—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।
বাজেট ঘোষণার দিন প্রথমে তাঁদের বেতন বৃদ্ধি বা স্থায়ীকরণ নিয়ে কোনও আলোচনা না হওয়ায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে ই-মেল পাঠিয়েছিলেন বৃত্তিমূলক শিক্ষক ও প্রশিক্ষকেরা। বাজেট নিয়ে বিধানসভায় আলোচনা পর্বে সিপিএম বিধায়ক মোস্তাফিজুর রহমানও বৃত্তিমূলক শিক্ষক ও প্রশিক্ষকদের স্থায়ীকরণ ও বেতন বাড়ানোর দাবি করেছিলেন। অবশেষে বৃহস্পতিবার বাজেট অধিবেশনে বৃত্তিমূলক শিক্ষক ও প্রশিক্ষকদের দু’হাজার টাকা করে বেতন বৃদ্ধি ঘোষণা করেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত।
বেতন কিছুটা বাড়ায় খুশি হলেও সন্তুষ্ট নন বৃত্তিমূলক শিক্ষক ও প্রশিক্ষকেরা। তাঁদের বক্তব্য, সমকাজে সম বেতনের দাবিতে তাঁরা রাজ্য সরকারের কাছে দীর্ঘদিন আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। অথচ বাজেটে সরকারি কর্মীদের ডিএ ২০ শতাংশ বেড়েছে, পাঁচ হাজার টাকা বেড়েছে পার্শ্বশিক্ষকদের বেতন, আশা, অঙ্গনওয়াড়ি, সিভিক কর্মী, মিড-ডে মিলের রাঁধুনিদের ভাতাও। কিন্তু বৃত্তিমূলক শিক্ষক-প্রশিক্ষকদের জন্য বাজেটে প্রথম দিনে কোনও ঘোষণা হয়নি। সে কারণেই মুখ্যমন্ত্রীকে ই-মেল।
তাঁদের দাবি, তাঁদের উপরে নির্ভর করেই রাজ্যের অষ্টম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত ২,২০০টি স্কুল চলে। বছরে প্রায় ৮০ হাজার ছাত্রছাত্রী পাশ করে। বীরভূমে ৪০টি এ রকম প্রশিক্ষণ কেন্দ্র রয়েছে। সারা জেলায় প্রতি বছর গড়ে ১,৬০০ ছাত্রছাত্রী পাশ করে। অষ্টম শ্রেণি থেকে ধরলে ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা অনেক বেশি।
বৃত্তিমূলক শিক্ষক ও প্রশিক্ষক যৌথ মঞ্চের সদস্য সতন লেট বলেন, “সরকারি আদেশ অনুযায়ী আমরা নিয়োগপত্র পেয়েছি। কোনও তৃতীয় পক্ষ বা এজেন্সির মাধ্যমে নিযুক্ত নই। অথচ পর্যাপ্ত বেতন দেওয়া হয় না। যেটুকু বেতন বৃদ্ধি হয়েছে তাতে আমরা সন্তুষ্ট নই।”
বাম আমলে প্রথমে দৈনিক ক্লাস পিছু ১০০ টাকা করে তাঁরা পেতেন। পরে তা বেড়ে হয় ১৫০ টাকা প্রতি ক্লাস। পরে তৃণমূল সরকার সামাজিক সুরক্ষার আওতায় এনে বিভিন্ন বিভাগ অনুযায়ী ৭ থেকে ১৫ হাজার টাকা বেতনের ব্যবস্থা করে।
নিখিল বঙ্গ শিক্ষক সমিতির বীরভূম জেলা সম্পাদক সৌগত রায় বলেন, “সমকাজে সমবেতন-সহ তাঁদের স্থায়ীকরণের জন্য আমরা প্রথম থেকেই দাবি জানিয়ে এসেছি। বর্তমান সরকার অস্থায়ী কর্মীদের স্থায়ী করার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে। সে দাবি পূরণ হোক।”
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে