শুভেন্দু অধিকারী। — ফাইল চিত্র।
প্রায় দেড়শোর কাছাকাছি নতুন বিধায়ক। মন্ত্রিসভার সদস্যদের মধ্যে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং শিল্পমন্ত্রী তাপস রায়, কিছুটা পরিষদীয় মন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ ছাড়া অতীতে প্রায় কারও কোনও প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা নেই। এই মুহূর্তে নতুন সরকার সুষ্ঠু ভাবে পরিচালনা করতে বিধায়কদের কঠোর দলীয় শৃঙ্খলে বাঁধতে চাইছে রাজ্য বিজেপি। প্রথমে মন্ত্রী ও পরে বিধায়কদের নিয়ে দলের বিশেষ সাংগঠনিক বৈঠকে সেই বার্তাই উঠে এসেছে বলে সূত্রের খবর। এ ছাড়া, মন্ত্রীদের জেলায় পাঠিয়ে সংগঠন সামলানোর বাড়তি দায়িত্বও দিতে চেয়েছে দল।
সরকার গঠনের বহু আগে থেকেই বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলটপকা মন্তব্য করা বিজেপি নেতাদের অভ্যাসে পরিণত হয়েছিল। এর ফলে বিভিন্ন সংবেদনশীল বিষয়ে দলকে বিড়ম্বনায় পড়তে হয়েছে। সূত্রের খবর, সরকার গঠনের পরে এই নিয়ে কড়া শৃঙ্খলা চাইছে বিজেপি। সাংগঠনিক বৈঠকে মন্ত্রী ও বিধায়কদের যে কোনও বিষয়ে বা যে কোনও সময়ে সংবাদমাধ্যমে মুখ খুলতে বারণ করা হয়েছে। বিভিন্ন বিষয়ে প্রতিক্রিয়ার জন্য দলের মুখপাত্র, রাজ্য সভাপতি-সহ অন্য পদাধিকারীরা রয়েছেন। বলা হয়েছে, মন্ত্রীরা মূলত নিজেদের দফতর নিয়ে মন্তব্য করবেন। অন্য বিষয়ে মন্তব্য করতে হলে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে পরামর্শ করে অথবা দলীয় লাইন জেনে তবেই মন্তব্য করবেন। তবে সংবাদমাধ্যমে সতর্ক হতে বললেও দল চাইছে সমাজমাধ্যমে দলের কর্মসূচি, সরকারের কাজকর্ম আরও বেশি প্রচার করুন মন্ত্রী-বিধায়করা। পাশাপাশি একটি সূত্রের বক্তব্য, নতুন দায়িত্ব পাওয়ার পরে দু’-এক জন মন্ত্রীর আচরণ যে অস্বস্তি ও নানা প্রশ্ন তৈরি করছে, তা-ও নেতৃত্বের নজরে রয়েছে।
বিজেপি সূত্রের খবর, বেশ কিছু নিয়মও তৈরি করে দিয়েছেন বিজেপি নেতৃত্ব। প্রত্যেক বিধায়ককে নিজের এলাকায় বিধায়ক কার্যালয় খুলতে হবে। নাম দিতে হবে ‘সেবাকেন্দ্র’। দলীয় সংস্রবের বাইরেও একটি পৃথক দফতর রাখতে হবে, যেখানে সাধারণ মানুষ খোলা মনে অভাব-অভিযোগ জানাতে পারেন। সূত্রের খবর, দলীয় নেতৃত্ব বলেছেন, বিধায়কদের ‘নম্র, ভদ্র’ হতে হবে। সেই সঙ্গে জনসংযোগ বাড়াতে বলা হয়েছে। বিজেপি নেতৃত্বের বিশ্লেষণ, এমন বহু এলাকা আছে, যেখানে বিজেপির পক্ষে ইতিবাচক ভোট না-থাকলেও তৃণমূল-বিরোধী ভোট এককাট্টা হওয়ায় জয় এসেছে। কয়েক মাসের মধ্যেই পুরসভা নির্বাচন। সেই নির্বাচনে ভাল ফল করতে হলে ওই জায়গাগুলোয় জনসমর্থন তৈরি করতে হবে। এই কাজের বাড়তি দায়িত্ব পড়েছে মন্ত্রীদের উপরে। প্রত্যেক মন্ত্রীকে জেলা ভাগ করে দেওয়া হবে। সেই জেলায় দলের জমি তৈরির দায়িত্ব তাঁদের। সেই লক্ষ্য সামনে রেখে কাজের ভাগ করে দেওয়া হয়েছে বৈঠক থেকে। সূত্রের খবর, সরকার, দল, বিভাগ, বিধানসভা এলাকা এবং নিচু তলায় সংগঠন বিস্তারের কাজ— সপ্তাহের ৭ দিন ভাগ করে এগুলি করতে হবে বিধায়কদের। মন্ত্রীদের বাড়তি এক দিন দিতে হবে দফতরের কাজ বুঝে নেওয়ার জন্য।
বৈঠক প্রসঙ্গে রাজ্যের এক মন্ত্রীর কৌতুক মেশানো প্রতিক্রিয়া, “দলীয় বৈঠক নিয়ে একটি কথাও বলব না। এটাই বৈঠকের সিদ্ধান্ত!”
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে