তালড্যাংরায় ধৃত যুব তৃণমূল নেতা-সহ ৪

সাংবাদিকের উপরে হামলা

এর আগেও এলাকা নানা রাজনৈতিক হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। অভিযোগ, শাসকদলের নেতা হওয়ায় অনেক বার পার পেয়েছেন তালড্যাংরার যুব তৃণমূল নেতা সৌমেন মাজি। কিন্তু, এ বার সরাসরি সাংবাদিককে খুনের চেষ্টার অভিযোগ ওঠায় অস্বস্তিতে পড়েছেন বাঁকুড়া জেলা তৃণমূল নেতৃত্বও।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৫ জুলাই ২০১৫ ০১:২৪
Share:

এর আগেও এলাকা নানা রাজনৈতিক হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। অভিযোগ, শাসকদলের নেতা হওয়ায় অনেক বার পার পেয়েছেন তালড্যাংরার যুব তৃণমূল নেতা সৌমেন মাজি। কিন্তু, এ বার সরাসরি সাংবাদিককে খুনের চেষ্টার অভিযোগ ওঠায় অস্বস্তিতে পড়েছেন বাঁকুড়া জেলা তৃণমূল নেতৃত্বও।

Advertisement

সোমবার রাতে তালড্যাংরা থানার সামনে এবিপি-আনন্দের সাংবাদিক স্বপন নিয়োগীর মাথায় রিভলভার ঠেকিয়ে তাঁকে টেনে নিয়ে রাস্তায় ফেলে রড দিয়ে পেটানোর অভিযোগ উঠেছে সৌমেন ও তাঁর তিন সঙ্গীর বিরুদ্ধে। ওই সাংবাদিকের শরীরের বিভিন্ন অংশে ভোজালির কোপও মারা হয়। গুরুতর জখম সাংবাদিককে চিকিৎসার জন্য কলকাতায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এই ঘটনায় শাসক দলের বিরুদ্ধে কড়া প্রতিক্রিয়া উঠে এসেছে সমাজের সর্বস্তর থেকে। এমনকী, শাসকদলের জেলা নেতৃত্বও সৌমেনের উপরে ক্ষুব্ধ। যার ফলে কড়া পদক্ষেপ করতে পেরেছে পুলিশ। মঙ্গলবার সকালে সৌমেন-সহ অভিযুক্ত চার জনকে গ্রেফতার করা হয়। ধৃতদের বিরুদ্ধে খুনের চেষ্টা, মারধর, ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত ও চুরির মতো একাধিক জামিন-অযোগ্য ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। বাঁকুড়ার ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার অনুপ জায়সবাল বলেন, “অভিযুক্তদের গ্রেফতার করে ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।’’

এই হামলার কারণ কী?

Advertisement

রবিবার তালড্যাংরার একটি সমবায়ের পরিচালন সমিতির নির্বাচনে প্রার্থীদের মনোনয়ন পেশ করার পর্ব চলছিল। সাংবাদিককে মারধরের ঘটনায় মূল অভিযুক্ত যুব তৃণমূলের তালড্যাংরা ব্লকের কার্যকরী সভাপতি সৌমেন ওই দিন বিরোধী দলগুলিকে মনোনয়ন পেশ করতে বাধা দিচ্ছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে। সেই খবর পেয়েই আক্রান্ত সাংবাদিক স্বপন নিয়োগী ক্যামেরা নিয়ে ঘটনাস্থলে যান। সাংবাদিক দেখে সে দিন আর কোনও ঝামেলা পাকানোর সাহস পাননি সৌমেন। সেই আক্রোশেই সৌমেন দলবল নিয়ে সোমবার তাঁর উপরে হামলা চালায় বলে অভিযোগ স্বপনবাবুর। তিনি জানান, তখন রাত প্রায় সওয়া দশটা। মোটরবাইকে বাড়ি ফেরার পথে তিনি তালড্যাংরা থানার সামনে একটি পান গুমটিতে দাঁড়িয়ে ফোনে কথা বলছিলেন। আচমকা সৌমেন এসে তাঁর মোবাইল কেড়ে নিয়ে মাথায় রিভলবার ঠেকিয়ে টানতে টানতে গুমটি থেকে কিছুটা দূরে নিয়ে যান। সৌমেনের সঙ্গে ছিলেন যুব তৃণমূল কর্মী গোবিন্দ মাঝি, শুভজিৎ হাজরা ও তাপস মাজি। স্বপনবাবুর অভিযোগ, রড দিয়ে পেটানোর পাশাপাশি সৌমেন ভোজালি দিয়ে তাঁকে কোপ মারতে থাকে। প্রায় পনেরো মিনিট এ সব চলার পরে কয়েক জন পুলিশকর্মী এগিয়ে আসেন। সৌমেনরা পালিয়ে যান। গুরুতর জখম অবস্থায় স্বপনবাবুকে উদ্ধার করে প্রথমে তালড্যাংরা ব্লক স্বাস্থ্য কেন্দ্র, পরে বাঁকুড়া মেডিক্যালে পাঠায় পুলিশ। রডের ঘায়ে বাঁ হাতের হাড় ভেঙেছে স্বপনবাবুর। এ ছাড়াও কোমরে ও পায়ে গুরুতর চোট পেয়েছেন তিনি। স্বপনবাবু বলেন, “মারতে মারতে ওরা আমাকে বলছিল ‘খুব খবর করার শখ হয়েছে তোর! এ বার মর!’ আমাকে ওরা মেরেই ফেলেতে চেয়েছিল। খুনের উদ্দেশ্যেই চক্রান্ত করে এই হামলা।’’

দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সৌমেন এলাকায় তৃণমূল যুবা কর্মী হিসেবেই পরিচিত ছিলেন। কয়েক মাস আগেই যুব তৃণমূলে যোগ দেন। জেলা তৃণমূলের কিছু প্রভাবশালী নেতার ঘনিষ্ঠ হলেও জেলার রাজনীতিতে সৌমেন অবশ্য পরিচিত মুখ নন। তবে, এখনও পর্যন্ত সৌমেনের বিরুদ্ধে দল বা সংগঠনগত ভাবে ব্যবস্থা নেয়নি তৃণমূল। যুব তৃণমূলের জেলা সভাপতি শিবাজী বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “সৌমেনের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ উঠেছে, রাজ্য নেতাদের আমি তা জানিয়েছি। সেখান থেকে নির্দেশ আসার পরেই ওর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’’

Advertisement

এ দিকে সাংবাদিককে মারধরের ঘটনার তীব্র নিন্দার ঝড় উঠেছে সর্ব স্তরেই। এ দিন বিকেলে বাঁকুড়া শহরের মাচানতলা এলাকায় সাময়িক পথ অবরোধ ও পথসভা করে ঘটনার প্রতিবাদ জানায় ডিওয়াইএফ। উপস্থিত ছিলেন দলের রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য অমিয় পাত্র, প্রাক্তন মন্ত্রী পার্থ দে, বাঁকুড়া জোনাল কমিটির সম্পাদক প্রতীপ মুখোপাধ্যায়। প্রতীপবাবু বলেন, “তৃণমূলের রাজ্য নেতারা দীর্ঘদিন ধরে দলীয় কর্মীদের সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে প্ররোচনা দিয়ে যাচ্ছেন। তারই ফলশ্রুতি ঘটল তালড্যাংরায়। রাজ্যে গণতন্ত্র বলে আর কিছুই নেই। এটা লজ্জাজনক ঘটনা।’’ এ দিন বীরভূমের সিউড়িতে গিয়ে সাংবাদিক উপরে হামলার নিন্দা করেছেন বামফ্রন্টের চেয়ারম্যান বিমান বসুও।

বিজেপির রাজ্য সহ-সভাপতি সুভাষ সরকার আবার বলেন, “বাম জমানার শেষ দিকে সিপিএম সাংবাদিকদের সঙ্গে যেমন আচরণ করত, এখন তৃণমূল ঠিক তাই করছে। এত দিন ওদের নেতারা ফোনে হুমকি দিত। এ বার মারধর করল। এর পরে আরও কী করবে, কে জানে!’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement