নবীনবরণ অনুষ্ঠানে সংঘর্ষ

বাঁকুড়া খ্রিস্টান কলেজে নবীনবরণের দিন ঝামেলা অব্যাহত রইল এ বারও। তবে অন্যবার তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সঙ্গে এসএফআই কর্মী-সমর্থকদের মারপিট হয়। এ বার কিন্তু প্রতিপক্ষ বদলে টিএমসিপির সঙ্গে হাতাহাতি বাধল কলেজের হস্টেলের আবাসিক ছাত্রদের। ঘটনায় জখম হয়েছে এক আবাসিক ছাত্র। বুধবারের ঘটনা।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৫ ০০:৫৫
Share:

বাঁকুড়া খ্রিস্টান কলেজে নবীনবরণের দিন ঝামেলা অব্যাহত রইল এ বারও। তবে অন্যবার তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সঙ্গে এসএফআই কর্মী-সমর্থকদের মারপিট হয়। এ বার কিন্তু প্রতিপক্ষ বদলে টিএমসিপির সঙ্গে হাতাহাতি বাধল কলেজের হস্টেলের আবাসিক ছাত্রদের। ঘটনায় জখম হয়েছে এক আবাসিক ছাত্র। বুধবারের ঘটনা।

Advertisement

কলেজ সূত্রে খবর, নবীনবরণ উপলক্ষে এ দিন অর্কেস্ট্রা দল এনে কলেজের হল ঘরে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে হস্টেলের আবাসিকদের জন্য আলাদা করে বসার ব্যবস্থা ছিল। অনুষ্ঠান চলাকালীন হলঘরের ভিতরেই হঠাৎ বচসায় জড়িয়ে পড়ে পড়েন কিছু আবাসিক ছাত্র ও টিএমসিপির ছাত্র সংসদের ছেলেরা। হলঘর থেকে বেরিয়েই শুরু হয় হাতাহাতি। ঘটনায় জখম হয়েছেন তৃতীয়বর্ষের এক আবাসিক ছাত্র। তাঁকে বাঁকুড়া মেডিক্যালে নিয়ে গিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা করানো হয়।

মারপিটের খবর পেয়েই পুলিশ কলেজে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। আবাসিক ছাত্রদের অভিযোগ, “টিএমসিপির কিছু বহিরাগত অনুষ্ঠান চলাকালীন কলেজের ছাত্রীদের উত্ত্যক্ত করছিল। আমরা সেই ঘটনার প্রতিবাদ করাতেই বচসা বাধে। হলঘর থেকে আমাদের বের করে মারতে মারতে হস্টেলে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।” অন্যদিকে কলেজের ছাত্রসংসদের দাবি, হস্টেলের আবাসিক ছাত্রেরা নির্দিষ্ট জায়গা থেকে উঠে গিয়ে মঞ্চের সামনে নাচানাচি করছিল। টিএমসিপির ছেলেরা তাঁদের নিজের জায়গায় গিয়ে বসতে বলাতেই বচসা শুরু করে। তাদের অভিযোগ, আবাসিক ছাত্রেরাই প্রথমে ছাত্র সংসদের ছেলেদের মারধর করে। কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ফটিক মণ্ডল বলেন, “নবীনবরণ অনুষ্ঠানে কলেজের বাইরের কিছু ছেলে এসেছিল। একটু ঝামেলাও হয়েছে। তবে পুলিশ এসে দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। এক ছাত্র জখম হয়েছে। তাঁকে বাঁকুড়া মেডিক্যালে চিকিৎসা করিয়ে আনা হয়েছে।”

Advertisement

রাজ্যে পালাবদলের পরবর্তী ছাত্র সংসদ নির্বাচন থেকেই জেলার একের পর এক কলেজ হাতছাড়া হতে থাকে সিপিএমের ছাত্র সংগঠন এসএফআই-এর। গত কলেজ নির্বাচনে জেলার কোথাও প্রার্থীই দিতে পারেনি তারা। বর্তমান পরিস্থিতিতে কলেজগুলিতে এসএফআই-এর অস্তিত্ব নিয়েই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। বাঁকুড়া খ্রিস্টান কলেজের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে এসএফআই-এর সঙ্গে টিএমসিপির সংঘর্ষ প্রায় নিয়মিত ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। তবে এ বার প্রতিপক্ষ বদলে এসএফআই-এর বদলে কলেজের আবাসিক ছাত্রদের দেখা গিয়েছে।

এসএফআই-এর রাজ্য সম্পাদক মণ্ডলীর সদস্য ধর্মেন্দ্র চক্রবর্তীর দাবি, “টিএমসিপির গোষ্ঠীদ্বন্দ্বেই এ দিনের ঝামেলা হয়েছে। কারণ হস্টেলের টিএমসিপির একটা অংশের সঙ্গেই এই বিবাদ হয়েছে বলে আমার কাছে খবর এসেছে। জেলার নানা কলেজে তৃণমূলের একাধিক গোষ্ঠী তৈরি হয়েছে। ফলে এই ধরনের ঘটনা আরও ঘটবে বলেই আমি আশঙ্কা করছি।”

তৃণমূলের ছাত্র-যুব নেতা শিবাজী বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য, “ছাত্রদের নিজেদের মধ্যে মনোমালিন্য থেকে এই ঘটনা। এর সঙ্গে দলের কোনও সম্পর্কই নেই।” এ দিন সন্ধ্যে পর্যন্ত ঘটনাটি নিয়ে বাঁকুড়া সদর থানায় কোনও পক্ষই অভিযোগ করেনি বলে জানিয়েছে পুলিশ।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement
Advertisement