড়িতে গিয়ে তাঁর বোনকে পিটিয়ে খুন করার দায়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হল দুই ভাইয়ের। বুধবার এই আদেশ দিয়েছেন পুরুলিয়া জেলা আদালতের অতিরিক্ত দায়রা বিচারক অমিত চক্রবর্তী। মামলার সরকারি আইনজীবী সুভাষ বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, খুনের ঘটনাটি ঘটেছিল ২০১৩ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি বান্দোয়ান থানার আমগোড়া গ্রামে। পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার বেলপাহাড়ি থানার দেশমূল গ্রামের দুই ভাই লালমোহন মুর্মু ও তাঁর দাদা সুনীল মুর্মু ওই দিন সন্ধ্যায় আমগোড়া গ্রামের রুইটু মান্ডির বাড়িতে যান।

Advertisement
শেষ আপডেট: ০১ মে ২০১৪ ০২:৪৭
Share:

দুই ভাইয়ের যাবজ্জীবন

Advertisement

আত্মীয়ের বাড়িতে গিয়ে তাঁর বোনকে পিটিয়ে খুন করার দায়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হল দুই ভাইয়ের। বুধবার এই আদেশ দিয়েছেন পুরুলিয়া জেলা আদালতের অতিরিক্ত দায়রা বিচারক অমিত চক্রবর্তী। মামলার সরকারি আইনজীবী সুভাষ বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, খুনের ঘটনাটি ঘটেছিল ২০১৩ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি বান্দোয়ান থানার আমগোড়া গ্রামে। পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার বেলপাহাড়ি থানার দেশমূল গ্রামের দুই ভাই লালমোহন মুর্মু ও তাঁর দাদা সুনীল মুর্মু ওই দিন সন্ধ্যায় আমগোড়া গ্রামের রুইটু মান্ডির বাড়িতে যান। রুইটু হলেন লালমোহনের শ্বশুর। একটি পারিবারিক বিবাদকে কেন্দ্র করে দুই সহোদর মিলে রুইটুকে লাঠি দিয়ে মারধোর শুরু করে। দাদাকে মারামারি করছে দেখে রুইটু মান্ডির বোন বিমলা ওরফে খাঁদি দাদাকে বাঁচাতে ছুটে এলে দুই সহোদর তাঁকেও লাঠি পেটা করেন। দুই ভাই-বোনকে আহত অবস্থায় মাটিতে ফেলে রেখে ওঁরা পালান। পরে পড়শিরা দু’জনকে বান্দোয়ান স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে গেলে বিমলাকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী লালমোহনের শ্যালকের স্ত্রী সুরজমণি পরের দিন বান্দোয়ান থানায় সুনীল মুর্মু ও লালমোহন মুর্মুর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযুক্তদের গ্রেফতার করে পুলিশ। তদন্ত শেষে পুলিশ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে তিন মাসের মধ্যে আদালতে চার্জশিট পেশ করে। মামলার বিচার শুরু হয় ওই বছরেরই জুন মাসে। ফলে অভিযুক্তরা জামিন পাননি। বুধবার বিচারক অভিযুক্ত দুই ভাইকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও প্রত্যেকের দশ হাজার টাকা করে জরিমানার নির্দেশ দেন। অনাদায়ে ছয় মাস বিনাশ্রমে কারাদণ্ডের আদেশ দেন বিচারক।

ভোট চিত্র। সবিস্তার...

Advertisement

কিশোরীকে ধর্ষণ, জেল

পড়শি এক কিশোরীকে বিয়ে করার প্রলোভন দেখিয়ে ফুসলিয়ে আত্মীয় বাড়িতে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করার দায়ে এক যুবকের ১০ বছরের জেল হল। বুধবার এই রায় দেন পুরুলিয়া জেলা আদালতের অতিরিক্ত দায়রা বিচারক অমিত চক্রবর্তী। মামলার সরকারি আইনজীবী সুভাষ বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, ঘটনাটি ঘটেছিল ২০১১ সালের ২১ ডিসেম্বর। পুরুলিয়া শহরের চিটাডাঙা (মুন্সেফডাঙা) এলাকার বাসিন্দা এক কিশোরী নিকটবর্তী খাটাল থেকে দুধ আনতে যাচ্ছিল। সেই সময় ওই এলাকারই বাসিন্দা ভজা বাউরি তাকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে বরাবাজার থানা এলাকার রাজডি গ্রামে এক আত্মীয়ের বাড়িতে নিয়ে যায়। সেখানে ওই কিশোরীকে ধর্ষণ করে ও তাঁর উপরে পাশবিক অত্যাচার চালায় বলে অভিযোগ। সুভাষবাবু বলেন, “কিশোরীর বাবা মেয়ের খবর পেয়ে তিন দিন পরে ওই গ্রামে গিয়ে মেয়ের খোঁজ পান। কিশোরীর বাবাকে দেখে অভিযুক্ত ভজা পালিয়ে যায়। পরে সেখান থেকে ফিরে এসে তিনি পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করেন।” অভিযোগ পেয়ে ভজা বাউরিকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তদন্ত শেষে পুলিশ অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ২০১২ সালের জুন মাসে আদালতে চার্জশিট পেশ করে। মামলার বিচার শুরু হয় ওই বছরের নভেম্বর মাসে। সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে বিচারক অভিযুক্তকে ১০ বছর সশ্রম কারাদণ্ড, ১০ হাজার টাকা জরিমানার নিদের্শ দেন। অনাদায়ে ছয় মাস বিনাশ্রমে কারাদণ্ডের আদেশ দেন তিনি।

তৃণমূলের প্রতীকে কাদা

দেওয়াল লিখনে তৃণমূলের প্রার্থীর নামের উপরে ও প্রতীকে কাদা লেপে দেওয়ার ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে রঘুনাথপুর থানার আড়রা গ্রামে। তৃণমূলের অভিযোগ, বিজেপি এই কাণ্ড করেছে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে বিজেপি-র পাল্টা দাবি, এটা তৃণমূলের অন্তর্দ্বন্দ্বের ফল। তৃণমূল সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার সকালে দলীয় কর্মীরা দেখেন আড়রা গ্রামে তাদের প্রার্থী মুনমুন সেনের সমর্থনে লেখা বহু দেওয়াল লিখনে প্রতীক ও প্রার্থীর নামের উপরে কাদা লেপে দেওয়া হয়েছে। আড়রা গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূলের প্রধান মধুসূদন দাস বলেন, “আমাদের বহু দেওয়াল লিখনের উপরে কাদা লেপে দিয়েছে বিজেপি-র কর্মীরা। বিজেপি-র দেওয়াল লিখনের পাশে আমাদের দেওয়াল লিখন রয়েছে। কিন্তু ওদের দেওয়াল লিখনগুলি ঠিক থাকলেও আমাদের লেখাগুলিতে কাদা লেপে দেওয়া হয়েছে।” মহকুমা প্রশাসনের কাছে এ দিনই বিজেপি-র বিরুদ্ধে অভিযোগ জানিয়েছে তৃণমূল। অভিযোগের প্রেক্ষিতে পুলিশ ও প্রশাসনের কর্মীরা গ্রামে যান। বিজেপি-র নেতা গনেশ সিংহ বলেন, “আমাদের কর্মীরা এই কাজ করতে পারেন না। এটা তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের জেরে হয়েছে।” তিনি দাবি করেছেন, এই ঘটনার সঙ্গে তাঁদের দলীয় কর্মীদের যোগাযোগ তৃণমূল প্রমাণ করতে পারলে তাঁদের বিরুদ্ধে দলগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অবরুদ্ধ জয়

দুপুর দেড়টা। নলহাটি থানার ধরমপুর হাইস্কুলের তিনটি বুথ। বিজেপি প্রার্থী জয় বন্দ্যোপাধ্যায় ঢুকলেন ভোটগ্রহণ কেন্দ্রে। সঙ্গে চার জন নিরাপত্তারক্ষী। তাঁদের সঙ্গী নলহাটি ১ ব্লক বিজেপি সভাপতি অনিল সিংহ। বুথে ঢুকতেই পেছন থেকে ৫০-৬০ জন তৃণমূল কর্মী ঢুকে পড়লেন ভোটগ্রহণ কেন্দ্রের ভিতর। সেই সঙ্গে চিৎকার, টাকা দিয়ে ভোট কিনতে এসেছে জয়। তাঁকে বের করে দিন। বুথের ভিতরে থাকা তৃণমূল এজেন্ট বেরিয়ে এসে দলীয় কর্মীদের শান্ত করতে থাকেন। কিন্তু কে কার কথা শুনে! স্কুল চত্বরের প্রধান গেট বাইরে থেকে বন্ধ করে দিলেন তৃণমূল কর্মীরা। বুথের ভিতরে তখন রাজ্য পুলিশ, মাইক্রো অবজার্ভার, প্রিসাইডিং অফিসারদের কাছে জয় বন্দ্যোপাধ্যায় তখন দাঁড়িয়ে। বুথের ভিতরে তখন সিপিএম এজেন্টরা নিজেদের কর্মীদের সাবধান করে দিলেন। কিছুক্ষণ পরে এসপিকে ফোন করে জয় বন্দ্যোপাধ্যায় পরিস্থিতির কথা জানালেন। ফোনের কথা কানে যেতেই গেট নিজেরাই খুলে দেন তৃণমূল কর্মীরা। আধ ঘণ্টা পরে নলহাটি থানা থেকে দু’ভ্যান পুলিশ এসে জয় বন্দ্যোপাধ্যায় নিয়ে গেল। কিন্তু দেখা মেলেনি কেন্দ্রীয় বাহিনীর।

ভাঙচুর

ভোট পর্ব শেষে ইভিএম সিল করে সিউড়ির উদ্দেশ্য রওনা দেবেন ভোটকর্মীরা। ঠিক তখনই তাল কাটল। বুথের বাইরে ভিড় জমানো অতি উৎসহী কয়েক জনকে সামনে থেকে সরাতে লাঠি চালাতে শুরু করেছিলেন দায়িত্ব থাকা জওয়ান। খেপে উঠে গ্রামের মানুষেরা ইটপাটকেল ছুড়তে শুরু করেন। ভাঙচুর চালানো হয় পুলিশের গাড়ি ও ভোটকর্মীদের বাসে। বুধবার সন্ধ্যায় খয়রাশেলের পাঁচড়া পঞ্চায়েতের রানিপাথর গ্রামের ঘটনা। স্থানীয় উচ্চ বিদ্যালয়ের তিনটি বুথের ভোটকর্মীরা হতবাক। এমন কী ইভিএম কেড়ে নেওয়া হতে পারে এবং তাঁরা অক্রান্ত হতে পারেন এমন খবর ব্লক প্রশাসনের কাছে পৌঁছতে বিশাল পুলিশ বাহিনী নিয়ে ঘটনাস্থলে হজির হন খয়রাশোল থানার ওসি শেখ মহম্মদ আলি, খয়রাশেলের যুগ্ম বিডিও অভিষেক মিশ্র। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার পরেই ভোট কর্মীদের নিয়ে বাস রওনা হয় সিউড়ির দিকে। জেলাশাসক জগদীশপ্রসাদ মিনা বলেন, “একটা সমস্যা হয়েছিল। তবে ইভিএম নিরাপদে এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের হেফাজতেই আছে।”

আক্রান্ত এজেন্ট

বিজেপির এক নির্বাচনী এজেন্টকে মারধর করার অভিযোগ উঠল তৃণমূলের বিরুদ্ধে। যদিও এখনও পর্যন্ত থানায় কোনও লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি বলে পুলিশ জানিয়েছে। বুধবার সন্ধ্যায় ঘটনাটি ঘটে লোবা পঞ্চায়েতের কোটা গ্রামে। বিজেপির অভিযোগ, পার্থ রায় নামে ওই এজেন্টকে মারধর করে আটকে রেখেছিল। চিকিৎসার জন্য নিয়ে যেতে দিচ্ছিল না তারা। পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে তাঁকে দুবরাজপুর গ্রামীণ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়।

ভোট চিত্র। সবিস্তার...

হামলার নালিশ

ইলামবাজার থানার জয়দেব পঞ্চায়েত এলাকার সাহাপুর গ্রামে বুধবার সন্ধ্যায় চার জন সিপিএম সমর্থকদের বাড়িতে ভাঙচুর ও লুঠপাটের অভিযোগ ওঠে তৃণমূলের বিরুদ্ধে। ওই পঞ্চায়েতের ডমরুটে চার জন সিপিএম কর্মী-সমর্থকদের মারধর করা হয়। দু’টিতেই তৃণমূলের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠে। সিপিএমের ইলামবাজার জোনাল কমিটির সম্পাদক সৈয়দ মহম্মদ ইকবাল থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। তৃণমূলের ইলামবাজার ব্লক সভাপতি জাফারুল ইসলাম অভিযোগ অস্বীকার করেছে। পুলিশ জানায়, অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। কেউ গ্রেফতার বা আটক হয়নি।

পাম্পে মৃত্যু

জল তোলার পাম্পে শাড়ি জড়িয়ে মৃত্যু হল এক মহিলার। ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার বর্ধমানের জামুড়িয়ার জোড়জানকি এলাকায়। মৃতা ঊষা কালিন্দী-র (৪২) বাড়ি পুরুলিযার জয়পুরে। তিনি তাঁর স্বামী গোপাল কালিন্দীর সঙ্গে জোড়জানকি এলাকার একটি ইটভাটায় কাজ করতেন। পুলিশ মৃতদেহটি ময়না তদন্তের জন্য আসানসোলে পাঠায়।

আজ বৃহস্পতিবার নির্বাচনী প্রচারে দুই জেলায় আসছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
বিষ্ণুপুর স্টেডিয়াম (বাঁ দিকে), বাঁকুড়া শহর ও পুরুলিয়া সৈনিক স্কুল (ডান দিকে) এলাকায়
তাঁর সভা করার কথা। বুধবার তোলা প্রস্তুতির ছবি। —নিজস্ব চিত্র

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement