—প্রতীকী চিত্র।
কোথাও যোগ্যতাসম্পন্ন চাকরিপ্রার্থীকে নিয়োগ করা হয়েছে। কিন্তু নিয়োগের প্রক্রিয়া মানা হয়নি। নিয়োগের বিজ্ঞাপনই প্রকাশ করা হয়নি। কোথাও যোগ্যতাসম্পন্ন চাকরিপ্রার্থীকে নিয়ম মেনেই নিয়োগ করা হয়েছে। কিন্তু সেখানে শূন্যপদই ছিল না। কোথাও আবার শূন্যপদ ছিল, প্রক্রিয়া মেনে নিয়োগ করা হয়েছে। কিন্তু যাঁকে নিযুক্ত করা হয়েছে, তাঁর ন্যূনতম যোগ্যতাই ছিল না। নিয়োগের পরে নিয়ম মেনে রাজ্য সরকারকে জানানোই হয়নি।
পশ্চিমবঙ্গে ২০১৬ থেকে ২০২০-র মধ্যে রাজ্যের বিভিন্ন মাদ্রাসায় শিক্ষক, শিক্ষাকর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে এ রকম বহু অনিয়ম নিয়ে প্রশ্ন তুলল সুপ্রিম কোর্ট। বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত ও বিচারপতি জর্জ অগাস্টিন মসিহ-র বেঞ্চ জানিয়েছে, বৈধ ভাবে নিয়োগ করা হয়েছে কি না, তা তিনটি শর্তের উপরে নির্ভর করছে। এক, মাদ্রাসাগুলিতে নিয়োগের প্রক্রিয়া বৈধ ছিল কি না। দুই, যাঁকে নিয়োগ করা হয়েছে, তাঁর যোগ্যতা ছিল কি না। তিন, যে পদে নিয়োগ করা হয়েছে, সেই পদের অনুমোদন ছিল কি না। চাকরিরত শিক্ষক, শিক্ষাকর্মীদের বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত প্রশ্ন করেছেন, ‘‘যদি নিয়োগের প্রক্রিয়াই না মানা হয়, তা হলে আপনারা কোথায় গিয়ে দাঁড়াবেন?” রাজ্য সরকার ১৯৭৪ সালে বিজ্ঞপ্তি জারি করে বলেছিল, সংখ্যালঘু প্রতিষ্ঠান হিসেবে খ্রিষ্টান মিশনারি স্কুলের নিজস্ব নিয়োগের ক্ষমতা রয়েছে। ২০১৫ সালেও রাজ্য সরকার একই বিজ্ঞপ্তি জারি করেছিল। এই মামলার আইনজীবী সুনন্দ রাহা বলেন, মুসলিম সংখ্যালঘু প্রতিষ্ঠান হিসেবে মাদ্রাসার ক্ষেত্রেও এই নিয়ম প্রযোজ্য কি না, তা সুপ্রিম কোর্ট বৃহস্পতিবার খতিয়ে দেখবে।
সুপ্রিম কোর্টে আজ একাধিক কর্মরত শিক্ষক, শিক্ষাকর্মীদের আইনজীবীরা প্রশ্ন তুলেছেন, যদি নিয়োগ প্রক্রিয়া মানা না হয়, তা হলে তাঁদের কী দোষ? বেকার চাকরিপ্রার্থীরা যেটা সুযোগ পাবেন, সেটাই নেবেন। সেখানে শূন্যপদ ছিল কি না, তা তাঁরা জানবেন কী ভাবে?বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত এখানে ‘স্বজনপোষণ’ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর বক্তব্য, মাদ্রাসা পরিচালন কমিটির সচিবের সঙ্গে পরিচয়ের সুবাদে কেউ শুধুমাত্র স্নাতক হয়ে শিক্ষকের চাকরি পেয়ে গিয়েছেন। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে বহু স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী চাকরিপ্রার্থী রয়েছেন। তাঁরা কী দোষ করেছেন? সংবাদপত্রে শূন্যপদের বিজ্ঞাপন প্রকাশ হয়নিবলে তাঁরা জানতেও পারেননিচাকরির সুযোগের কথা। আবার সুন্দরবন এলাকার কোনও মাদ্রাসা নিয়ম রক্ষার্থে দিল্লি থেকে প্রকাশিত ইংরেজি সংবাদপত্রে বিজ্ঞাপন দিয়েছেন। ফলে শুধুমাত্র মাদ্রাসা পরিচালন কমিটির নিজের লোকেরাই চাকরির আবেদন করে চাকরি পেয়ে গিয়েছেন। বাকি স্থানীয় চাকরিপ্রার্থীদের কেউ সেই বিজ্ঞাপনের কথা জানতেই পারেননি।
২০১৫ সালে কলকাতা হাই কোর্ট বাম জমানায় তৈরি ২০০৮ সালের মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশন আইনকে সাংবিধানিক ভাবে অবৈধ বলে খারিজ করে দেয়। সংখ্যালঘু প্রতিষ্ঠানে নিয়োগের ক্ষমতা প্রতিষ্ঠানের পরিচালন কমিটির হাতেই থাকার অধিকারকে স্বীকৃতি দিয়েছিল হাই কোর্ট। সুপ্রিম কোর্ট ২০২০ সালে হাই কোর্টের রায় খারিজ করে মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশন আইনকে বৈধ বলে স্বীকৃতি দেয়।
ইতিমধ্যে ২০১৬ সাল থেকে ২০২০ সালের মধ্যে মাদ্রাসা পরিচালন কমিটি যাঁদের নিয়োগ করেছিল, তাঁরা চাকরি রক্ষায় সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন। কারণ সুপ্রিম কোর্ট তাঁদের চাকরি, বেতন রক্ষার কথা বলেছিল। আজ বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত বলেছেন, শুধুমাত্র নিয়ম মেনে যাঁদের নিয়োগ করা হয়েছে, তাঁদেরই চাকরি রক্ষার কথা বলা হয়েছিল।
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে