পাচার আটকে সাঁইথিয়ায় গণপিটুনি রেশন ডিলারকে

হাতে-নাতে ধরতে হবে রেশন ডিলারকে। সে কারণে কয়েক দিন ধরেই ওঁত পেতে ছিলেন গ্রামবাসী। সে সুযোগ আসে বৃহস্পতিবার রাতে। নজরদারিতে থাকার সময় কয়েক জন দেখতে পান, সাড়ে দশটা নাগাদ একটি ছোট গাড়িতে করে গম মজুত করা হচ্ছে ডিলারের আত্মীয়ের বাড়িতে! এ নিয়ে রাতে আর হইচই না করে রেশনের জিনিস ফের অন্য কোথাও পাচার করা হচ্ছে কিনা, তা দেখতে ডিলার ও তাঁর দুই আত্মীয়ের বাড়িতে পালা করে নজরদারি চলে।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ ০২:০৯
Share:

মারধর করে পুকুরে ফেলে দেওয়া হয়েছে অভিযুক্ত রেশন ডিলারের আত্মীয়দের। (ইনসেটে) মার চলছে ডিলারকে। শুক্রবার তোলা নিজস্ব চিত্র।

হাতে-নাতে ধরতে হবে রেশন ডিলারকে। সে কারণে কয়েক দিন ধরেই ওঁত পেতে ছিলেন গ্রামবাসী। সে সুযোগ আসে বৃহস্পতিবার রাতে। নজরদারিতে থাকার সময় কয়েক জন দেখতে পান, সাড়ে দশটা নাগাদ একটি ছোট গাড়িতে করে গম মজুত করা হচ্ছে ডিলারের আত্মীয়ের বাড়িতে! এ নিয়ে রাতে আর হইচই না করে রেশনের জিনিস ফের অন্য কোথাও পাচার করা হচ্ছে কিনা, তা দেখতে ডিলার ও তাঁর দুই আত্মীয়ের বাড়িতে পালা করে নজরদারি চলে।

Advertisement

শুক্রবার সকাল হতেই সাঁইথিয়ার বড়সিজে গ্রামে ডিলারের বাড়িতে চড়াও হন গ্রামবাসী। গম পাচারের অভিযোগ নিয়ে ঘুম থেকে তুলে বারান্দায় আটকে রাখা হয় রেশন ডিলার বদরুল আলমকে। এরপর তাঁর দুই সম্পর্কিত ভাই, পিসির ছেলে কবিরুল ইসলাম এবং মাসির ছেলে ফারুক আবদুল্লার বাড়িতে চড়াও হন। দুই আত্মীর বাড়ি থেকে উদ্ধার হয় বস্তা বস্তা গম। এরপর তিন জনকেই বাড়ি থেকে বের করে শুরু হয় গণপিটুনি। এরই মাঝে পালাতে গিয়ে ধরা পড়ে যায় রেশন দোকানের কর্মী আক্তারুল আলম। তাকে ঘিরেও চলে মার। কোনও ক্রমে সে পালায়।

মারধরের খবর পেয়ে পৌঁছয় পুলিশ। উত্তেজিত গ্রামবাসীর হাত থেকে পুলিশ কোন রকমে ডিলার-সহ তিন জনকে উদ্ধার করে। ক্ষুব্ধ জনতা তারপরেও পুলিশের গাড়ি থেকে অভিযুক্তদের নামানোর চেষ্টা করে। জেলা পুলিশের এক কর্তা জানান, গ্রামবাসীর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে ওই তিন জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আজ, শনিবার তাদের সিউড়ি আদালতে হাজির করানো হবে।

Advertisement

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বড়সিজে গ্রামের বাসিন্দা বদরুল আলমের রেশনের দোকান বেশ পুরনো। ১৯৮৯ সালের। এলাকায় প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার লোকের বাস। সকলেরই বদরুল আলমের অধীনে। অভিযোগ, তিনি কাউকেই প্রাপ্য জিনিস দেন না। গ্রামবাসীদের পক্ষে মানিক হাসান, আজিজুল মল্লিকদের অভিযোগ, ‘‘ডিলারকে বহু বার সতর্ক করা হয়েছে। তারপরেও কোনও কথা কানে নেয়নি।’’ এক বাসিন্দার আবার অভিযোগ, ‘‘সাঁইথিয়া থেকে রেশনের মাল এনে রাতের অন্ধকারে তা পাচার করত। সে সময়ে জাম্পার নামিয়ে বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করে দিত।’’ দীর্ঘ দিনের ক্ষোভ থেকেই গণপিটুনি, মানছে পুলিশও।

কী বলছেন ডিলার?

তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা যাবতীয় অভিযোগ উড়িয়ে বদরুল আলমের দাবি, ‘‘ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে মারধর করা হয়েছে।’’ আরেক অভিযুক্ত কবিরুল ইসলামেরও দাবি, বাড়িতে মজুত গমের বিষয়ে তিনি কিছুই জানতেন না! একই দাবি ফারুক আবদুল্লারও। এলাকার পঞ্চায়েত সদস্য তথা ফুলুর পঞ্চায়েতের প্রধান তৃণমূলের মহম্মদ ইউসুফ নিজেও ডিলারের বিরুদ্ধে পুঞ্জীভূত ক্ষোভের কথা মেনেছেন। তিনি বলেন, ‘‘২০০৬-০৭ সালে রাজ্যজুড়ে রেশন-কাণ্ড নিয়ে গোলমালের সময়েও ওই ডিলারের সঙ্গে ঝামেলা হয়।’’

আলোচনা সভা। যোগাযোগের সাম্প্রতিক গতিপ্রকৃতি নিয়ে আলোচনাসভা হল বর্ধমান বিবেকানন্দ কলেজে। সাংবাদিকতা বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত এই সভায় ছিলেন কলেজের অধ্যক্ষ শিবপ্রসাদ রুদ্র। প্রধান বক্তা ছিলেন বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগের প্রধান রাজেশ দাস।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement