West Bengal School Recruitment Case

‘দাগি অযোগ্যদের’ বেতন আদায় হবে! প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, সুপ্রিম কোর্টে হলফনামা দিয়ে জানাল রাজ্যের শিক্ষা দফতর

কলকাতা হাই কোর্টের রায়ের পরেও রাজ্য বা স্কুল সার্ভিস কমিশন (এসএসসি) কোনও পদক্ষেপ না করায় আদালত অবমাননার মামলা হয়। ওই মামলাতে মঙ্গলবার শীর্ষ কোর্টে হলফনামা দিয়েছে এসএসসি এবং রাজ্যের শিক্ষা দফতর।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৮ জানুয়ারি ২০২৬ ০০:১০
Share:

সুপ্রিম কোর্ট। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

‘দাগি বা চিহ্নিত অযোগ্য’ শিক্ষকদের কাছ থেকে সুদসমেত বেতন ফেরত নেওয়া হবে। মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টে হলফনামা দিয়ে এ কথা জানিয়েছে রাজ্যের শিক্ষা দফতর। তারা জানিয়েছে, জেলাশাসকদের টাকা আদায়ের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। বুধবার শীর্ষ আদালতে ওই মামলার শুনানির সম্ভাবনা রয়েছে।

Advertisement

কলকাতা হাই কোর্টের রায়ের পরেও রাজ্য বা স্কুল সার্ভিস কমিশন (এসএসসি) কোনও পদক্ষেপ না করায় আদালত অবমাননার মামলা হয়। ওই মামলাতে মঙ্গলবার শীর্ষ কোর্টে হলফনামা দিয়েছে এসএসসি এবং রাজ্যের শিক্ষা দফতর। তারা জানায়, টাকা আদায় হবে ‘বেঙ্গল পাবলিক ডিমান্ডস রিকভারি অ্যাক্ট, ১৯১৩’ অনুযায়ী। এই আইনের মাধ্যমে বেতন ফেরতকে ধরা হবে সরকারি বকেয়া হিসাবে। অর্থাৎ, যেমন ভাবে ভূমি রাজস্ব, সরকারি কর, জরিমানা আদায় করা হয়, সেই ভাবে তাঁদের বেতনগুলি আদায় করা হবে।

গত বছর ডিসেম্বরে স্কুলশিক্ষা দফতর প্রত্যেক জেলাশাসককে টাকা আদায়ের বিষয়ে চিঠি পাঠায়। চিঠিতে বলা আছে, এসএসসির ওয়েবসাইটে প্রকাশিত ‘দাগি শিক্ষকদের’ তালিকা সংগ্রহ করতে হবে। এর জন্য জেলা স্কুল পরিদর্শকের সাহায্য নেওয়া যাবে। সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের নাম, ঠিকানা, কত টাকা বেতন নিয়েছেন এ সব তথ্য সংগ্রহ করতে হবে। তার পর আইন অনুযায়ী টাকা আদায়ের নোটিস দিতে হবে। টাকা আদায় হবে ‘বেঙ্গল পাবলিক ডিমান্ডস রিকভারি অ্যাক্ট, ১৯১৩’ অনুযায়ী। তাই টাকা না দিলে সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে নোটিস এবং ভূমি রাজস্বের মতো করে টাকা আদায় করা হতে পারে।

Advertisement

মামলাকারীদের আইনজীবী ফিরদৌস শামিম বলেন, “বেতন ফেরত নিয়ে আদালতের স্পষ্ট নির্দেশ রয়েছে। এখন রাজ্য বলছে, জেলাশাসকদের বেতন আদায়ের কথা বলা হয়েছে। এর পরেও দাগি অযোগ্যদের বেতন আদায় না হলে, আবার অবমাননার মামলা দায়ের করব।”

এর আগে আদালতের নির্দেশ ছিল, ২০১৬ সালের নিয়োগ পরীক্ষায় ব্যবহৃত তিনটি হার্ডডিস্কে থাকা সমস্ত ওএমআর শিট কমিশনের ওয়েবসাইটে আপলোড করতে হবে যাতে সাধারণ মানুষ সেগুলি দেখতে পারেন। এই নির্দেশের মূল উদ্দেশ্য ছিল নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনা, কারা বেআইনি ভাবে চাকরি পেয়েছে তা সবার সামনে স্পষ্ট করা এবং ভবিষ্যতে কোনও তথ্য গোপনের অভিযোগ যাতে না ওঠে। তবে, মঙ্গলবার হলফনামায় এসএসসি জানিয়েছে, এই মুহূর্তে ওএমআর শিট আপলোড করা সম্ভব নয়। তাদের যুক্তি, ২০১৬ সালের নিয়োগ পরীক্ষায় ব্যবহার হয়েছিল প্রায় ২১ লক্ষ ওএমআর শিট। যার সংখ্যা অত্যন্ত বেশি। ফলে, একসঙ্গে এত বিশাল সংখ্যক ওএমআর শিট ডিজিটাল ফরম্যাটে তুলে ধরা প্রযুক্তিগত ভাবে অত্যন্ত জটিল। ওএমআর শিট আপলোড করতে গেলে দরকার অতিরিক্ত হাই-ক্যাপাসিটি সার্ভার, বিশাল ডিজিটাল স্টোরেজ, নতুন করে টেন্ডার প্রক্রিয়া এবং দক্ষ টেকনিক্যাল ম্যান পাওয়ার। এই মুহূর্তে এত বড় পরিকাঠামো তৈরি করা সম্ভব নয়। কারণ, এসএসসির নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া ব্যাহত হতে পারে। এসএসসির আশঙ্কা, যদি এখন ওএমআর শিট আপলোডে মনোযোগ দেওয়া হয়, তা হলে সার্ভার ক্র্যাশ হতে পারে। এর ফলে অনলাইন আবেদন, ফলপ্রকাশ, ইন্টারভিউ সংক্রান্ত কাজ ব্যাহত হতে পারে। যার সরাসরি প্রভাব পড়বে লক্ষ লক্ষ চাকরিপ্রার্থীর উপর।

এএসসি আরও জানিয়েছে, বর্তমান নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ হতে পারে চলতি বছর ৩১ অগস্ট। তার পরে প্রয়োজন হলে তারা ওয়েবসাইটে ওএমআর শিট আপলোডের কাজ শুরু করতে পারবে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement