রাজ্য কমিটির বৈঠকে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। সোমবার। - নিজস্ব চিত্র
১১৬টি আসনে ৬৮ জন নতুন মুখকে প্রার্থী করা। এবং সিপিএমের ৬ বিধায়ককে এ বার টিকিট না দেওয়া। সোমবার বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু প্রথম দফার প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করার পর কংগ্রেসের সঙ্গে সমঝোতার পাশাপাশি চর্চা চলল এই দুই ঘটনা নিয়েও।
সিপিএম যে প্রার্থী তালিকায় তারুণ্যে জোর দিচ্ছে, তা স্পষ্ট। কিন্তু এ দিন বাদ পড়াদের মধ্যে গড়বেতার এককালের দোর্দণ্ডপ্রতাপ বিধায়ক তথা প্রাক্তন মন্ত্রী সুশান্ত ঘোষও রয়েছেন। বামেদের চূড়ান্ত তালিকায় এমন কাঁটছাঁট কতদূর হতে পারে, তা নিয়ে অনেকেই কৌতূহলী। কেউ কেউ আবার দেখতে চান, কংগ্রেসের সঙ্গে বোঝাপড়ার লক্ষ্যে কোন বাম শরিক শেষ পর্যন্ত ক’টি আসন ছাড়ে। এ দিন ঘোষিত ১১৬টি আসনে সিপিএমের প্রার্থী ১০৩ জন। বাকিরা শরিক দলের। বিমানবাবু জানান, দুই বা তিন ধাপে সমগ্র প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করা হবে।
বাদ যাওয়া ৬ বিধায়কের মধ্যে সুশান্তবাবুকে নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আপত্তি ছিল সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্রের। গড়বেতা কঙ্কাল-কাণ্ডে গ্রেফতার হওয়া সুশান্তবাবু জেল থেকে বেরোনোর পর তাঁকে গোলাপের মালা দিয়ে অভ্যর্থনা করা হয়েছিল ঠিকই। কিন্তু সূর্যবাবুর আপত্তিতে সিলমোহর দিয়েছিলেন বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। ফলে অস্বস্তি কাটেনি সুশান্তের।
বাদ পড়েছেন বাম আমলের আরও এক প্রাক্তন মন্ত্রী। তিনি বাঁকুড়ার রায়পুরের বিধায়ক উপেন কিস্কু। তাঁর বদলে প্রার্থী হয়েছেন দিলীপ হাঁসদা। বাদ পড়া বিধায়কদের মধ্যে রয়েছেন ভাঙড়ের বাদল জমাদারও। এই কেন্দ্রে প্রাক্তন সিপিএম এবং প্রাক্তন মন্ত্রী আব্দুর রেজ্জাক মোল্লার বিরুদ্ধে দাঁড় করানো হয়েছে রশিদ গাজিকে। উত্তর দিনাজপুরের হেমতাবাদে প্রবীণ খগেন্দ্রনাথ সিংহের বদলে প্রার্থী হয়েছেন দেবেন রায়। চন্দ্রকোনায় ছায়া দলুইয়ের পরিবর্তে শান্তি ভাদুক। খড়্গপুর গ্রামীণে বর্তমান বিধায়ক নাজমুল হকের বদলে শাহজাহান আলি। প্রথম তালিকায় সংখ্যালঘু মুখ ২৫টি। মহিলা ১৬ জন। তাঁদের অন্যতম সোনারপুর উত্তর কেন্দ্রের প্রার্থী, প্রাক্তন সিপিএম সাংসদ জ্যোতির্ময়ী শিকদার। এশিয়াডে সোনাজয়ী জ্যোতির্ময়ীই আপাতত বাম প্রার্থী-তালিকায় একমাত্র ক্রীড়াবিদ। বিমানবাবু জানান, এ বার বামফ্রন্টের সঙ্গে রয়েছে জেডিইউ।
এ ছাড়া রিপাবলিক পার্টিকেও আসন ছাড়ার কথা ভাবা হচ্ছে। তবে বামফ্রন্টের ইস্তাহার এ দিন প্রকাশ করা হয়নি। বিমানবাবু জানান, খসড়া ইস্তাহারে কিছু পরিবর্তন করা হচ্ছে। তার পরে তা ওয়েবসাইটে দেওয়া হবে। সেখানে মানুষ তাদের আপত্তি বা পরিবর্তনের কথা জানাতে পারবেন। তার পরে গ্রহণ-বর্জনের মাধ্যমে তা চূড়ান্ত হবে।