লগ্নি-কর্তার স্ত্রী ও মেয়ে অধরা কেন, প্রশ্ন কোর্টে

তদন্তের প্রাথমিক রিপোর্ট বলছে, বেসরকারি অর্থ লগ্নি সংস্থা এমপিএসের কর্ণধার প্রমথনাথ মান্নার স্ত্রী ও কন্যার ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টেও আমানতকারীদের টাকা সরানো হয়েছে। তা হলে এমপিএস-প্রধানের স্ত্রী-কন্যাকে কেন গ্রেফতার করা হচ্ছে না, আদালতে সেই প্রশ্ন তুললেন আমানতকারীদের আইনজীবীরা।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৭ নভেম্বর ২০১৭ ০৩:৫৪
Share:

তদন্তের প্রাথমিক রিপোর্ট বলছে, বেসরকারি অর্থ লগ্নি সংস্থা এমপিএসের কর্ণধার প্রমথনাথ মান্নার স্ত্রী ও কন্যার ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টেও আমানতকারীদের টাকা সরানো হয়েছে। তা হলে এমপিএস-প্রধানের স্ত্রী-কন্যাকে কেন গ্রেফতার করা হচ্ছে না, আদালতে সেই প্রশ্ন তুললেন আমানতকারীদের আইনজীবীরা।

Advertisement

বেসরকারি লগ্নি সংস্থাগুলির আমানতকারীদের দায়ের করা বিভিন্ন মামলার শুনানির জন্য হাইকোর্টের বিচারপতি অনিরুদ্ধ বসু এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীকে নিয়ে বিশেষ ডিভিশন বেঞ্চ গড়া হয়েছে। কী ভাবে তদন্ত হবে, টাকা ফেরানো হবে কোন পন্থায়— তা ঠিক করে দেবে ওই বেঞ্চ। টাকা ফেরতের আবেদন জানিয়ে ওই বেঞ্চে মামলা করেছেন আমানতকারীরা।

বৃহস্পতিবার সেই মামলার শুনানিতে আমানতকারীদের কৌঁসুলি বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য, শুভাশিস চক্রবর্তী, অরিন্দম দাসেরা জানান, এমপিএসের সঙ্গে সংস্থা-প্রধানের পরিবারের কয়েক জনের সম্পর্ক নিয়ে আদালতে একটি রিপোর্ট দাখিল করেছে সিবিআই। সেই রিপোর্টে দেখা যাচ্ছে, কর্ণধারের স্ত্রী-কন্যাও ওই সংস্থার ডিরেক্টর ছিলেন। কয়েক কোটি টাকা সরানো হয়েছে বলে রিপোর্টে উল্লেখ রয়েছে।

Advertisement

তা-ই যদি হয়, তা হলে সিবিআই এবং সেবি বা ইডি-র মতো যে-সব সংস্থা আর্থিক প্রতারণা, অবৈধ ভাবে টাকা সরানো ইত্যাদি অভিযোগের তদন্ত করছে, তারা এমপিএস-কর্ণধারের স্ত্রী-কন্যাকে গ্রেফতার করছে না কেন, আদালতের কাছে জানতে চান ওই আইনজীবীরা।

ডিভিশন বেঞ্চ তার পরেই কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলিকে নির্দেশ দেয়, এই বিষয়ে আগামী মঙ্গলবার তাদের বক্তব্য জানাতে হবে।

বিশেষ বেঞ্চের বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এ দিন কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থাগুলির আইনজীবীদের কাছে জানতে চান, যাঁদের বিভিন্ন অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে, তাঁদের বিচার প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে না কেন। সেই সঙ্গেই তিনি জানান, বিচার শুরু না-হলে অভিযুক্তেরা নির্দিষ্ট সময়ের পরে জামিন পেয়ে যাবেন।

আমানতকারীদের আইনজীবীরা এ দিন বিশেষ বেঞ্চে জানান, তাঁদের মক্কেলদের টাকা ফেরানোর জন্য অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি শৈলেন্দ্রপ্রসাদ তালুকদারের নেতৃত্বে গড়া কমিটির মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী ৩১ ডিসেম্বর। কমিটির মেয়াদ না-বাড়ালে আমানতকারীদের টাকা ফেরাতে অসুবিধা হবে বলে জানান তাঁরা।

সরকারি কৌঁসুলি তুলসীদাস রাই আদালতে জানান, রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল (এজি) কিশোর দত্ত এই বিষয়ে রাজ্যের মুখ্যসচিবকে একটি চিঠি দিয়েছেন। সেই চিঠির জবাবে মুখ্যসচিব যা জানাবেন, তা আগামী মঙ্গলবার আদালতকে তা জানানো হবে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement