নির্দেশ উড়িয়ে ফের অবরোধ

দলের শীর্ষ নেতৃত্বের নির্দেশই সার। মানার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না দলেরই নিচুতলায়। সারদা-কাণ্ডে সিবিআইয়ের হাতে গ্রেফতার হয়েছেন রাজ্যের মন্ত্রী মদন মিত্র। আর তারই প্রতিবাদে আন্দোলনে নেমে বিভিন্ন জায়গায় পথ অবরোধ শুরু করেছেন তৃণমূল নেতা-কর্মীরা। অথচ রাস্তা বা রেল অবরোধ করে সাধারণ মানুষকে সমস্যায় ফেলা চলবে না বলে স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার পরেও এই ঘটনা ঘটতে দেখা যাচ্ছে বাঁকুড়ার বিভিন্ন জায়গায়।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২০ ডিসেম্বর ২০১৪ ০১:২৯
Share:

শুক্রবার বাঁকুড়ার মাচানতলায় রাস্তাতেই সভা তৃণমূলের। তার জেরে যানজট। —নিজস্ব চিত্র

দলের শীর্ষ নেতৃত্বের নির্দেশই সার। মানার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না দলেরই নিচুতলায়।

Advertisement

সারদা-কাণ্ডে সিবিআইয়ের হাতে গ্রেফতার হয়েছেন রাজ্যের মন্ত্রী মদন মিত্র। আর তারই প্রতিবাদে আন্দোলনে নেমে বিভিন্ন জায়গায় পথ অবরোধ শুরু করেছেন তৃণমূল নেতা-কর্মীরা। অথচ রাস্তা বা রেল অবরোধ করে সাধারণ মানুষকে সমস্যায় ফেলা চলবে না বলে স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার পরেও এই ঘটনা ঘটতে দেখা যাচ্ছে বাঁকুড়ার বিভিন্ন জায়গায়। শুক্রবার সকালেও ওন্দা থানার ভেদুয়াশোলে, বাঁকুড়া-বিষ্ণুপুর ৬০ নম্বর জাতীয় সড়ক প্রায় আধ ঘণ্টা অবরোধ করেন স্থানীয় কিছু তৃণমূল কর্মী। এ দিন ওই একই দাবিতে বাঁকুড়া শহরের মাচানতলা মোড়ে বড় সভা করে শাসকদল। রাস্তা জুড়ে ওই সভা হওয়ায় যানজটের সৃষ্টি হয়। সাময়িক দুর্ভোগে পড়েন যাত্রীরা। সভার আগে কয়েক হাজার কর্মী-সমর্থক মিছিলও করেন শহরে। তবে, পুলিশ যথেষ্ট সংখ্যায় মোতায়েন ছিল। পরের পর এই ধরনের ঘটনায় শাসক দলের নিচুতলার কর্মীদের উপর উঁচুতলার নিয়ন্ত্রণ নিয়েই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

গত রবিবারই রানিগঞ্জ-বাঁকুড়া ৬০ নম্বর জাতীয় সড়কের গঙ্গাজলঘাটি থানার দুর্লভপুর মোড়ে পথ অবরোধ করেছিল তৃণমূল। সেদিন মন্ত্রীকে গ্রেফতারের প্রতিবাদে বিষ্ণুপুরের সাংসদ সৌমিত্র খাঁ, শালতোড়ার বিধায়ক স্বপন বাউরিদের নেতৃত্বে তৃণমূলের কর্মীরা রাস্তায় দাঁড়িয়ে গাড়ি আটকেছিলেন প্রায় দু’ঘণ্টা। কার নির্দেশে এই অবরোধ জানতে চাওয়া হলে সদুত্তর দিতে পারেননি এই জনপ্রতিনিধিরা। শুক্রবার ফের একই ‘অজুহাত’ দেখিয়ে ওন্দায় অবরোধ হল জাতীয় সড়ক। সেখানে হাজির ছিলেন ওন্দা ব্লকের তৃণমূল সভাপতি অশোক চট্টোপাধ্যায়ও। দু’টি ক্ষেত্রেই দলীয় কর্মীদের পথ অবরোধের কর্মসূচির কোনও আগাম খবর তাঁর কাছে ছিল না বলে দাবি করেছেন জেলা তৃণমূল সভাপতি তথা ওন্দার বিধায়ক অরূপ খা।ঁ রবিবারের পথ অবরোধের খবর শুনে ‘এটা কাম্য নয়, কারা করল খোঁজ নিয়ে দেখছি’ বলে প্রতিক্রিয়া দিয়েছিলেন অরূপবাবু। আর এ দিন অবরোধ হয়েছে তাঁর বিধানসভা এলাকাতেই। অরূপবাবু অবশ্য বলেন, “ভেদুয়াশোলে পথ অবরোধ হয়েছে বলে জানি না তো। আমি খোঁজ নিয়ে দেখছি।”

Advertisement

জেলা সভাপতিও সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, মদন মিত্রকে গ্রেফতারের প্রতিবাদে আন্দোলন হবে, ঠিকই। কিন্তু, সাধারণ মানুষকে ভোগান্তিতে ফেলে পথ অবরোধ দল মেনে নেবে না। তার পরেও ব্যস্ত জাতীয় সড়ক আটকে ফেলছেন তাঁর দলের কর্মীরাই। এ দিনের অবরোধ বড়সড় আকার না নিলেও বাঁকুড়া ও বিষ্ণুপুরগামী বেশ কিছু বাস, ট্রাক আটকে পড়ে রাস্তায়। অবরোধের খবর ছড়িয়ে পড়তেই বিভিন্ন বাস দেরিতে স্ট্যান্ড থেকে ছাড়তে শুরু করে। বাঁকুড়া থেকে বাড়ি ফেরার পথে অবরোধে আটকে পড়া বিষ্ণুপুর শহরের বৈলা পাড়ার এক বাসিন্দার ক্ষোভ, “কোন আক্কেলে যে পথ অবরোধ করছেন শাসকদলের নেতাৃকর্মীরা তা বোধগম্য হচ্ছে না। দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছেন শাসকদলের এক জন মন্ত্রী। কিন্তু, তার জন্য সাধারণ মানুষকেই ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। সব দেখে শুনে মনে হচ্ছে, প্রশাসন বলে কোনও বস্তু নেই রাজ্যে।” এক বাসকর্মী জানালেন, মদনবাবু গ্রেফতার হওয়ার পর থেকে প্রতিদিন সকালে রীতিমতো খোঁজখবর নিয়ে রাস্তায় বাস নামাচ্ছেন তাঁরা। সকলের মধ্যেই অবরোধ নিয়ে একটা আতঙ্ক তৈরি হয়ে গিয়েছে। উল্লেখ্য, শুধু ৬০ নম্বর জাতীয় সড়কেই নয়, মদন-কাণ্ডে গোটা জেলা জুড়েই প্রায় রোজ অবরোধ বা রাস্তা আটকে মিছিলে নামছেন তৃণমূল কর্মীরা।

ব্লক সভাপতি অশোকবাবুর অবশ্য দাবি, শালতোড় অঞ্চলের কর্মীরা পথসভার আয়োজন করেছিল। কুশপুতুল পোড়াতে গিয়ে ১০ মিনিট রাস্তা অবরোধ হয়েছিল। একই সঙ্গে তাঁর আশ্বাস, ওন্দা ব্লকে আর অবরোধ হবে না। এই আশ্বাসে অবশ্য ভরসা পাচ্ছেন না সাধারণ মানুষ। তৃণমূলের এই কর্মসূচির নিন্দা করছেন বিরোধীরাও। বিজেপি-র রাজ্য সহ-সভাপতি সুভাষ সরকারের কটাক্ষ, “শাসক দলের কর্মীদের উপরে নেতাদের কোনও নিয়ন্ত্রণ নেই। এক দিকে দলের নেত্রী বলছেন অবরোধ চলবে না। আবার অন্যি দকে দলের জনপ্রতিনিধিরাই কর্মীদের নিয়ে রাস্তা আটকে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন। আসলে তৃণমূলের মাথা বলে কেউ নেই!”

দলের উপর নিয়ন্ত্রণ নেই, এমন কথা অবশ্য মানতে নারাজ অরূপবাবু। তাঁর বক্তব্য, “এ সব মিথ্যা কথা। দলের কর্মীরা নেতৃত্বের নির্দেশ মেনেই চলেন।” তার পরেও কেন রাস্তা অবরোধের আগে জেলা সভাপতির অনুমতি নেওয়া হচ্ছে না? জেলা তৃণমূল সভাপতির জবাব, “আসলে মদন মিত্র গ্রেফতার হওয়ার পরে কর্মীরা ক্ষুব্ধ। তাই কিছু পদক্ষেপ করে ফেলছেন। আমি কর্মীদের অবরোধ না করার নির্দেশ দিচ্ছি।”

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement