আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। —ফাইল চিত্র।
পশ্চিম এশিয়ায় শান্তি ফিরেও ফিরছে না! দু’সপ্তাহ আগে ইরান এবং আমেরিকা ভার্চুয়াল মাধ্যমে সংঘর্ষবিরতির মউ স্বাক্ষর করেছিল। কিন্তু সংঘর্ষে বাস্তবে কোনও বিরতি নেই। শনিবার রাতে ফের উত্তেজনা ছড়িয়েছে হরমুজ় প্রণালী সংলগ্ন এলাকায়। রবিবার ভোরে আমেরিকার সেনাবাহিনী নতুন করে আক্রমণ শুরু করেছে ইরানে। দেশটির দক্ষিণ প্রান্তে সিরিকে বোমাবর্ষণ করা হয়েছে। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তেহরানকে।
ট্রাম্প সমাজমাধ্যমে লিখেছেন, ‘‘ এমন একটা সময় আসতে চলেছে, যখন আমরা আর সংযত থাকতে পারব না। যে কাজটা খুব সফল ভাবে আমরা শুরু করেছিলাম, সেটা হয়তো সামরিক ভাবেই শেষ করতে বাধ্য হব। সেটা যদি হয়, ইরানের আর কোনও অস্তিত্বই থাকবে না।’’ ট্রাম্পের এই বক্তব্যের পরেই ইরানের কিছু জায়গায় হামলা চালানো হয়েছে। পশ্চিম এশিয়ায় দায়িত্বপ্রাপ্ত মার্কিন সামরিক বাহিনী সেন্ট্রাল কমান্ড সমাজমাধ্যমে লিখেছে, ‘‘সংঘর্ষবিরতির সমঝোতাকে সম্মান জানানোর সুযোগ ইরানকে দেওয়া হয়েছিল। ওরা সেটা করবে না ঠিক করেছে।’’ হরমুজ়ে পণ্যবাহী জাহাজ চলাচলে ব্যাঘাত ঘটানোর কারণেই ইরানে নতুন করে হামলা চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন বাহিনী। তাদের দাবি, ইরানের দক্ষিণে বেশ কিছু সামরিক ঘাঁটি, ড্রোনের গুদামকে নিশানা করা হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার হরমুজ়ের কাছে ওমান উপকূলে সিঙ্গাপুরের পতাকাবাহী একটি জাহাজে হামলা হয়। আমেরিকা এই হামলার জন্য সরাসরি ইরানকে দোষারোপ করে। ইরান সেই অভিযোগ অস্বীকার করে হামলার দায় ঠেলে দেয় মার্কিন বাহিনীর দিকে। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুক্রবারই আমেরিকা হামলা চালিয়েছিল ইরানে। জবাবে পশ্চিম এশিয়ার কিছু মার্কিন ঘাঁটিকে নিশানা করে বোমা ফেলে তেহরান। উত্তেজনার মধ্যেই শনিবার হরমুজ়ে আক্রান্ত হয় আরও একটি ট্যাঙ্কার। পানামার পতাকাবাহী ওই ট্যাঙ্কারেও ইরান হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে সেন্ট্রাল কমান্ড। তার জবাবে রবিবার ভোরের আগ্রাসন।
আমেরিকার হামলার জবাবে ইরানও পাল্টা দিতে শুরু করেছে। পশ্চিম এশিয়ায় একাধিক ঘাঁটিতে তারা নিশানা করেছে বলে অভিযোগ। বাহরিনে আমেরিকান নৌবাহিনীর আঞ্চলিক সদর দফতর রয়েছে। সেখানে রবিবার ড্রোন হামলা হয়েছে। মার্কিন বাহিনী তা নিয়ে এখনও কোনও মন্তব্য করেনি।
৬০ দিনের সংঘর্ষবিরতিতে সম্মত হয়েছে ইরান-আমেরিকা। ট্রাম্প ছাড়াও সেই মউ স্বাক্ষর করেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজ়েশকিয়ান। কিন্তু চুক্তির বাস্তবায়নে শান্তি বজায় থাকছে না। ট্রাম্পও হুঁশিয়ারি দিয়ে চলেছেন। শনিবার মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স জানান, সংঘর্ষবিরতির বাস্তবায়নের পদ্ধতি নিয়ে ইরানের কোনও আপত্তি থাকলে তারা ফোনে যোগাযোগ করতে পারে মার্কিন আধিকারিকদের সঙ্গে। তবে হিংসার জবাব হিংসার মাধ্যমেই দেওয়া হবে।