কবে শুরু হবে? মিলছে না সদুত্তর। —ফাইল চিত্র
বছর শেষের এই সময়ে সাধারণত ধান চাষিদের মুখে একটু হাসি দেখা যায়। কিন্তু এবার তাতে বাধ সেধেছে ধানের বাজার দর। এমনিতে সরকার ঘোষিত ধানের দর কুইন্টাল প্রতি ১৪১০ টাকা। কিন্তু এই মরসুমে নতুন ধান বিক্রি করে চাষিরা পাচ্ছেন কুইন্টাল প্রতি মাত্র ৮৫০-৯৫০ টাকা।
বীরভূম জেলা রাইস মিল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি দীপক প্রামাণিক জানান, জেলার রাইস মিলগুলিতে নতুন ধান কেনা হচ্ছে ১১০০ টাকা দরে। কিন্তু স্থানীয় চাষিদের সূত্রে জানা যায়, আড়তদারদের কাছে সেই ধান বিক্রি করে মিলছে আরো কম টাকা। অথচ ডাল সহ বাকি সব কিছুর দাম সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে অনেক বেশি।
জেলা কৃষি দফতর সূত্রে অশ্বাস দেওয়া হয়েছে, সরকারি ভাবে ধান কেনা শুরু হলেই সমস্যার সমাধান হবে। ছোট ও প্রান্তিক চাষিদের অবশ্য তাতেও কোনও ভরসা মিলছে না। তাঁরা জানান, প্রতি বছর এই সময় ধান বিক্রি করে ছোট চাষিরা ধারদেনা মিটিয়ে জমিতে সরষে বা আলু লাগান। অথবা রবি চাষ শুরু করে দেন। কিন্তু ধানের সরকার নির্ধারিত দাম প্রায় কোনও বারই মেলে না। এবার দাম এতই কম যে মাথায় হাত পড়ে গেছে চাষিদের। তাঁদের অভিযোগ, সরকারি ভাবে ধান কেনা শুরু হতে এতটাই দেরি হয় যে ততদিনে অধিকাংশ ছোট বা প্রান্তিক চাষিই তাঁদের ধান বিক্রি করে দিতে বাধ্য হন।
জেলার ছোট ও প্রান্তিক চাষিরা জানান, সরকার যদি গরিব চাষিদের কথা চিন্তা করে সঠিক দামে ধান কেনার উদ্যোগ নিলেও ধান ওঠার মরসুমের শুরু থেকেই ধান কেনা শুরু না বলে উদ্যোগের অনেকটাই মাঠে মারা যায়। তাঁদের অভিযোগ, ফড়েরা সেই ধান কিনে পরে অনেক বেশি দামে সরকারকেই বিক্রি করে। তাঁরা বলেন, ধানের দর নির্ধারণ করে দেওয়ার পাশাপাশি চাষিরা যাতে সেই দাম পায় সরকারের তরফে সেটাও নিশ্চিত করা দরকার।
ময়ূরেশ্বর এলাকার বাসিন্দা, ছোট চাষি তরণী মন্ডল বলেন, ‘‘সামান্য জমি রয়েছে। চাষ করে কোনও রকমে ছেলে-মেয়ের পড়াশোনা ও আর সংসারের খরচ চলে। পুজোর সময় বাড়ির সকলের জামা কাপড় কিনতে বাজারে কিছু দেনাও হয়ে যায়’’। তিনি বলেন, সরকার কবে ধান কেনা শুরু করবে তার অপেক্ষায় তো বসে থাকা যায় না। তরণীবাবুর চেয়েও বেশি দুঃশ্চিন্তায় রয়েছেন ওই এলাকার প্রান্তিক চাষি বনেশ্বর বাগদি। তিনি বলেন, ‘‘এমনিতেই নুন আনতে পান্তা ফুরায়। তারপর ধানের দাম নেই। সারা বছর কী করে চলবে তাই ভাবছি’’। একই দশা মল্লারপুরের প্রান্তিক চাষি নারায়ন বায়েন, প্রনব লেট, মাড়গ্রাম তেঁতুলিয়ার নিমাই মন্ডল, মহম্মদবাজার এলাকার জনার্দন লেট, গোলাম কিবরিয়া, রাজনগর এলাকার পবন বাউড়ি, মরু শেখ, সাঁইথিয়া এলাকার সরন মন্ডল, বাতাই শেখ, মঙ্গলা হাঁসদার মতো অনেক ছোট ও প্রান্তিক চাষির।
জেলার চাষিদের অভিযোগ, প্রতি বারই সরকার নির্ধারিত দামে ধান বিক্রি নিয়ে হৈচৈ হয়। কিন্তু বাস্তবে চাষিরা সেই দাম পান না। ধানের দাম নিয়ে জেলা বিপনন দফতর কিছু বলতে রাজি হয়নি। এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে জেলা কৃষি আধিকারিক প্রদীপ কুমার মন্ডল জানান, নতুন ধান সবে উঠতে শুরু করেছে।এখন ধান কিছুটা কাঁচা থাকে। আর এই ধান পুরোপুরি পরিস্কারও হয় না। কিছু ফড়ে তাদের মত করে ওই ধান কিনছেন। কিছু দিনের মধ্যই সরকারি ভাবে ধান কেনা শুরু হলে সমস্যার সমাধান হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।