— প্রতীকী চিত্র।
পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইয়ের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে ধৃত শেখ মুরসালিন গত ডিসেম্বর এবং জানুয়ারি মাসে কম্বোডিয়া এবং ভিয়েতনামে গিয়ে আইএসআই এজেন্টদের সঙ্গে বৈঠক করেছিল। তাকে ভারত থেকে সেখানে যাওয়ার সব রকম ব্যবস্থা করে দিয়েছিল পাকিস্তানের ভারত-বিরোধী এজেন্টরা। ধৃত মুরসালিনকে জেরা করে এমনই তথ্য উঠে এসেছে গোয়েন্দাদের হাতে। সেই সঙ্গেই পুলিশ জানতে পেরেছে, এক পাকিস্তানি নাগরিক মুরসালিনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখত। জানা গিয়েছে, বিদেশের বিভিন্ন ফোন নম্বর থেকে মুরসালিনকে ফোন করা হত এবং কতগুলি ভারতীয় সিম কার্ড লাগবে, সেই নির্দেশ দিত। ওই পাকিস্তানি নাগরিকই মুরসালিনের বিদেশযাত্রার ব্যবস্থা করে দিয়েছিল গত ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে। এমনকি, বিদেশে তার থাকার ব্যবস্থাও করে দিয়েছিল ওই পাক নাগরিক।
পাকিস্তানের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে গত মঙ্গলবার রাতে শেখ মুরসালিন ও গৌতম খাঁড়াকে গ্রেফতার করেছিল রাজ্য পুলিশের এসটিএফ। ধৃতদের বাড়ি পশ্চিম মেদিনীপুরের পিংলা থানার ক্ষীরাই পঞ্চায়েত এলাকায়। গৌতমের সিম কার্ডের দোকান রয়েছে। সেই দোকানেরই গ্রাহকদের নথির সাহায্যে প্রায় ৪০০টি সিম কার্ড চালু করে মুরসালিনের হাতে তুলে দিয়েছিল সে। ওই সমস্ত মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে ওয়টস্যাপ অ্যাকাউন্ট খুলেছিল পাকিস্তানে বসে থাকা আইএসআই এজেন্টরা।
সূত্রের খবর, গ্রেফতার হওয়ার দু’দিন আগেই পাকিস্তান থেকে মুরসালিনের কাছে নির্দেশ আসে ১৬টি ভারতীয় সিম কার্ড জোগাড় করে দেওয়ার জন্য। গৌতম সেগুলি জোগাড় করে মুরসালিনকে দেয়। ওই সব মোবাইল নম্বরের সাহায্যেও পাকিস্তানে বসে ওয়টস্যাপ অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছিল কিনা, তা ধৃতদের জেরা করে জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা। তদন্তকারীদের কাছে মুরসালিনের দাবি, সিম কার্ড জোগাড় করার পরে সে সেটির নম্বর পাক এজেন্টদের জানিয়ে দিত। কিন্তু সিম কার্ড থেকে যেত তার কাছেই। এর পরে পাক এজেন্টরা ওই নম্বরের সাহায্যে ওয়টস্যাপ অ্যাকাউন্ট খুলতে গেলে সেই ওটিপি তার কাছে আসত। সে ওই ওটিপি এজেন্টদের পাঠিয়ে দিত। এর জন্য সিম-প্রতি তিন থেকে পাঁচ হাজার টাকা করে পেত সে। আর সিম কার্ড জোগাড় করে দেওয়ার জন্য মোটা টাকা কমিশন পেত গৌতম।
সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থার হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে কেন্দ্রীয় বাহিনীর এক জওয়ানকে গ্রেফতার করেছিল জয়পুর পুলিশ। সেই ঘটনার তদন্তে পিংলার এই দুই বাসিন্দার নামও উঠে এসেছিল। জানা গিয়েছিল, তারাই ওই গুপ্তচরবৃত্তির জন্য মোবাইলের সিম কার্ড জোগাড় করে দিয়েছিল। তদন্তকারীদের দাবি, শুধু জয়পুর নয়, পঞ্জাব পুলিশের কাছে দায়ের হওয়া একই ধরনের একটি মামলাতেও ওই দু’জন জড়িত থাকতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। সে ক্ষেত্রে তাদের ভূমিকা কী ছিল, তা জানার চেষ্টা চলছে।
গোয়েন্দাদের অনুমান, মুরসালিন একটি মডিউলের অংশ। সেই মডিউলের জাল কত দূর ছড়ানো, তা জানার জন্য ধৃতদের জেরা করা হচ্ছে। সেই সঙ্গেই জানার চেষ্টা চলছে, পাকিস্তানে বসে থাকা আইএসআই এজেন্টদের পরিচয়। তারা এ রাজ্যে বা এ দেশে এসেছিল কিনা, তা-ও জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা।
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে