অবরোধ তুলতে সক্রিয় পুলিশ। শনিবার মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায়। ছবি: পিটিআই।
মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় লাঠিচার্জ করে অবরোধ তুলল পুলিশ। বিহারে মুর্শিদাবাদের এক পরিযায়ী শ্রমিককে মারধর করার অভিযোগ তুলে শনিবার বেলায় বড়ুয়া মোড় অবরোধ করেন কয়েকশো মানুষ। এর ফলে অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে ১২ নম্বর জাতীয় সড়ক। বেশ কিছু ক্ষণ অবরোধ চলার পর অভিযানে নামে পুলিশ। লাঠিচার্জ করে অবরোধ তোলা হয়। বেশ কয়েক জনকে আটক করা হয়। মুর্শিদাবাদ পুলিশ জেলার সুপার সানি রাজ বলেন, ‘‘মোট ৩০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকিদের খোঁজে তল্লাশি চলছে।’’
অন্য দিকে, কৃষ্ণনগর থেকে লালগোলা পর্যন্ত আপাতত ট্রেন না-চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে পূর্ব রেল। এর ফলে ওই অংশে ট্রেন পরিষেবা ব্যাহত হচ্ছে। শনিবার কলকাতা-সাইরাং এক্সপ্রেস তিন ঘণ্টা কৃষ্ণনগর সিটি জংশনে দাঁড়িয়েছিল। তার পর ট্রেনটিকে নৈহাটি-ব্যান্ডেল হয়ে গন্তব্যের উদ্দেশে রওনা করানো হয়েছে। বেলায় বিক্ষোভকারীরা বেলডাঙা স্টেশনের আগের রেলগেটের বুম ভেঙে দিয়েছিলেন। ভাঙা হয় স্টেশনের নিকটবর্তী ট্রেনের একটি সিগন্যাল পোস্টও। এগুলি মেরামত করে ট্রেন পরিষেবা স্বাভাবিক করতে সময় লাগবে বলে রেল সূত্রে খবর।
পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, ইতিমধ্যেই ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করছে পুলিশ। বেলডাঙার পরিস্থিতি প্রসঙ্গে পুলিশ সুপার কুমার বলেন, “আমরা আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলে অবরোধ তোলার চেষ্টা করছিলাম। কিন্তু তাঁরা কোনও ভাবেই তাতে কর্ণপাত করছিলেন না। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শেষপর্যন্ত আমরা লাঠিচার্জ করে তাঁদের ছত্রভঙ্গ করতে বাধ্য হই। এই মুহূর্তে এলাকায় কোনও পথঅবরোধ নেই।”
শুক্রবার ঝাড়খণ্ডে কর্মরত মুর্শিদাবাদের এক পরিযায়ী শ্রমিককে খুন করার অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল বেলডাঙায়। ১২ নম্বর জাতীয় সড়ক এবং রেল অবরোধ করেছিলেন বিক্ষোভকারীরা। সাড়ে ৫ ঘণ্টা ধরে অবরোধ চলে। শনিবার বেলডাঙায় নতুন করে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। বেলডাঙার বড়ুয়া মোড় অবরোধ করেন কয়েকশো মানুষ। অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে ১২ নম্বর জাতীয় সড়ক। শুক্রবারের পর শনিবারও আক্রান্ত হন সাংবাদিকেরা।
দু’দিন ধরে জনজীবনকে বিপর্যস্ত করে বিক্ষোভ চলার পরেও পুলিশ কার্যকরী পদক্ষেপ করছে না বলে অভিযোগ উঠেছিল। শনিবার দুপুরে অবশ্য পুলিশের বিশাল বাহিনী এলাকায় নামে। রেললাইন থেকে লাঠিচার্জ করে সরানো হয় বিক্ষোভকারীদের। অবরোধ হটাতে গেলে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাথর ছোড়া হয়। পাল্টা লাঠিচার্জ করে পুলিশও। শুরু হয় ধরপাকড়। সেই সময়েই গ্রেফতার করা হয় ৩০ জনকে।