রাস্তার খানাখন্দের ভোগান্তি থেকে মুক্ত নয় অ্যাম্বুল্যান্সের রোগীও।—নিজস্ব চিত্র।
খানাখন্দে ভরা এবড়ো খেবড়ো রাস্তা। কিছুটা মোরামে আর কিছুটা পিচের। অথচ রাস্তাটি পাকা।
রাস্তা জুড়ে অসংখ্য ছোট বড় গর্তে পথ চলা দায়। বাঁকুড়ার হিড়বাঁধ ব্লকের সিমলাবাঁধ থেকে দিগতোড় হয়ে বিরাডি পর্যন্ত রাস্তার এমনই বেহাল দশায় ক্ষুব্ধ এলাকার বাসিন্দারা। সম্প্রতি ওই রাস্তা মেরামতির দাবিতে হিড়বাঁধ ব্লক অফিসে স্মারকলিপি দিয়েছেন তাঁরা। তারপরেও রাস্তার হাল ফেরেনি। ফলে ক্ষোভ ছড়িয়েছে এলাকায়।
হিড়বাঁধের সিমলাবাঁধ থেকে পাইরা মোড়, দিগতোড়, ধাদকীডি হয়ে বিরাডি পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার দীর্ঘ রাস্তার অবস্থা খুবই খারাপ। দীর্ঘদিন ধরে ওই রাস্তার বেহাল দশার জন্য ক্ষুব্ধ এলাকার বাসিন্দারা।
রাস্তা খারাপের জন্য খাতড়া থেকে সিমলাবাঁধ হয়ে পুরুলিয়া যাওয়ার এই রাস্তায় বাস চলাচল অনিয়মিত হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের।
গ্রামবাসীর দাবি, প্রায় পাঁচ বছর ধরে ওই রাস্তার খারাপ অবস্থা। হিড়বাঁধ ব্লকের দিগতোড়, ধাদকীডি, জীবনপুর, বিরাডি, রাঙামেটা, ন্যাকড়াপাহাড়ি-সহ আশেপাশের প্রায় ২০টি গ্রামের ১৫ হাজারের বেশি মানুষ প্রতিদিন নানা প্রয়োজনে এই রাস্তার উপর দিয়ে যাতায়াত করেন।
দিগতোড় গ্রামের বাসিন্দা কুন্দন রায়, তরুণ রায়ের অভিযোগ, সিমলাবাঁধ থেকে এই রাস্তায় আগে পুরুলিয়া যাওয়ার দু’টি বাস চলত। এখন মাত্র একটি বাস চলে। বর্ষার সময় রাস্তার অবস্থা এতটাই খারাপ হয়ে পড়ে যে বাস চলাচল বন্ধ থাকে বলে তাঁদের ক্ষোভ। তাঁরা জানান, গ্রামের রাস্তায় বড় গাড়ি তো দূরের কথা এখন দু’চাকা, ছোট গাড়ি নিয়ে যাতায়াত করাটাও বেশ কষ্টকর হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবু রাস্তা সংস্কারে হুঁশ নেই প্রশাসনের।
স্থানীয় বাসিন্দা তথা গাড়িচালক সমীর রায় বলেন, “কয়েকটি নতুন রুটের বাস চলার কথা ছিল। দিগতোড় থেকে বিরাটি পর্যন্ত দু’কিলোমিটার কাঁচা রাস্তার বেহাল দশা দেখে বাস মালিকরা আর এই রাস্তায় নতুন করে বাস চালাতে রাজি নন। বাস চলাচল বন্ধ হতে বসেছে।”
বাস চালকদের ক্ষোভ, রাস্তা খারাপের জন্য প্রায় দিনই তাঁদের গাড়ির যন্ত্রাংশ ভাঙছে। সে জন্য ওই রাস্তায় তাঁরা কেউই বাস চালাতে ইচ্ছুক নয়। মশিয়াড়া পঞ্চায়েতের প্রধান সিপিএমের অংশুমান বাউরি জানান, বর্ষার সময়ে ওই রাস্তা কিছুটা খারাপ হয়ে পড়েছিল। পুজোর আগে মোরাম দিয়ে তাঁরা রাস্তার আংশিক সংস্কার করেছেন। পাইপ লাইন বসানোর কাজ করতে গিয়ে কিছু এলাকায় রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পঞ্চায়েতের তরফে প্রতি বছরই রাস্তা সংস্কার করা হচ্ছে বলে তাঁর দাবি।
বাঁকুড়া জেলা পরিষদের সভাধিপতি অরূপ চক্রবর্তী জানান, হিড়বাঁধ ব্লকের বেশ কয়েকটি রাস্তা তাঁরা সংস্কারের পরিকল্পনা নিয়েছেন। তার মধ্যে কয়েকটি রাস্তার সংস্কার করা হয়েছে। তবে অনেক গ্রামের রাস্তা পঞ্চায়েতের। স্থানীয় পঞ্চায়েতকে সেই রাস্তা সংস্কারের জন্য বলা হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘‘রাস্তা সংস্কারের বিষয়টি আমরা অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখছি।’’