সিমলাপালের আশ্রম-কাণ্ড

শিশুদের চাষও করানো হত

আবাসিকদের যৌন নিগ্রহের অভিযোগ ওঠা সিমলাপালের আশ্রম সম্পর্কে খোঁজ করতে গিয়ে প্রশাসন ও পুলিশের কাছে আরও তথ্য উঠে আসছে। ঘটনা সম্পর্কে তদন্ত শুরু করা আধিকারিকদের সূত্রে জানা গিয়েছে, আবাসিক বালকদের আশ্রমের জমিতে চাষের কাজেও খাটানো হতো।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ ০০:৩৩
Share:

আবাসিকদের যৌন নিগ্রহের অভিযোগ ওঠা সিমলাপালের আশ্রম সম্পর্কে খোঁজ করতে গিয়ে প্রশাসন ও পুলিশের কাছে আরও তথ্য উঠে আসছে। ঘটনা সম্পর্কে তদন্ত শুরু করা আধিকারিকদের সূত্রে জানা গিয়েছে, আবাসিক বালকদের আশ্রমের জমিতে চাষের কাজেও খাটানো হতো। এ ছাড়া নিয়মিত আশ্রমের সন্ন্যাসীদের গা-হাত পা ওই ছোট ছেলেদের দিয়ে ম্যাসাজ করানো হতো। ওই আধিকারিকদের দাবি, সিমলাপালের আমডাঙায় আশ্রমের বেশ কয়েকজন আবাসিক তাঁদের কাছে এই অভিযোগ করেছেন।

Advertisement

জেলা প্রশাসনের এক আধিকারিক বলেন, “আবাসিদের দিয়ে নিয়মিত আশ্রম পরিষ্কার করানো হতো। আশ্রমের চাষ জমিতেও তাদের খাটানো হতো। এমনকী সন্ন্যাসীদের গায়ে তেল মাখানোটাও নিয়মিত কাজের মধ্যে পড়ত তাদের।” বুধবার ওই আশ্রমে তদন্তে যান খাতড়ার মহকুমাশাসক অভিষেক তিওয়ারি। আশ্রমের আবাসিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। খতিয়ে দেখেন কাগজপত্রও। অভিষেকবাবু বলেন, “রেজিস্ট্রার দেখে যা জানা যাচ্ছে ২০০৫ সাল থেকে এখানে আবাসিকদের রাখা শুরু হয়েছিল। আমরা সব দিক খতিয়ে দেখছি।’’ তিনি জানান, অভিযোগের তদন্ত করছে পুলিশ। পাশাপাশি প্রশাসনিক ভাবেও তাঁরা তদন্তে নেমেছেন।

সোমবার সিমলাপালের আমডাঙার ওই আশ্রমের সাতজন বালক পালিয়ে সিমলাপালে চলে আসে। সেখানে এক আবাসিকের পিসির কাছে তারা জানায়, ওই আশ্রমে তাদের উপর যৌন নির্যাতন করা হচ্ছে। ওই মহিলা সিমলাপাল থানায় এ নিয়ে অভিযোগ দায়ের করেন। ওই সাত জনকে উদ্ধার করে হোমে পাঠায় জেলা চাইল্ড লাইন। পুলিশ ওই আশ্রমের সন্ন্যাসী স্বামী দয়ানন্দকে গ্রেফতার করে।

Advertisement

প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, আবাসিক আশ্রমের জন্য যে প্রয়োজনীয় লাইসেন্স বা রেজিস্ট্রেশনের দরকার পড়ে তার কিছুই নেই কর্তৃপক্ষের কাছে। জেলাশাসক মৌমিতা গোদারা বসুও এই আশ্রমকে সম্পূর্ণ বেআইনি বলে ঘোষণা করেছেন। অথচ এই আশ্রমের নানা অনুষ্ঠানে ইতিপূর্বে রাজ্যের মন্ত্রীদেরও দেখা গিয়েছে। সরকারি প্রকল্পের টাকাও এই আশ্রমে বরাদ্দ করা হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গিয়েছে। এ দিন জেলাশাসক বলেন, “সরকারি প্রকল্পের টাকা এই আশ্রম পেয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখেই বলা সম্ভব। আমরা খোঁজ নিচ্ছি।” এই ঘটনায় নতুন করে আর কেউ গ্রেফতার হয়নি বলেই জানিয়েছে পুলিশ। জেলা পুলিশের এক কর্তা বলেন, “তদন্ত চলছে।”

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement