রুট ভাড়া দিয়ে লক্ষ্মী-লাভ এসবিএসটিসি’র

রুট ভাড়া দিয়ে লাভের মুখ দেখল দক্ষিণবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ নিগমের পুরুলিয়া ডিপো। কয়েক মাস আগে নিগমের নির্দিষ্ট কয়েকটি দূরপাল্লার রুটে গাড়ি চালানোর দায়িত্ব বেসরকারি মালিকানার হাতে দেওয়া হয়। মাস ঘুরতেই দেখা গিয়েছে, টিকিট বিক্রি অনেক বেড়ে গিয়েছে। এর ফলে আখেরে রোজগার বেড়েছে নিগমের।

Advertisement

প্রশান্ত পাল

শেষ আপডেট: ০৮ অক্টোবর ২০১৪ ০০:৫৬
Share:

যাত্রা শুরু। পুরুলিয়া ডিপো থেকে গন্ত্যবের পথে। দফতরের আশ্বাস, লাভ বাড়লে আগামী দিনে জেলার অন্যত্রও সরকারি বাস চালু করা হবে।—নিজস্ব চিত্র।

রুট ভাড়া দিয়ে লাভের মুখ দেখল দক্ষিণবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ নিগমের পুরুলিয়া ডিপো। কয়েক মাস আগে নিগমের নির্দিষ্ট কয়েকটি দূরপাল্লার রুটে গাড়ি চালানোর দায়িত্ব বেসরকারি মালিকানার হাতে দেওয়া হয়। মাস ঘুরতেই দেখা গিয়েছে, টিকিট বিক্রি অনেক বেড়ে গিয়েছে। এর ফলে আখেরে রোজগার বেড়েছে নিগমের।

Advertisement

সরকারি বাসের জন্য সর্বত্র চাহিদা থাকলেও হাতেগোনা কয়েকটি রুটে এই বাস চলে। তার উপরে যে ক’টি রুটে চলে, সেখানেও নিয়মিত বাস মেলে না বলে অভিযোগ। এ ছাড়া সরকারি বাসের পরিষেবা নিয়ে যাত্রীদের আরও নানা অভিযোগ রয়েছে। এর ফলে লাভের পরিমাণ কমে অনেক সময় লোকসানের মুখও নিগমকে দেখতে হয়েছে। এ বার শুধু নিজেদের রুটে গাড়ি চালানোর দায়িত্ব বেসরকারি হাতে তুলে দিতেই সব হিসেব পাল্টে গেল।

পুরুলিয়া ডিপোর ম্যানেজার অশোক চৌধুরীর কথায়, “আমাদের সংস্থার কোনও কোনও রুটের বাস পরিষেবা নিয়ে কখনও সখনও যাত্রীদের কিছু অভিযোগ রয়েছে। সে সব কথা বিবেচনা করেই আমরা চলতি আর্থিক বছরে কয়েকটি রুট ফ্র্যাঞ্চাইজি হিসেবে কয়েকজনকে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিই। দেখা যায় এতে দৈনিক টিকিট বিক্রি থেকে আমাদের যা আয় হত তা অনেকটাই বেড়েছে।” তিনি জানান, এখনও পর্যন্ত পুরুলিয়া-দুর্গাপুর, পুরুলিয়া-মালদহ ও পুরুলিয়া-ফরাক্কা রুটের ফ্র্যাঞ্চাইজি দেওয়া হয়েছে।

Advertisement

এতে কী পরিবর্তন হয়েছে? নিগম সূত্রে খবর, মোটা টাকা দিয়ে ডিপোর কাছ থেকে টিকিট নিয়ে যান ফ্র্যাঞ্চাইজি পাওয়া ব্যক্তি। বাস ও বাসের চালক নিগমের। বাসের জ্বালানি তেল ও মেরামতির দায়িত্বও নিগমের। কন্ডাক্টর শুধু ওই ব্যক্তির। গাড়ির টিকিট বিক্রি করে যে টাকা ওঠে, তার পুরোটাই ওই ব্যক্তির পাওনা। উপরি হিসেবে টিকিট বিক্রির উপরে নিগমের কাছ থেকে তাঁকে কমিশন বাবদ আরও কিছু টাকা দেওয়া হয়। এতে বাসে যাত্রী তোলায় আগ্রহ ওই ব্যক্তির থাকছে। জমা দেওয়া টাকার পরিমাণ রুটের দূরত্বের উপর নির্ভর করে।

এই পরিবর্তনেই কয়েকমাসে লক্ষ্মীর আগমণ ঘটেছে পুরুলিয়ার ডিপোয়। সংস্থা সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০১১-‘১২ আর্থিক বছরে এই ডিপোর আয় ছিল ৩ কোটি ২৩ লক্ষ টাকা। পরের বছরে তা দাঁড়ায় ৩ কোটি ৩০ লক্ষে। গত আর্থিক বছরে সেই টাকার অঙ্ক বেড়ে দাঁড়ায় ৩ কোটি ৩৭ লক্ষ টাকায়। তবে চলতি আর্থিক বছরে সেই টাকার অঙ্ক ছ’মাসেই এক কোটি ৯৯ লক্ষ টাকায় পৌঁছে গিয়েছে।

পুরুলিয়া-মালদহ ও পুরুলিয়া-ফরাক্কা রুটের ফ্র্যাঞ্চাইসি নেওয়া বর্ধমানের বাসিন্দা দেবকুমার রায়ের কথায়, “কয়েক মাস আগে ফ্র্যাঞ্চাইজি নিয়েছি। সবদিনই যে লাভের মুখ দেখি তা নয়। কিছুদিন তো চালিয়ে দেখি।” একই কথা ফ্র্যাঞ্চাইজি নেওয়া বাঁকুড়ার বাসিন্দা অরুণ কুমার ষাণ্ণিগ্রাহীরও। লাভের মুখ দেখায় পুরুলিয়া ডিপো থেকে আগামী দিনে তাঁরা একাধিক বাস নামাতে চলেছেন বলে জানিয়েছেন ডিপো ম্যানেজার। তিনি বলেন, “আমরা পুরুলিয়া থেকে জঙ্গলমহল হয়ে দিঘা রুটে ও জেলার আরও কয়েকটি রুটে ছোট বাস চালাব। সে জন্য আবেদন করেছি।”

নিগম অবশ্য স্থায়ী কর্মীদের জন্যও কিছু পদক্ষেপ করেছে। চালকদের ক্ষেত্রে মাসে ৪৫০০ কিলোমিটার চালানো ও কন্ডাক্টরদের ক্ষেত্রে মাসে নূন্যতম এক লক্ষ টাকার টিকিট বিক্রি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। সংস্থার এক পদস্থ আধিকারিক বলেন, এই লক্ষ্যমাত্রা স্পর্শ করতে না পারলে শাস্তিমূলক বদলি করার কথা সংস্থা ভাববে। কর্মীদের এ কথাও জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। সংস্থার এমডি নবকুমার বর্মন বলেন, “সংস্থা যাতে লাভের মুখ দেখে সে জন্য কিছু পদক্ষেপ আমরা করছি।”

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement