Abhishek Banerjee-Kalyan Banerjee

আবার ‘কল্যাণীয়েসু’ অভিষেক? তৃণমূলের দুই সাংসদের মন্তব্যে সমঝোতার ইঙ্গিত! নেত্রী মমতার দুশ্চিন্তা কি আপাতত কাটল

বৃহস্পতিবার অভিষেকের বিরুদ্ধে রণংদেহী মেজাজে দেখা গিয়েছিল তৃণমূলের আইনজীবী সাংসদ কল্যাণকে। তিনি বলেছিলেন, “ওর (অভিষেক) জন্য আমাদের চোর-চোর স্লোগান শুনতে হচ্ছে। ওর জন্য দলটা শেষ হয়েছে।’’ শুক্রবার দুই সাংসদের মন্তব্যে সমঝোতার আভাস মিলল।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১২ জুন ২০২৬ ২১:২৬
Share:

(বাঁ দিক থেকে) কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। — ফাইল চিত্র।

কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে তাঁর কোনও ক্ষোভ নেই! শুক্রবার কালীঘাটের বাড়ি থেকে এমনটাই জানালেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। পাশাপাশি ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ এ-ও জানান, কল্যাণের অধিকার আছে তাঁকে চারটে ‘কটু’ কথা বলার। আর সেই কারণে শ্রীরামপুরের সাংসদের প্রতি তাঁর সম্মান এক ইঞ্চিও কমবে না বলে জানালেন অভিষেক। ডায়মন্ড হারবারের সাংসদের কথা শুনে কল্যাণও বলেন, ‘‘অভিষেক আমার সন্তানসম।’’ একই সঙ্গে দিয়েছেন পরামর্শও। প্রশ্ন উঠছে, অভিষেককে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার কল্যাণের যে অসন্তোষের বহিঃপ্রকাশ দেখা গিয়েছিল, সেই বরফ কি গলবে? কাটবে তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দুশ্চিন্তার মেঘ?

Advertisement

তৃণমূল এখন দৃশ্যত ভেঙে খান খান। এক সময়কার বিশ্বস্ত অনেক সঙ্গীই এখন মমতার থেকে দূরে। ফিরহাদ হাকিম, মালা রায়ের মতো একদা অনুগত নেতারাও এখন ‘বিমুখ’। তবে তার পরেও যাঁরা প্রায় মমতার সঙ্গেই রয়েছেন, নিয়মিত যাচ্ছেন তাঁর বাড়ি, সব বৈঠকে যোগ দিচ্ছেন— সেই তালিকার উপরের দিকেই ছিলেন কল্যাণ। কিন্তু সেই চেনা সুর বৃহস্পতিবার আচমকাই ‘বেসুরো’ হয়ে যায়। ডায়মন্ড হারবারের সাংসদের বিরুদ্ধে একরাশ ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন শ্রীরামপুরের সাংসদ।

বৃহস্পতিবার অভিষেকের বিরুদ্ধে রণংদেহী মেজাজে দেখা গিয়েছিল তৃণমূলের আইনজীবী সাংসদ কল্যাণকে। তিনি বলেছিলেন, “ওর (অভিষেক) জন্য আমাদের চোর-চোর স্লোগান শুনতে হচ্ছে। ওর জন্য দলটা শেষ হয়েছে, তার পরেও ঔদ্ধত্য যায়নি।’’ হয় অভিষেক, না হয় কল্যাণ— দলে কাকে চান, মমতাকে বেছে নিতে বলেন তিনি। সেই অবস্থায় মমতা কী পদক্ষেপ করেন, সেই দিকে নজর ছিল রাজনৈতিক মহলে। শুরু হয় নতুন বিতর্ক। প্রশ্ন উঠেছে, এ বার কি কল্যাণও হাত ছাড়বেন মমতার?

Advertisement

নানা জল্পনা-কল্পনার মধ্যে শুক্রবার তৃণমূলের দুই সাংসদের কণ্ঠে সমঝোতার আভাস মিলল। মমতার বাড়ি থেকে বৈঠক সেরে নিজের বাড়িতে ফিরে অভিষেক স্পষ্ট জানান, কল্যাণের অধিকার আছে তাঁকে নিয়ে কথা বলার। ডায়মন্ড হারবারের সাংসদের কথায়, ‘‘কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের অধিকার আছে আমাকে চারটে কটু কথা বলার। উনি আমাকে বড় করেছেন। ওঁর প্রতি আমার সম্মান আগেও ছিল এখনও আছে। তাঁর বিরুদ্ধে আমার কোনও ক্ষোভ নেই।’’

অভিষেকের সমঝোতা বার্তার পর একই সুর শোনা যায় কল্যাণের গলাতেও। তিনি বলেন, ‘‘সত্যিই তো অভিষেক আমার সন্তানসম।’’ তার পরেই অভিষেককে নিয়ে কল্যাণ বলেন, ‘‘ও যদি বুঝতে পারে কোথায় ভুল হয়েছে, তা হলে ওকে বুকে জড়িয়ে নেব। কিন্তু ওকে এটা বুঝতে হবে, এটা সবাইকে নিয়ে, সকলকে সম্মান দিয়ে চলার সময়।’’ তার পরেই কল্যাণের পরামর্শ, ‘‘এক-দেড় মাস বড় কথা নয়। সামনের সময়টা বাংলা এবং ভারতের জন্য লড়াইয়ের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।’’

বিধানসভা ভোটে পরাজয় এবং তার পরে তৃণমূলের মধ্যে যে বিদ্রোহের ঝড় উঠেছে, সেই হাওয়ায় গা ভাসাতে দেখা যায়নি কল্যাণকে। তিনি সব সময় বুঝিয়েছেন, মমতার পাশে আছেন। দলনেত্রীর ডাকা প্রায় সব বৈঠকেই কল্যাণকে দেখা গিয়েছে। মমতার পাশে পাশে থেকেছেন। ধর্মতলায় মমতার ধর্না কর্মসূচিতে যেমন ছিলেন, তেমনই দলনেত্রীর সঙ্গে দিল্লিও গিয়েছেন। তৃণমূলের বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে প্রায়ই চাঁচাছোলা ভাষায় আক্রমণ করেছেন কল্যাণ। সই-কাণ্ডে মমতার বাড়ি সংলগ্ন তৃণমূলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সিআইডি-র দল যাওয়ায় কুণাল ঘোষ, মদন মিত্রের মতো পৌঁছে গিয়েছিলেন কল্যাণও। এই সম্পর্ক এক তরফা ছিল না। দলীয় কর্মসূচিতে গিয়ে আক্রান্ত হওয়ার খবর পেয়ে কল্যাণকে দেখতে তাঁর বাড়ি গিয়েছিলেন মমতা। কিন্তু বৃহস্পতিবার থেকে সেই ছবিটা পাল্টে যায়। মমতার চেনাবৃত্ত থেকে ‘ছিটকে’ যান শ্রীরামপুরের সাংসদ। বৃহস্পতিবার, শুক্রবার মমতার বৈঠকে গরহাজির ছিলেন। অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগতে শুরু করে, তবে এ বার কি কল্যাণও বিদ্রোহী হলেন? যদিও শুক্রবার অভিষেক এবং কল্যাণের ‘সমঝোতা’ বার্তা কিছুটা হলে স্বস্তি দিল মমতাকে, মনে করছেন অনেকে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement