পুজো শেষেও পরিছন্ন হয়নি বাঁকুড়া, বিষ্ণুপুর

রাস্তা জুড়ে মণ্ডপের বাঁশ, পেরেক

কোথাও মণ্ডপের কাপড় খোলা হলেও বাঁশ খোলা হয়নি। রাস্তা আটকে দাঁড়িয়ে রয়েছে বাঁশের খাঁচা। আর তার জেরে ব্যস্ত রাস্তায় হচ্ছে যানজট। কোথাও খেলার মাঠে পুজোর পরেও সাফাই হয়নি। মাঠময় পড়ে রয়েছে আবর্জনা, হাঁ করে রয়েছে গর্ত। পুজো মণ্ডপগুলির আশেপাশে রাস্তার উপরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে রয়েছে ছোট-বড় পেরেক। এই অবস্থায় রাস্তায় বের হওয়া অনেকেরই মোটরবাইক ও সাইকেলের চাকায় পেরেক ঢুকে পাংচার করে দিচ্ছে।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৯ অক্টোবর ২০১৫ ০২:০৫
Share:

কোথাও মণ্ডপের কাপড় খোলা হলেও বাঁশ খোলা হয়নি। রাস্তা আটকে দাঁড়িয়ে রয়েছে বাঁশের খাঁচা। আর তার জেরে ব্যস্ত রাস্তায় হচ্ছে যানজট। কোথাও খেলার মাঠে পুজোর পরেও সাফাই হয়নি। মাঠময় পড়ে রয়েছে আবর্জনা, হাঁ করে রয়েছে গর্ত। পুজো মণ্ডপগুলির আশেপাশে রাস্তার উপরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে রয়েছে ছোট-বড় পেরেক। এই অবস্থায় রাস্তায় বের হওয়া অনেকেরই মোটরবাইক ও সাইকেলের চাকায় পেরেক ঢুকে পাংচার করে দিচ্ছে। সব মিলিয়ে পুজো শেষ হয়ে সপ্তাহ ঘুরতে চললেও শহর তার স্বাভাবিক চেহারা ফিরে পায়নি। যার জেরে নানা সমস্যার মধ্যে পড়ছেন সাধারণ মানুষ। বাঁকুড়া সদর মহকুমা শাসক অসীমকুমার বালা বলেন, ‘‘আগেই পুজো কমিটিগুলিকে বৈঠকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল, পুজো শেষ হওয়ার পরে যত দ্রুত সম্ভব প্যান্ডেল খুলে এলাকা পরিছন্ন করে দিতে হবে। কেন এত দেরি হচ্ছে বুঝে উঠতে পারছি না। এ নিয়ে বাঁকুড়া পুরসভার পুরপ্রধানের সঙ্গেও কথা বলব।”

Advertisement

বাঁকুড়া শহরের স্টেশনমোড় এলাকার পুজো মণ্ডপটি বরাবর রাস্তার একাংশ জুড়ে তৈরি করা হয়। পুজোর আগে থেকে সে জন্য এই এলাকায় যানজট লেগেই ছিল। পুজো পার হয়ে যাওয়ার পরে এখনও রাস্তার উপরে প্যান্ডেলের বাঁশ না খোলায় যানজট লেগেই রয়েছে। এর ফলে যানবাহন নিয়ে রাস্তায় বেরিয়ে নাকাল হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। শুধু তাই নয়, পুজো মণ্ডপ সংলগ্ন এলাকায় রাস্তার উপরে পড়ে রয়েছে প্রচুর পেরেক। প্রতিদিন বহু মানুষ এই রাস্তা দিয়েই সাইকেলে, মোটরবাইকে বাঁকুড়া শহরে ঢোকেন। অনেকেরই অভিযোগ, এই এলাকা দিয়ে পার হতে গিয়ে বাইকের চাকায় পেরেক ঢুকে টায়ার পাংচার হচ্ছে হামেশাই। সাইকেলেরও একই দশা।

সেখান থেকে কিছুটা দূরে রবীন্দ্রসরণি পুজো কমিটি রাস্তার দু’পাশে বাঁশ দিয়ে আলোক স্তম্ভ বানিয়েছিল। বাহারি আলোক সজ্জায় পুজোর ক’দিন মেতে উঠেছিল এই এলাকা। পুজোর পরেই আলো খুলে নেওয়া হলেও বাঁশের কাঠামো এখনও খোলা হয়নি। শহরে আসা সমস্ত বাসই এই রাস্তা দিয়ে গোবিন্দনগর বাসস্ট্যান্ডে যায়। শহরের অন্যতম ব্যস্ত রাস্তা এটি। কিন্তু রাস্তার দু’পাশে যে ভাবে বাঁশের কাঠামোগুলি রয়েছে তাতে যে কোনও সময় দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা করছেন পথচারীরা। একই দৃশ্য দেখা যাচ্ছে কাটজুড়িডাঙা সাবস্টেশন মোড়েও। সেখানেও রবীন্দ্রসরণির মতো রাস্তার দু’পাশে বাঁশ বেঁধে আলোকসজ্জা করা হয়েছিল। কিন্তু আলো খোলা হলেও বাঁশের তোরণ খোলা হয়নি।

Advertisement

শহরের প্রাণকেন্দ্র মাচানতলা মোড় থেকে সুভাষরোড ধরে বড়বাজার যাওয়ার রাস্তার ধারে ধারে বাঁশ পুঁতে বাটাম ও কাপড় দিয়ে সুদৃশ্য মণ্ডপ গড়া হয়েছিল শহরের অন্যতম প্রাচীন মন্দির মহামায়া থানের পুজোকে কেন্দ্র। রাস্তার পাশের বাঁশ খুলে নেওয়া শুরু হলেও, মণ্ডপের পেরেক রাস্তার উপরেই ছড়িয়ে রয়েছে। বাইক, সাইকেল, রিকশার টায়ারে পেরেক ঢুকে পাংচার হচ্ছে বলে অভিযোগ। পথচারীরাওএতে সমস্যায় পড়ছেন। শহরের রিকশা চালক সুশান্ত দাস জানাচ্ছেন, বিভিন্ন এলাকাতেই এই সমস্যা দেখা যাচ্ছে। যাত্রী নিয়ে যাওয়ার সময় টায়ার পাংচার হয়ে ক্ষতির মুখে পড়ছেন রিকশা চালকেরা। তাঁর কথায়, “পুজোর পরে বিভিন্ন এলাকার রাস্তার উপরেই খোলা মণ্ডপেই পেরেক ফেলে দেওয়া হচ্ছে। যাত্রীদের নিয়ে রাস্তায় বের হলে প্রায়ই টায়ার পাংচার হচ্ছে। এতে যাত্রীরা বিরক্ত হয়ে রিকশা থেকে নেমে হাঁটা দিচ্ছেন। দিনের যা রোজগার তার অনেকটাই পাংচার সারাইয়ের পিছনেই চলে যাচ্ছে।” আরও বহু রিকশা চালকই বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

পোয়াবাগান এলাকার বাসিন্দা স্বপন ঘোষের কথায়, “পুজোর পর থেকে রাস্তায় রাস্তায় যে ভাবে পেরেক পড়ে রয়েছে যে মোটরবাইক নিয়ে শহরের রাস্তায় বের হওয়াই দায় হয়ে ওঠেছে। চাকায় পেরেক ঢুকলেই খরচ আর খরচ। কবে যে মানুষ সচেতন হবেন এ নিয়ে!’’ শহরের মধ্যকেন্দুয়াডিহি এলাকার একটি স্কুল মাঠে পুজোর আয়োজন করা হয়েছিল। পুজো উপলক্ষে মেলাও বসেছিল ওই মাঠে। বর্তমানে গোটা মাঠই আবর্জনায় ভরে রয়েছে। মাঠ জুড়ে বাঁশ পোঁতার গর্ত। ফলে ওই মাঠে খেলাধুলো হোক কিংবা প্রাতর্ভ্রমণে যাওয়া মানুষের পা গর্তে পড়ে বিপদের ঝুঁকি রয়েইছে। বাঁকুড়ার প্রতাপবাগানের বাসিন্দা সঙ্গীতশিল্পী জয়দীপ মুখোপাধ্যায়ের মতে, ‘‘শুধু পুজোর জাঁকজমক বা থিম বিচার করেই নয়, প্রশাসন ও বিভিন্ন সংস্থার পুজো মণ্ডপগুলিতে পুরস্কার দেওয়ার আগে পুজোর পরে তারা এলাকাটি কতটা পরিচ্ছন্ন করল তাও বিবেচনা করা দরকার। তাহলে চাপে পড়ে কমিটিগুলি সাফাইয়ে উদ্যোগী হবে।’’

বাঁকুড়ার মতোই বিষ্ণুপুরের বিভিন্ন পুজোয় রাস্তার উপরে তোরণ করার চল রয়েছে। শহরের বিভিন্ন জায়গায় রাস্তার পাশে বাঁশ দিয়ে গড়া তোরণের বাঁশের কাঠামো এখনও খোলা হয়নি। খোদ বিষ্ণুপুর মহকুমা শাসকের দফতরের সামনে শহরের ব্যস্ততম এলাকা রবীন্দ্রস্ট্যাচু মোড়েই এই দৃশ্য দেখা যাচ্ছে। রস্তার পাশেই বিজ্ঞাপন দেওয়ার জন্য বাঁশের তোরণ করা হয়েছিল। এখনও সেই বাঁশ খোলা হয়নি। ওই এলাকায় বাস থামে। এতে সমস্যা তৈরি হচ্ছে। এই শহরের অন্যতম দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকা সোনামুখী মোড়। ওই এলাকায় রাস্তার পাশেই একটি পুজো কমিটি থিমের মণ্ডপ গড়েছিল। অথচ এখনও মণ্ডপ খোলা হয়নি। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের কথায়, রাতের অন্ধকারে অনেকেই প্যান্ডেলের বাঁশের গুঁতো খাচ্ছেন। যদিও দুই শহরের বিভিন্ন পুজো কমিটির কর্তাদের দাবি, “প্যান্ডেল খোলার কাজ শুরু হয়েছে। তবে মাঝে লক্ষ্মী পুজোর জন্য ডেকরেটার্সের লোকজন কাজে ঢিলেমি করে। তবে এ বার তাড়াতাড়ি খুলে ফেলা হবে।’’

সমস্যার কথা শোনার পরেই অবশ্য নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। বিকেলের মধ্যেই বাঁকুড়া সদর মহকুমা শাসকের তরফে পুজো কমিটিগুলিকে পুকুর থেকে প্রতিমার কাঠামো তুলে নেওয়া, মণ্ডপে বিজ্ঞাপনের হোর্ডিং সরিয়ে দেওয়া ও দ্রুত মণ্ডপ খুলে এলাকা পরিষ্কার করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সদর মহকুমা শাসক বলেন, “পুজো শেষ হলে দ্রুত পুজো কমিটিগুলিকে মণ্ডপ খুলে এলাকা পরিষ্কার করে দিতে বলা হয়েছিল। কিন্তু এখনও তা হয়নি। একটি নির্দেশিকা জারি করে পুজো কমিটিগুলিকে পুকুর থেকে ভাসান দেওয়া প্রতিমার কাঠামো তুলে নিতে নির্দেশ দিয়েছি। এ ছাড়াও অবিলম্বে মণ্ডপ খুলে এলাকা পরিচ্ছন্ন করে দেওয়া ও বিজ্ঞাপনের হোর্ডিং খুলে দেওয়ার নির্দেশও দিয়েছি।” এই কাজে সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড কাউন্সিলর যাতে পুজো কমিটি গুলিকে সাহায্য করে সে বিষয়েও পুরপ্রধানকে জানানো হয়েছে, বলে দাবি করেছেন মহকুমাশাসক।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement