সদ্যোজাত শিশুকে বদলে দেওয়ার অভিযোগ উঠল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে।
শুক্রবার সকালে বোলপুর মহকুমা হাসপাতালের ঘটনা। সংবাদমাধ্যমের কাছে মুখে এই অভিযোগ করলেও ওই ঘটনায় কোনও লিখিত অভিযোগ দায়ের করেনি রোগীর পরিবার। স্বাভাবিক ভাবেই সদ্যোজাত শিশু বদলের অভিযোগ মানতে অস্বীকার করেছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। হাসপাতালের সুপার অমিত মজুমদার বলেন, “অভিযোগ সঠিক নয়। প্রসূতির ব্যাজ নম্বরের সঙ্গে সদ্যোজাতের ব্যাজ নম্বর মিলিয়েই মায়ের কাছে শিশুকে দেওয়া হয়। এ দিনের ঘটনায় সামান্য ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে মাত্র। তার বেশি কিছু ঘটেনি।” সুপারের ওই ব্যাখ্যায় অবশ্য সন্তুষ্ট নন রোগীর পরিজন। কর্তব্য পালনে হাসপাতালের নার্স-কর্মীদের আরও সচেতন হওয়ার দাবি তুলেছেন প্রসূতি বিভাগে ভর্তি থাকা অন্য রোগীর পরিবারগুলিও।
হাসপাতাল সূত্রের খবর, প্রসব যন্ত্রণা নিয়ে বোলপুর মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন পাড়ুই থানার সাত্তোর পঞ্চায়েতের কেন্দ্রডাঙালের বাসিন্দা রেজিনা বিবি। এ দিন সকাল ৮টা এবং ৮টা ১৫ মিনিট নাগাদ পাশাপাশি দু’টি শয্যায় (১৭১ ও ১৭৭ নম্বর) দুই মহিলা দু’টি শিশুকন্যা প্রসব করেন। ১৭১ নম্বর শয্যায় ভর্তি থাকা প্রসূতি রেজিনা বিবির মামা নুর আলি মোল্লার অভিযোগ, ‘‘আমার ভাগ্নির কাছে প্রথমে ১৭৭ নম্বর ব্যাজ পরানো শিশুটিকে দেওয়া হয়। বিষয়টি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের নজরে আনার পরে নার্স ১৭১ নম্বর শিশুকে দিয়ে যান। বিষয়টি আমাদের চোখে ধরা না পড়লে তো আজ অন্যের শিশুকে নিয়ে বাড়ি যেতাম।’’ তাঁর দাবি, হাসপাতালে কর্মরত নার্স ও কর্মীদের আরও সচেতন হতে হবে। তা না হলে যে কারও সঙ্গে এমনটা ঘটে যাওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। এ দিকে, ঘটনার কথা চাউর হতেই ওই প্রসূতির গ্রাম থেকে শতাধিক গ্রামবাসী হাসপাতালে চলে আসেন। তত ক্ষণে অবশ্য প্রসূতির কাছে তাঁর প্রকৃত শিশুকে দিয়ে দিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যায়।