স্কুল সার্ভিস কমিশনের প্রাক্তন কর্তা শান্তিপ্রসাদ সিন্হার জামিনের আবেদন মঞ্জুর হয়েছে। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
স্কুল সার্ভিস কমিশনের প্রাক্তন কর্তা শান্তিপ্রসাদ সিন্হাকে ইডির মামলায় জামিন দিল কলকাতা হাই কোর্ট। শুক্রবার হাই কোর্টের বিচারপতি জয় সেনগুপ্তের বেঞ্চ শান্তিপ্রসাদের জামিনের আবেদন মঞ্জুর করেছে। তবে বেশ কিছু শর্ত দেওয়া হয়েছে। নিয়োগ দুর্নীতিতে যুক্ত থাকার অভিযোগে ২০২২ সাল থেকে জেল খাটছেন শান্তিপ্রসাদ। আদালতের নির্দেশের ফলে প্রায় চার বছর পর তিনি জেল থেকে বেরোতে চলেছেন।
২০২৪ সালে নিয়োগ দুর্নীতিতে সিবিআইয়ের মামলা থেকে জামিন পেয়েছিলেন শান্তিপ্রসাদ। সুপ্রিম কোর্ট তাঁর জামিনের আবেদন মঞ্জুর করেছিল। তবে ইডির মামলা ঝুলে থাকায় শান্তিপ্রসাদের জেলমুক্তি তখন হয়নি। কলকাতা হাই কোর্টে ইডির মামলাটি বিচারাধীন ছিল। শুক্রবার সেই সংক্রান্ত শুনানিতেই শান্তিপ্রসাদের আবেদন মঞ্জুর হয়েছে। ফলে তাঁর জেলমুক্তির ক্ষেত্রে আর বাধা রইল না।
বিচারপতি সেনগুপ্ত জানিয়েছেন, পাঁচ লক্ষ টাকার ব্যক্তিগত বন্ডে জামিন পাবেন শান্তিপ্রসাদ। তবে নিজের এলাকা ছেড়ে বাইরে কোথাও তিনি যেতে পারবেন না। তাঁর পাসপোর্টও আদালতের কাছে জমা রাখতে হবে। অর্থাৎ, তাঁর বিদেশযাত্রাতেও বিধিনিষেধ থাকছে। নিয়োগ দুর্নীতি মামলার সাক্ষীদের কোনও ভাবেই প্রভাবিত করা যাবে না, শান্তিপ্রসাদের জামিন মঞ্জুরের সময় মনে করিয়ে দিয়েছেন বিচারপতি। তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করতেও নিষেধ করেছেন। এ ছাড়া, শান্তিপ্রসাদকে তাঁর দু’টি ফোন নম্বর থানায় এবং তদন্তকারী অফিসারের কাছে দিয়ে রাখতে বলা হয়েছে। ওই নম্বরে যাতে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়।
এসএসসির উপদেষ্টা কমিটির প্রাক্তন আহ্বায়ক ছিলেন শান্তিপ্রসাদ। তাঁর নির্দেশে একসময় অনেক কাজ হয়েছে। অভিযোগ, টাকা নিয়ে অযোগ্য প্রার্থীদের স্কুলের চাকরি দেওয়া হত। এসএসসি পরীক্ষায় সাদা খাতা জমা দিয়েও অনেকে চাকরি পেয়ে গিয়েছিলেন বলে অভিযোগ। সিবিআইয়ের একাধিক চার্জশিটে শান্তিপ্রসাদের নাম ছিল। তিনি ছা়ড়াও নিয়োগ দুর্নীতির অভিযোগে শিক্ষা দফতরের পাঁচ কর্তাকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। নাম জড়িয়েছিল প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়েরও। দীর্ঘ দিন জেল খাটার পর তিনি এখন জামিনে মুক্ত। এ বার জামিন পেলেন শান্তিপ্রসাদও।