বদলি হলেন আইপিএস রূপেশ কুমার। — ফাইল চিত্র।
কলকাতা এবং রাজ্য পুলিশে ১৭৯ জন আইপিএস-ডব্লিউবিপিএস-কে বদলি করার নির্দেশ দিল রাজ্য সরকার। বদলি করা হল কলকাতা পুলিশের জয়েন্ট সিপি (ট্রাফিক) রূপেশ কুমারকে। বিধানসভা ভোটের আগে এই রূপেশকে ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জ্যাক’ (গোলাম) বলেছিলেন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁকে সরানো হয়েছে এসটিএফে। অন্য দিকে এত দিন ফাঁকা ছিল কলকাতা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম)। সেই পদেও নিয়োগ করা হয়েছে। সেখানকার যুগ্ম কমিশনারকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। বদলি হয়েছেন আইপিএস মুরলীধর শর্মা। এ ছাড়া বেশ কয়েকটি জেলায় পুলিশ সুপারকেও বদলি করা হয়েছে।
আইপিএস কুণাল অগ্রবালকে কলকাতা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম) নিয়োগ করা হয়েছে। সেখানে এত দিন ছিলেন যুগ্ম কমিশনার পদের এক আধিকারিক। ওই পদে ছিলেন সোমা দাস মিত্র। তাঁকে বদলি করা হয়েছে আইজি (পলিসি) পদে। রূপেশকে কলকাতা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার (ট্রাফিক) থেকে ডিআইজি (এসটিএফ) করা হয়েছে। ভোটের আগে শুভেন্দু জানিয়েছিলেন, নির্বাচন কমিশন নিযুক্ত কলকাতা পুলিশের নতুন কমিশনার (সিপি) অজয় নন্দের কাজে তিনি খুশি নন। সেই সময় রূপেশকেও একহাত নিয়েছিলেন তিনি। বলেছিলেন, ‘‘রূপেশ কুমার নামে এক জন অফিসারের কথায় চলছেন কমিশনার। তিনি মমতার জ্যাক (গোলাম)।’’ পালাবদলের পরে বদলি হলেন রূপেশ।
রাজ্যে আইজি, ডিআইজি, ডিসি এবং এসপি স্তরেও বদলি হয়েছে। হুগলি (গ্রামীণ), হাওড়া (গ্রামীণ), পূর্ব বর্ধমান, বারাসত, বাঁকুড়া, জলপাইগুড়ি, ডায়মন্ড হারবার, দক্ষিণ দিনাজপুর, বারুইপুর, কৃষ্ণনগর, পুরুলিয়ার এসপিও বদলি হয়েছেন। মুরলীধরকে আইজি (আইবি) পদে বসানো হয়েছে। বিধানসভা ভোটের আগে গত এপ্রিলে বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটের কমিশনার পদ থেকে সরানো হয়েছিল মুরলীধরকে। তার আগে মুরলীধরকে ভোটের পর্যবেক্ষক হিসাবে তামিলনাড়ুতে পাঠানোর কথা বলেছিল কমিশন। পরে সেই নির্দেশে স্থগিতাদেশ দেয় তারা। বিধাননগরের পুলিশ কমিশনার পদেই থেকে যান মুরলী।
বারাসত পুলিশ জেলার এসপি ছিলেন মিস পুষ্পা। তাঁকে পাঠানো হয়েছে পূর্ব বর্ধমানের এসপি করে। বারাসতের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সিআইডি থেকে যাওয়া জে মার্সিকে। কৃষ্ণনগর পুলিশ জেলার সুপার হয়েছেন অতুল ভি। পূর্ব বর্ধমানের এসপি সায়ক দাসকে পাঠানো হয়েছে কলকাতা পুলিশের ডিসি (উত্তর) করে। ঈশানি পাল ছিলেন ডায়মন্ড হারবার পুলিশ জেলার এসপি। তাঁর জায়গায় দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে চন্দ্রশেখর বর্ধনকে। হাওড়া গ্রামীণের এসপি ছিলেন সুবিমল পাল। তাঁকে কলকাতা পুলিশের ডিসি (ইএসডি) করা হয়েছে। তাঁর জায়গায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে অমিত বর্মাকে। হুগলি গ্রামীণের এসপি ছিলেন সানিরাজ। তাঁকে পুরুলিয়ার এসপি করা হয়েছে। তাঁর জায়গায় নিয়ে আসা হয়েছে কুনওয়ার হুসেন সিংহকে।