নিয়মকে থোড়াই তোয়াক্কা, যানজটে ফেঁসে বিষ্ণুপুর

সবিস্তার জানতে ক্লিক করুন।দৃশ্য ১: বোলতলার মোড়। বাস থামিয়ে চলছে যাত্রী তোলা। পিছনে চার-পাঁচটি ছোট গাড়ি। জটলার চারপাশে ছড়িয়ে রয়েছে আরও কয়েকটি মোটরবাইক, সাইকেল। তারস্বরে হর্ন বাজিয়ে যাচ্ছে। বাসের নড়াচড়া নেই। মিনিট দশেক পরে বাস হেলোদুলে এগোল। মিনিট পনেরোর মধ্যে আবার সেই একই জট।

Advertisement

স্বপন বন্দ্যোপাধ্যায়

শেষ আপডেট: ০৯ অগস্ট ২০১৪ ০১:২১
Share:

বোলতলা

দৃশ্য ১: বোলতলার মোড়। বাস থামিয়ে চলছে যাত্রী তোলা। পিছনে চার-পাঁচটি ছোট গাড়ি। জটলার চারপাশে ছড়িয়ে রয়েছে আরও কয়েকটি মোটরবাইক, সাইকেল। তারস্বরে হর্ন বাজিয়ে যাচ্ছে। বাসের নড়াচড়া নেই। মিনিট দশেক পরে বাস হেলোদুলে এগোল। মিনিট পনেরোর মধ্যে আবার সেই একই জট।

Advertisement

দৃশ্য ২: গোপালগঞ্জ এলাকার রাস্তা একমুখী। বাসস্ট্যান্ড থেকে আরামবাগ, সোনামুখীর বাস ও গাড়ি এই রাস্তা ধরে বেড়িয়ে যায়। কিন্তু রাস্তা একমুখী বলে ঘোষণা করা হলেও কে সেই নিয়মের তোয়াক্কা করে? দু’দিক দিয়েই চলে আসে গাড়ি। ফলে ঘিঞ্জি রাস্তায় মুখোমুখী গাড়ি চলে আসায় যানজট লেগেই রয়েছে।

দৃশ্য ৩: চকবাজারের ঘিঞ্জি রাস্তার উপরেই সকালের দিকে পসরা নিয়ে বাজার বসে যায়। বাজারে আসা লোকজনের মোটরবাইক, সাইকেলও রাস্তার অনেকখানি দখল করে নেয়। এর ফলে সঙ্কীর্ণ রাস্তায় গাড়ি চলাচলের জায়গা প্রায় উধাও হয়ে গিয়েছে। যার জেরে বছরের ৩৬৫ দিনই এখানে যানজটে জেরবার মানুষজন।

Advertisement

বছরের পর বছর ধরে এই জটেই পাকিয়ে রয়েছে বিষ্ণুপুর। জট আর খোলে না। থমকে গিয়েছে শহরের গতি। গাড়ি নিয়ে চলাচলে যেমন বাধা, পায়ে হেঁটেও ওই তিন এলাকা পার হওয়া দুর্গম। প্রশাসন শহরের কয়েকটি রাস্তা একমুখী (ওয়ানওয়ে) ঘোষণা করে যান নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই তা মানা হয় না। নিয়মভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থাও নিতে সে ভাবে দেখা যায় না। ফলে নিয়মভাঙাটাই যেন এই সব এলাকার ‘নিয়ম’ হয়ে উঠেছে। বাসিন্দাদের একাংশ এ জন্য প্রশাসন ও পুলিশের উপর ক্ষিপ্ত। তাই যানজট সমস্যা থেকে মুক্তি ঘটেনি। ফলে অফিস, স্কুল, কলেজে বের হয়ে সময়ে পৌঁছতে অনেকে নাকাল হচ্ছেন।

মল্লরাজাদের একসময়কার রাজধানী বিষ্ণুপুর শহর অপরিকল্পিত ভাবে বেড়ে উঠেছে। ফলে শহরের রাস্তা বেশ সঙ্কীর্ণ। ওই রাস্তায় পথচারী ও গাড়ির চাপও বছরের পর বছর বাড়ছে। এ দিকে রাস্তা বেদখল করে দোকান বসানোও বন্ধ হচ্ছে না। ফলে যানজট বিষ্ণুপুর পুরবাসীর কাছে জ্বলন্ত সমস্যা হয়ে উঠেছে।

বিকল কিয়স্ক। যান নিয়ন্ত্রণের সিগন্যাল ব্যবস্থা বন্ধ। ছবি: শুভ্র মিত্র।

বাসিন্দাদের অভিজ্ঞতা, বোলতলা থেকে গোপালগঞ্জ হয়ে রসিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ডে যাওয়ার রাস্তাটি একমুখী। কিন্তু যখন-তখন অলিগলি থেকে ট্রেকার ও ছোটগাড়ি ওই রাস্তায় ঢুকে পড়ে নিয়ম ভাঙছে। গাড়িতে গাড়িতে ঠাসা সরু রাস্তায় ঢুকে পথচারীরা জেরবার হচ্ছেন। বাসিন্দাদের দাবি, বোলতলার তেমাথায় ট্রাফিকের নিয়মিত নজরদারি থাকলে এই সমস্যা এতটা প্রকট হত না। বিষ্ণুপুর থানার নাকের ডগায় শহরের প্রাণকেন্দ্র চকবাজারেও কী ভাবে নিয়ম ভাঙা হচ্ছে তা নিয়েও অনেকে অবাক হন। গাড়ি চালক ও ব্যবসায়ীদের একাংশ নিয়মের তোয়াক্কা না করাতেই যানজট লাগছে। বিশেষ করে অফিস ও স্কুলে যাওয়ার সময় চকবাজারের তেমাথার মোড় থেকে থানাগোড়া পর্যন্ত রাস্তাটি হাঁটাচলারও জায়গা থাকে না। কারণ, রাস্তার দু’পাশ দখল করে বসে থাকে সব্জি বাজার। রেডিমেড পোশাক ও দৈনন্দিন গৃহস্থালী জিনিসপত্র নিয়েও বসে যান ছোটখাটো ব্যবসায়ীরা। যদিও শহরের পুরপ্রধান শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় বলেন, “রাস্তার পাশে বসে পড়া সব্জী ব্যবসায়ীদের মূল রাস্তা থেকে অনেকটা সরিয়ে আনা গিয়েছে। যানজট এড়াতে নতুন কিছু পরিকল্পনার কথা ভাবা হচ্ছে।”

একই ভাবে কুরবানতলা যাওয়ার একমুখী রাস্তায় উল্টো দিক থেকে নিয়ম ভেঙে গাড়ি ঢোকায় দৈন্যন্দিন জট লেগেই থাকে। বাসস্ট্যান্ড থেকে বেরিয়ে ঝাঁপড়মোড়ের তেমাথাতেও যানজট লেগে যায় যখন-তখন। ওই রাস্তার নিয়মিত যাত্রী অনিন্দ্য মুখোপাধ্যায় বলেন, “রাস্তার পাশে ট্রাক থামিয়ে মাল ওঠা-নামানো হয়। এ জন্য যানজট লেগে যাচ্ছে। শুধু যে পুরবাসী নাকাল হচ্ছেন তা নয়, কলকাতার দিক থেকে আসা ট্যুরিস্ট গাড়িগুলি চকবাজার হয়ে শহরে ঢোকে। জটে সেই সব গাড়িও আটকে পড়ছে।” বাসিন্দাদের প্রশ্ন, এই শহরে কী ট্রাফিক ব্যবস্থা বলে কিছু আছে? বাসস্ট্যান্ড মোড়ে, ঝাপড়মোড়-সহ কয়েকটি ব্যস্তবহুল এলাকায় কয়েক বছর আগে ট্রাফিক সিগন্যাল বসানো হয়েছিল। কিন্তু সেগুলি বিকল হয়ে পড়ে রয়েছে। সারানো হয়নি।

পুলিশের দাবি, চকবাজার, বোলতলা ও ঝাঁপড়মোড়ে ট্রাফিক পুলিশ থাকে। বাসিন্দাদের পাল্টা প্রশ্ন, তা সত্ত্বেও যানজট কেন? এসডিপিও (বিষ্ণুপুর) পরাগ ঘোষ জানিয়েছেন, সমস্যাটির উপরে তাঁদের নজর রয়েছে। শহরের আর কয়েকটি এলাকায় যান নিয়ন্ত্রণের চিন্তাভাবনা চলছে। তিনি বলেন, “যান নিয়ন্ত্রণের জন্য আমাদের পুলিশ কর্মীর সংখ্যা কম। তবুও সিভিক পুলিশ দিয়ে কুরবানতলা-সহ আরও কয়েকটি জায়গায় ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের চিন্তা-ভাবনা চলছে। বাসিন্দাদেরও সহযোগিতা করতে হবে। সবাই এগিয়ে এলে যানজটের সমস্যা মিটে যাবে।”

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement