সদ্যোজাতকে ফেলে উধাও মা

স্বাস্থ্যকেন্দ্রের শয্যায় একটি তিনদিনের শিশু নাগাড়ে কেঁদে যাচ্ছিল। স্বাস্থ্যকর্মীরা স্বাস্থ্যকেন্দ্র তো বটেই, আশপাশে খোঁজ চালিয়েও শিশুর মায়ের সন্ধান পাননি। শেষে খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার জেলা চাইল্ড লাইনের কর্মীরা ওই শিশুকে নিজেদের হেফাজতে নিলেন। এ দিন বিকেলে বান্দোয়ান ব্লক স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে ওই পরিত্যক্ত শিশুটিকে উদ্ধার করে পুরুলিয়া সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৫ ০০:৩৬
Share:

বান্দোয়ানের সেই সদ্যোজাত।

স্বাস্থ্যকেন্দ্রের শয্যায় একটি তিনদিনের শিশু নাগাড়ে কেঁদে যাচ্ছিল। স্বাস্থ্যকর্মীরা স্বাস্থ্যকেন্দ্র তো বটেই, আশপাশে খোঁজ চালিয়েও শিশুর মায়ের সন্ধান পাননি। শেষে খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার জেলা চাইল্ড লাইনের কর্মীরা ওই শিশুকে নিজেদের হেফাজতে নিলেন। এ দিন বিকেলে বান্দোয়ান ব্লক স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে ওই পরিত্যক্ত শিশুটিকে উদ্ধার করে পুরুলিয়া সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

Advertisement

পুরুলিয়া জেলা চাইল্ড লাইনের কো-অর্ডিনেটর দীপঙ্কর সরকার জানান, এ দিন ভোরে তাঁরা খবর পান বান্দোয়ান ব্লক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি থাকা এক সদ্য প্রসূতি মা তাঁর তিনদিনের শিশুপুত্রকে ছেড়ে পালিয়েছেন। তাঁরা সঙ্গে সঙ্গে ওই শিশুকে উদ্ধার করার তোড়জোড় শুরু করেন। তিনি বলেন, ‘‘সদর হাসপাতালে ওই সদ্যোজাতকে রাখা হয়েছে। ওই শিশুর দাবিদার কেউ এসে উপযুক্ত প্রমাণ দেখালে আমরা তাঁর হাতে ওই শিশুকে তুলে দেব।’’ চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, শিশুটি সুস্থ আছে।

বান্দোয়ান ব্লক স্বাস্থ্যকেন্দ্র সূত্রে জানা গিয়েছে, গত সোমবার স্বাস্থ্যকেন্দ্রে খবর আসে বান্দোয়ানের কুচিয়া গ্রামের বাজারে এক বারান্দায় সদ্য প্রসূতি এক মা ও তাঁর সদ্যোজাত সন্তান পড়ে আছে। বান্দোয়ান স্বাস্থ্যকেন্দ্র লাগোয়া এলাকার বাসিন্দা মহম্মদ আকিল বলেন, ‘‘খবর পেয়ে আমরা সঙ্গে সঙ্গে একটা অ্যাম্বুল্যান্স জোগাড় করে মা ও শিশুকে তুলে এনে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি করি। চিকিৎসকরা জানিয়েছিলেন, আর কিছুক্ষণ ধুলো মাখা বারান্দায় পড়ে থাকলে মা ও সদ্যোজাত শিশু দু’জনেরই প্রাণ সংশয় হওয়ার আশঙ্কা ছিল।

Advertisement

কিন্তু ছেলেকে ছেড়ে মা পালাল কেন?

স্বাস্থ্যকেন্দ্রের চিকিৎসক ধুরমল কিস্কু বলেন, ‘‘সোমবার দুপুর ২টা নাগাদ মা ও শিশুকে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছিল। ওই প্রসূতি জানিয়েছিলেন, তাঁর নাম লতিকা মাহাতো, বাড়ি বান্দোয়ানের কুচিয়া গ্রামে। কিন্তু কী কারণে তিনি তাঁর ছেলেকে ছেড়ে চলে গেলেন বুঝতে পারছি না। তবে লতিকার কথাবার্তা অসংলগ্ন ছিল। শিশুটির ঠিকমতো যত্নও নিতে পারছিল না। ওকে মানসিক বিকারগ্রস্ত বলে মনে হয়েছিল।’’

লতিকার দেখা না মিললেও বান্দোয়ান স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ওই প্রসূতির মা বলে নিজেকে দাবি করেন এক বৃদ্ধা। প্রেমীদেবী নামে সেই বৃদ্ধা বলেন, ‘‘স্বামী মারা যাওয়ার পর থেকেই লতিকার মানসিক বিকার দেখা দিয়েছে। নাতিকে দেখতে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এসেছিলাম। এসে শুনছি নাতিকে ছেড়ে লতিকা কোথায় যেন চলে গিয়েছে।’’ তবে তিনি জানিয়েছেন, দারিদ্রের কারণে ওই সদ্যোজাতকে তিনি নিজের কাছে রাখতে পারবেন না। তবে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ওই শিশুকে রাখা হলে তাঁর আপত্তি নেই।

এ দিন পুলিশের উপস্থিতিতে চাইল্ড লাইনের দুই সদস্য শিশুটিকে নিজেদের হেফাজতে নেন। তাঁরা বলেন, ‘‘আপাতত কয়েক দিন শিশুটিকে একটি মহিলা সমিতির হেফাজতে রাখা হবে। ওর মা লতিকার খোঁজ মিললে এবং তাঁর পরিবার চাইলে ওই বধূর মানসিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হবে।’’

শিশুটিকে চাইল্ড লাইনের কর্তাদের হাতে তুলে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যকেন্দ্রের অস্থায়ী কর্মী কুন্তী সহিস ছলছল চোখে বলেন, ‘‘দু’দিনেই ছেলেটার উপর বড় মায়া পড়ে গিয়েছিল। স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি থাকা সদ্য প্রসূতি মায়েরা পালা করে ওকে বুকের দুধ খাইয়েছেন। এখন কোথায় কী ভাবে মানুষ হবে কে জানে!’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement