Nabanna

কড়াকড়ি শিথিল নবান্নে, লিফ্টে আর বাজছে না মমতার লেখা গান

রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান হওয়ার পাশাপাশি কবি, চিত্রশিল্পী, গীতিকার এবং সুরকার হিসেবেও মমতা নিজের একটি পরিচয় গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন। তাঁর চালু করা বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের থিম সঙ্গীত তিনি নিজেই রচনা করেছিলেন।

প্রবাল গঙ্গোপাধ্যায়

শেষ আপডেট: ০৭ মে ২০২৬ ০৯:২১
Share:

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

বাড়ির সামনে থেকে পুলিশি প্রহরা ও সুরক্ষা বেষ্টনী ইতিমধ্যেই তুলে নেওয়া হয়েছে। এ বার বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা গান বাজানো বন্ধ হল রাজ্য প্রশাসনের সদর দফতর নবান্নের লিফ্টে। আর ২৪ ঘণ্টা পরে নবান্নের চোদ্দোতলায় মমতার মুখ্যমন্ত্রী পরিচয়ের শেষ চিহ্ন, তাঁর নামের ফলক খুলে নেওয়া হবে তাঁর কেবিনের বাইরে থেকে, খবর এমনই।

রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান হওয়ার পাশাপাশি কবি, চিত্রশিল্পী, গীতিকার এবং সুরকার হিসেবেও মমতা নিজের একটি পরিচয় গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন। তাঁর চালু করা বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের থিম সঙ্গীত তিনি নিজেই রচনা করেছিলেন। দুর্গাপুজো, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি কিংবা নারীশক্তিকে উৎসাহ দেওয়ার বিষয়ে তিনি একাধিক গান রচনা করেছিলেন। সে সব গান প্রাক্তন তথ্য ও সংস্কৃতি মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন-সহ বহু বিশিষ্ট এবং নবীন শিল্পীরা গেয়েছেন। নবান্নের লিফ্টে উঠলেই ইন্দ্রনীল বা অন্য শিল্পীদের গাওয়া সেই সব গান নিয়মিত শোনা যেত। সোমবার থেকেই সে সব গান বাজানো বন্ধ হয়ে গিয়েছে বলে খবর। মমতার গান কলকাতার বিভিন্ন সরকারি অনুষ্ঠান এবং পুজো মণ্ডপেও বাজত।

রাজ্যে প্রশাসনিক পালাবদলের আবহে নবান্নের পরিবেশেও পরিবর্তন এসেছে। ইতিমধ্যেই নবান্নের অলিন্দে দাঁড়িয়ে কর্মীদের ‘জয় শ্রী রাম’ ধ্বনি দেওয়ার ভিডিয়ো সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। বুধবার নবান্নে গিয়ে রাজ্য প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তাঁকে নবান্নে স্বাগত জানাতে এ দিনও ‘জয় শ্রী রাম’ ধ্বনি দিতে দেখা যায় সরকারি কর্মীদের। এমনকি, নবান্নে ‘খাদ্যছায়া’ নামে যে ক্যান্টিন রয়েছে, সেখানকার কর্মীদেরও এ দিন দেখা যায় বিজেপির সমর্থনে গলা ফাটাতে। ‘খাদ্যছায়া’ নামটিও মমতার দেওয়া।

এই রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পরে বর্তমানে নবান্নের ভিতরেও কড়াকড়ি নেই বলে জানান কর্মীরা। অনেকেই সুযোগ পেলে নিজেদের ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন। তাঁরা জানান, রবীন্দ্রনাথ, নজরুলের গান ছাড়াও বহু জনপ্রিয় বাংলা আধুনিক গান রয়েছে। সে সব গান বাঙালিদের কাছে সমাদৃত। ওই কর্মীদের প্রশ্ন, সে সব গান কার্যত বাদ রেখে সারা দিন কেন মমতার রচিত গান বাজানো হত? যদিও এ সব নিয়ে আলোচনাও নবান্নে ‘নিষিদ্ধ’ ছিল বলে খবর।

বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রীর পরামর্শদাতা আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অর্থ দফতরের পরামর্শদাতা তথা হিডকো-কর্তা হরিকৃষ্ণ দ্বিবেদী মঙ্গলবারই ইস্তফা দিয়েছেন। তাঁদের ও মুখ্যমন্ত্রী-সহ মন্ত্রীদের কেবিনের বাইরে নামফলক এখনও রয়েছে। কাল, শুক্রবার তদারকি সরকারের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরে সমস্ত নামফলক পূর্ত দফতরের খুলে দেওয়ার কথা বলে খবর। চোদ্দোতলায় এখনমমতার অফিস তালাবন্ধ। নতুন সরকারের কর্মস্থল নবান্ন না কি মহাকরণে হবে, তা নিয়ে জল্পনা চলছে কর্মীদের মধ্যে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন