সাংসদের দ্বারস্থ কলেজ

নিজস্ব ভবন নেই, অনিশ্চিত অনুমোদন

এলাকার প্রাক্তন সিপিএম সাংসদ কথা রেখেছিলেন। কিন্তু, প্রতিশ্রুতি রক্ষার তাগিদ দেখাচ্ছেন না শাসকদলের বর্তমান সাংসদ। এমনটাই অভিযোগ ময়ূরেশ্বরের লোকপাড়া কলেজের সংগঠক সদস্যদের। আর সাংসদ কথা না রাখায় টাকার অভাবে ওই কলেজের নিজস্ব ঘর তৈরির বিষয়টিই অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

Advertisement

অর্ঘ্য ঘোষ

শেষ আপডেট: ১১ জুলাই ২০১৫ ০০:৩৭
Share:

কবে শেষ হবে? বরাদ্দের অভাবে আটকে নির্মাণ। ছবি: সোমনাথ মুস্তাফি।

এলাকার প্রাক্তন সিপিএম সাংসদ কথা রেখেছিলেন। কিন্তু, প্রতিশ্রুতি রক্ষার তাগিদ দেখাচ্ছেন না শাসকদলের বর্তমান সাংসদ। এমনটাই অভিযোগ ময়ূরেশ্বরের লোকপাড়া কলেজের সংগঠক সদস্যদের। আর সাংসদ কথা না রাখায় টাকার অভাবে ওই কলেজের নিজস্ব ঘর তৈরির বিষয়টিই অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। এ দিকে, নিয়মানুযায়ী তিন বছরের মধ্যে সমস্ত পরিকাঠামো-সহ নিজস্ব বাড়ি তৈরির পরেই মেলে চূড়ান্ত অনুমোদন। মেলে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জরি কমিশনের (ইউজিসি) আর্থিক সাহায্যও। কিন্তু, বর্তমানে টাকার অভাবে ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে গোটা কলেজেরই!

Advertisement

কলেজ কর্তপক্ষ ও স্থানীয় সূত্রের খবর, প্রায় সাড়ে তিন দশক আগে লোকপাড়া হাইস্কুলের তৎকালীন প্রধানশিক্ষক, প্রয়াত নবকিশোর হাজরা এলাকার শিক্ষানুরাগীদের নিয়ে ওই কলেজ গড়ার উদ্যোগ নেন। দীর্ঘ টানাপড়েনের পরে ২০১০ সালে ক্ষমতাসীন বাম সরকার লোকপাড়ায় কলেজের অনুমোদন দেয়। ওই সময় কলেজের বাড়ি তৈরির জন্য সাংসদ তহবিল থেকে ২৫ লক্ষ টাকা দিয়েছিলেন এলাকার প্রাক্তন সিপিএম সাংসদ রামচন্দ্র ডোম। প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বাম নেতৃত্ব দলের রাজ্যসভার সাংসদ এম এস মালিহাবাদীর সাংসদ তবহিল থেকে ২৫ লক্ষ এবং স্থানীয় বিধায়ক সাধুচরণ বাগদির বিধায়ক তহবিল থেকে আরও ১০ লক্ষ টাকা জোগাড় করে দিয়েছিলেন।

এ দিকে, গত লোকসভা ভোটে ওই কলেজের মাঠেই প্রচারসভা করেছিলেন বোলপুর কেন্দ্রের বর্তমান তৃণমূল সাংসদ অনুপম হাজরা। সে দিন তাঁর সঙ্গে ছিলেন তৃণমূলের জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল, রাজ্যের মৎস্যমন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিংহ, সভাধিপতি বিকাশ রায়চৌধুরীও। ওই সভায় দাঁড়িয়ে অনুপম ঘোষণা করেছিলেন, জিতলে তিনি কলেজের বাড়ি তৈরিতে সাহায্য করবেন। কলেজের সংগঠক কমিটির অন্যতম সদস্য সুভাষচন্দ্র ঘোষ, ফটিকচন্দ্র দে-রা বলছেন, ‘‘প্রাক্তন সাংসদের কাছে কলেজের বাড়ি তৈরির জন্য টাকা মিললেও বর্তমান সাংসদ ঘোষণা করেও নিজের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করছেন না।’’ সাংসদের কাছে এ ব্যাপারে পরে লিখিত ভাবে সাহায্যের আবেদন জানিয়েও আজও কোনও সাড়া মেলেনি বলে দাবি কলেজের অ্যাডহক কমিটির সভাপতি তপন ভট্টাচার্যেরও।

Advertisement

সাড়ে তিন কাঠা জমির উপরে পাঁচতলা ভবন তৈরি হবে। যেখানে থাকবে মোট ৩০টি ঘর। থাকছে একটি মঞ্চও। কলেজ কর্তৃপক্ষের দাবি, জমিটি অত্যন্ত নিচু হওয়ায় ওই ভবনের জন্য একটি মজবুত ভিত তৈরি করতেই বাম আমলে পাওয়া ৬০ লক্ষ টাকা খরচ হয়ে যায়। এ দিকে, রাজ্যের ক্ষমতা পরিবর্তনের সঙ্গে পরিবর্তিত হয় বাম নিয়ন্ত্রিত কলেজে পরিচালন সমিতিও। এই সময় বর্তমান স্থানীয় সিপিএম বিধায়কও হাত গুটিয়ে নেন বলে অভিযোগ। শুধুমাত্র বর্তমান রাজ্য সরকারের উন্নয়ন তহবিল থেকে দু’দফায় প্রায় ৬২ লক্ষ টাকা পাওয়া গিয়েছে। কিন্তু তা-ও প্রয়োজনের তুলনায় যথেষ্ট ছিল না বলেই কলেজ কর্তৃপক্ষের দাবি। সুভাষবাবুদের কথায়, ‘‘ভিতের উপর তিনটি ঘর তৈরি করতেই প্রথম দফার টাকা শেষ হয়েছে। দ্বিতীয় দফার টাকায় কাজ চলছে। বরাদ্দ টাকায় বড়জোড় আরও তিনটি ঘর তৈরি হতে পারে। নিজস্ব ভবনে উঠতে গেলে ন্যূনতম ৯টি ঘর তৈরি করা প্রয়োজন।’’

শুরুর দিন থেকেই স্থানীয় হাইস্কুলে সকালে কলেজটি হয়। বর্তমানে ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা প্রায় ৮০০। তিনটি বিষয়ে অনার্স-সহ মোট ৯টি বিষয় পড়ানো হয়। কিন্তু, সব দিক সামাল দিতে গিয়ে চরম সমস্যায় পড়েছেন শিক্ষকশিক্ষিকারা। কলেজের ভারপ্রাপ্ত শিক্ষিকা রোশনি দে বলছেন, ‘‘সব থেকে সমস্যা হয় শৌচাগার নিয়ে। সকালে স্কুলের ঘর খোলা পেলেও অধিকাংশ দিন শৌচাগারের তালা বন্ধ থাকে। এর ফলে মূলত ছাত্রী এবং শিক্ষিকাদের চরম অস্বস্তিতে পড়তে হয়। অথচ কলেজে আমাদের নিজস্ব শৌচাগার-সহ জেলা পরিষদের অর্থানূকুল্যে অতিরিক্ত শৌচাগার তৈরি হয়ে পড়ে রয়েছে। জানি না ওই সব শৌচাগার কবে ব্যবহারের সুযোগ ঘটবে।’’

এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে অনুপমবাবু অবশ্য দাবি করেন, ‘‘সেই অর্থে কোনও প্রতিশ্রুতি দিইনি। কিন্তু, কলেজের উন্নয়নে সাহায্যের কথা বলেছিলাম।’’ কলেজ কর্তৃপক্ষ আবেদন করে থাকলে সময় ও সুযোগ মতো সাংসদ তহবিল থেকে তিনি সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছেন।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement