Uniform Civil Code

রাজ্যে দেওয়ানি বিধির বাইরে আদিবাসীরা

বিজেপি সূত্রের বক্তব্য, সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৩৬৬ (২৫) এবং অনুচ্ছেদ ৩৪২ অনুযায়ী স্বীকৃত তফসিলি জনজাতির লোকজন অভিন্ন দেওয়ানি বিধির আওতার বাইরে থাকবেন।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৮ জুন ২০২৬ ০৫:২৩
Share:

—প্রতীকী চিত্র।

রাজ্যে প্রস্তাবিত অভিন্ন দেওয়ানি বিধি চালু হওয়াকে কেন্দ্র করে উদ্ভুত বিতর্কের প্রেক্ষিতে বিজেপি জানিয়ে দিল, জনজাতি বা আদিবাসীরা এই বিধির আওতার বাইরেই থাকবেন। তাঁদের স্বীকৃত রীতিও বজায় থাকবে। বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের বক্তব্য, ‘‘অভিন্ন দেওয়ানি বিধি নিয়ে নানা বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে। এই প্রশ্নে বিজেপির অবস্থান বহু দিনের পুরনো এবং এটা আমাদের দলের রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি ও নির্বাচনী ইস্তাহারের অংশ। এখানে কোনও মুখোশের আড়াল নেই। এক দিকে, সকল নাগরিকের জন্য সমান নাগরিক আইন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য এবং সেই সঙ্গে সংবিধানপ্রদত্ত তফসিলি জনজাতির বিশেষ রক্ষাকবচ—এই দুই বিষয়কেই একসঙ্গে প্রাধান্য দেওয়া হবে।’’ বিজেপি নেতৃত্বের যুক্তি, বিবাহ, বিবাহবিচ্ছেদ, উত্তরাধিকার, দত্তক গ্রহণ-সহ নাগরিক বিষয়গুলিতে ধর্মভিত্তিক ভিন্ন ভিন্ন ব্যক্তিগত আইনের পরিবর্তে একটি অভিন্ন নাগরিক কাঠামো দেশের ঐক্য, ন্যায়বিচার এবং সাংবিধানিক সমতার আদর্শকে আরও শক্তিশালী করতে পারে। তবে সহবাস-সহ আরও কিছু প্রশ্নে দেওয়ানি বিধিতে কী থাকবে, তার জন্য বিলের অপেক্ষা করতে হবে বলে শমীকের ব্যাখ্যা।

বিজেপি সূত্রের বক্তব্য, সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৩৬৬ (২৫) এবং অনুচ্ছেদ ৩৪২ অনুযায়ী স্বীকৃত তফসিলি জনজাতির লোকজন অভিন্ন দেওয়ানি বিধির আওতার বাইরে থাকবেন। তাঁদের সংবিধান স্বীকৃত প্রথা, রীতি ও বিশেষ অধিকার সংরক্ষিত থাকবে। পশ্চিমবঙ্গে সাম্প্রতিক অতীতে এবং বিশেষত, এ বারের বিধানসভা নির্বাচনে জনজাতি এলাকায় ভাল সমর্থন পেয়েছে বিজেপি। তাই অভিন্ন দেওয়ানি বিধি আনার আগে সেই অংশের মানুষকে অভয়-বার্তা দিয়ে রাখছেন শাসক দলের নেতৃত্ব।

এখন প্রশ্ন হল, বাংলায় অভিন্ন দেওয়ানি বিধি আনা হবে কোন পদ্ধতিতে? এখনও পর্যন্ত যা ঠিক আছে, বিধানসভায় আগামী সোমবার অভিন্ন দেওয়ানি বিধি প্রণয়নের লক্ষ্যে কমিটি ঘোষণা করতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তার পরে এই সংক্রান্ত বিল আসার কথা। কিন্তু রাজ্যের উচ্চ শিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় শনিবার বলেছেন, সোমবারই দেওয়ানি বিধির প্রস্তাব পাশ হবে বিধানসভায়। তাঁর কথায়, ‘‘বিজেপি যা বলে, করে দেখায়! সে ৩৭০ ধারা বা তিন তালাকের বিলোপ হোক, রামমন্দির নির্মাণ হোক বা অভিন্ন দেওয়ানি বিধি। বিধানসভায় সোমবারই এটা হয়ে যাবে এবং যে সব রাজ্যে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি আছে, সেই তালিকায় পশ্চিমবঙ্গের নাম যোগ হবে।’’ তবে বিধানসভার শেষ কর্মদিবস ছিল বৃহস্পতিবার। সে দিন সন্ধ্যায় কার্য উপদেষ্টা (বি এ) কমিটির জরুরি বৈঠক ডেকে সোমবারের জন্য যে সূচি তৈরি হয়েছিল, তাতে চারটি বিল থাকলেও অভিন্ন দেওয়ানি বিধির প্রস্তাবের উল্লেখ নেই। ফলে, সোমবার সরকার পক্ষ ঠিক কী করতে চায়, তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে বিরোধী শিবিরে।

তৃণমূল কংগ্রেস এই বিধির বিরোধিতাতেই অনড়। কালীঘাটপন্থী তৃণমূলের আইনজীবী-সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, ‘‘এ দেশে এই রকম আইন হতে পারে না। এক এক ধর্মের মানুষ এক এক নিয়মে চলেন। হিন্দুদের মধ্যেই ভাগ রয়েছে। নতুন সরকার মানুষের কাজের বদলে অপ্রয়োজনীয় রাজনৈতিক লক্ষ্যপূরণে ব্যস্ত হয়ে পড়ছে।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন