বৃষ্টি হলেই ভাসে সাঁইথিয়া বাসস্ট্যান্ড

বৃষ্টি হলেই ভাসান। আর সেই জল-ভাসানে বাস নয়, নৌকা নামানোর জোগাড়! ছিটেফোঁটা বৃষ্টি হলেই এমনই বেহাল অবস্থা ফুটে ওঠে সাঁইথিয়া বাসস্ট্যান্ডের। যত্রতত্র ছোট ছোট খালের জমা জল ও কাদাতে বাসস্ট্যান্ড চত্বরে ঢোকা বেরনো করাটাই দায়। কিন্তু কোনও উপায় নেই সাধারণ যাত্রীদের। বাধ্য হয়েই তাঁরা ওই জল কাদা ডিঙিয়েই বাসে ওঠা-নামা করেন।

Advertisement

ভাস্করজ্যোতি মজুমদার

শেষ আপডেট: ০৪ জুলাই ২০১৫ ০১:৫৭
Share:

কবে সারবে? কর্দমাক্ত বাসস্ট্যান্ড চত্বর। —নিজস্ব চিত্র।

বৃষ্টি হলেই ভাসান। আর সেই জল-ভাসানে বাস নয়, নৌকা নামানোর জোগাড়!

Advertisement

ছিটেফোঁটা বৃষ্টি হলেই এমনই বেহাল অবস্থা ফুটে ওঠে সাঁইথিয়া বাসস্ট্যান্ডের। যত্রতত্র ছোট ছোট খালের জমা জল ও কাদাতে বাসস্ট্যান্ড চত্বরে ঢোকা বেরনো করাটাই দায়। কিন্তু কোনও উপায় নেই সাধারণ যাত্রীদের। বাধ্য হয়েই তাঁরা ওই জল কাদা ডিঙিয়েই বাসে ওঠা-নামা করেন।

গত কয়েক দিনের বৃষ্টিতে সেই ভোগান্তি আরও বেড়েছে। সমস্যা আরও আছে। বাসস্ট্যান্ড চত্বরে দাঁড়ানো বা বসার তেমন কোনও ব্যবস্থা নাই। দীর্ঘদিন আগে বাস মালিক কর্তৃপক্ষরা টিনের একটি শেড ও বসার জন্য ক’টি সিমেন্টের বেঞ্চ বানিয়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু যাত্রী সংখ্যার তুলনায় শেডটি অত্যন্ত ছোট। ফলে শীত, গ্রীষ্ম বা বর্ষায় কিছু যাত্রী শেডের নীচে বসা বা দাঁড়ানোর সুযোগ পেলেও বাকিদের ভোগান্তির শেষ থাকে না। বিশেষ করে বর্ষার সময় চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয় যাত্রীদের।

Advertisement

বাসস্ট্যান্ডের বড় সমস্যা হল টয়লেটের সমস্যাও। একটা পে টয়লেট আছে ঠিকই। কিন্তু তা থাকা না থাকা সমান। কারণ ওই টয়লেটের দরজা ভাঙা। কাজেই ‘পে’-র কোনও প্রশ্নই নেই। কেউ বা কারা তা চরম নোংরা করে রেখেছে। টয়লেট করা তো দূরের কথা, দুর্গন্ধে কাছেই যাওয়া যায় না। এমনই দাবি বাস কর্মী, দুটি বাস মালিক সমিতির কার্যালয় কর্মী থেকে বাস যাত্রীদের। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাম আমলে এই জায়গা অধিগ্রহণ করে বাসস্ট্যান্ড গড়ে তোলে তৎকালীন রাজ্য সরকার মনোনীত সাঁইথিয়ার নোটিফায়েড বোর্ড। সে আশির দশকের শেষের দিকের কথা। পুরসভা ঘোষণার পর প্রথম নির্বাচন থেকেই এই শহরের ক্ষমতা দখল করে কংগ্রেস।

রাজ্য বামফ্রন্ট সরকার, আর এই শহরের পুরবোর্ডে ক্ষমতায় কংগ্রেস। ফলে রাজনৈতিক টানাপোড়েনে এই শহরের সমস্ত উন্নয়নের ক্ষেত্রেই পিছিয়ে হয়ে থাকে। এই বাসস্ট্যান্ডও সেই রাজনৈতিক চক্রব্যুহ্যের বাইরে নয়। ফলে জেলার অন্যতম সতীপীঠ ও বাণিজ্যকেন্দ্র হওয়া সত্বেও বাসস্ট্যান্ডের হাল ফেরেনি। রাজ্যে পালা বদলের পরেও না। কারণ সেই রাজনীতি। রাজ্যে তৃণমূল আর এই শহরে সেই কংগ্রেস। অবশেষে ২০১৩-র শেষের দিকে অবসান ঘটল সেই রাজনৈতিক চক্রব্যুহ্যের। সাঁইথিয়ার কংগ্রেস নেতৃত্ব অধিকাংশ দলীয় পুর কাউন্সিলারদের নিয়ে তৃণমূলে যোগ দেওয়ায় রাজ্য ও এই শহরে শাসক দলের তকমা পেল তৃণমূল কংগ্রেস।

স্থানীয় মানুষ এতে আশা করেছিলেন এবার হয়ত এই শহরের বাসস্ট্যান্ড-সহ সবকিছুর উন্নয়ন হবে। কারণ আর রাজনৈতিক জাঁতাকল ‘তুমি-আমি’ ভেদ নেই। কিন্তু এখনও এই শহরের বাসস্ট্যান্ড বা অন্য কোনও ব্যাপারে তেমন উন্নয়ন চোখে পড়েনি। যদিও পুরপ্রধান নতুন এবং আধুনিক বাসস্ট্যান্ড, ময়ূরাক্ষী ফেরী ঘাটের আধুনিকিকরণ, বাড়ি বাড়ি পানীয় জলের ব্যবস্থা, বিনোদন পার্ক সহ উন্নয়নের একগুচ্ছ প্রকল্পের কথা শুনিয়েছেন।

কী বলছেন নিত্য যাঁরা দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন?

বাস যাত্রী আমোদপুরের প্রতিমা রুজ, সাঁইথিয়ার বসন্ত রুজ, রামপুরহাটের শৈলেন রায়, বহরমপুরের রফিকুল ইসলাম, সিউড়ির প্রবাল রায়, মহম্মদবাজারের জ্যোতিপ্রিয় দাসরা জানান, উপায় নেই তাই সাঁইথিয়ার মতো বাসস্ট্যান্ডে আসতে হয়। এমন বাসস্ট্যান্ডের কথা আর ভাবা যায় না। রোদ বৃষ্টিতে দাঁড়ানো বা বসার জায়গা পর্যন্ত নেই। সামান্য বৃষ্টি হলেই জল কাদায় ভর্তি হয়ে যায়। প্রায় একই কথা বললেন বাস চালক খোকন চন্দ্র, শেখ মহম্মদ আয়ুব, সঞ্জয় মণ্ডল, বাস-কর্মী বাম শেখ, সুজিত সাহা, স্ট্যান্ড কিপার তরুণ সেন থেকে বাস মালিক কল্যাণ সমিতি ও বীরভূম জেলা বাস মালিক সমিতির দুই সভাপতি ত্রিদীপকান্তি ঘোষ ও বদ্রিনারায়ণ দে’রা।

তাঁদের ক্ষোভ, বাসস্ট্যান্ডের কথা আর বলবেন না। চালক খালাসিরা জীবনের ঝুকি নিয়ে কাজ করছেন। জল কাদা, ঠিকমতো বসা বা দাঁড়ানোর জায়গা, শৌচাগার— কোন সুযোগ সুবিধাই নেই এখানে। অথচ, প্রতিদিন গড়ে ৮০-৯০টা বাস আসে যায়। ফলে প্রয়োজনে এই বাসস্ট্যান্ড ব্যবহার করতে বাধ্য হন যাত্রীরা। তাঁদের কথায় সাঁইথিয়া হল জেলার অন্যতম সতিপীঠ এবং বাণিজ্য কেন্দ্র। অথচ এখানকার প্রশাসন এখনও পর্যন্ত তেমন কোনও ব্যবস্থা নেয়নি।

পুর প্রধান বিপ্লব দত্ত বলেন, ‘‘আমরা আগেই ঘোষণা করেছিলাম, সাঁইথিয়ায় নতুন আধুনিক বাসস্ট্যান্ড গড়া হবে। ইতিমধ্যে সেই কাজ শুরু হয়ে গেছে, সেচ দফতরের কাছ থেকে পাওয়া জায়গায়। ওই কার্যালয় চত্বরের কাছে সিউড়ি সোজা রাস্তার ধারে পুরসভা অনেক আগেই পে টয়লেট করে দিয়েছিল। তা পুনরায় সারিয়ে ব্যবহারের উপযুক্ত করে দেওয়া হবে। যতদিন পর্যন্ত নতুন বাসস্ট্যান্ড না হচ্ছে ততদিন পর্যন্ত যাত্রী সাধারণের সুবিধার জন্য কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হবে। যেমন ইতিমধ্যেই মোড়াম ও পাথরের ঘেস দিয়ে খাল বুজিয়ে দেওয়া হয়েছে।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement