—প্রতীকী চিত্র।
রাজ্যের মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তীর ভোটার হিসেবে যোগ্যতা এখনও নির্বাচন কমিশনের ‘বিচারাধীন’। আজ সুপ্রিম কোর্টে এই অভিযোগ তুলল রাজ্যের শাসক শিবির। সুপ্রিম কোর্টে সশরীর হাজির হলেন মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তীও। তাঁর উপস্থিতিতে আজ শীর্ষ আদালতে রাজ্য সরকার অভিযোগ তুলল, নির্বাচন কমিশন এসআইআর-এর কাজে নিযুক্ত বিচারকদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। সেখানে কোন নথি গ্রহণ করা হবে, কোনটা গ্রহণ হবে না, তা শিখিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ এই বিষয়টিতে হস্তক্ষেপ করতে রাজি হয়নি। উল্টে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত ও বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চ রাজ্যকে বার্তা দিয়ে বলেছে, ‘ছোটখাটো কারণ দেখিয়ে এসআইআর প্রক্রিয়া আটকানোর চেষ্টা করবেন না। এটা শেষ করতে হবে। বিচারবিভাগীয় অফিসারদের কাজ করতে দিন। তাঁরা স্বাধীন ভাবে কাজ করবেন।’ আজ অবশ্য সুপ্রিম কোর্ট বলেছে, ২৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশিত হবে। তার পরে বাকি যে ভোটারের নথি যাচাইয়ের কাজ বাকি থাকবে, তা যখন যেমন কাজ শেষ হবে, তখনই অতিরিক্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করে দিতে হবে। তা করতে হবে নিয়মিত ভাবে।
সুপ্রিম কোর্টের এই মন্তব্যে অবশ্য তৃণমূল শিবির নিজেদের ‘জয়’ দেখছে। রাজ্যের আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘‘সুপ্রিম কোর্ট মৌখিক ভাবে বলে দিয়েছে, এসআইআর-এর কাজে নিযুক্ত বিচারকরা শীর্ষ আদালতের রায় অনুযায়ী চলবে। সুপ্রিম কোর্টের বিভিন্ন রায়ে যে সব নথির কথা বলা হয়েছে, সেগুলোই গৃহীত হবে।’’ একই সঙ্গে কল্যাণ অভিযোগ তোলেন, মুখ্যসচিবেরও ভোটার হিসেবে যোগ্যতার বিচার চলছে। অভিযোগের প্রমাণে মুখ্যসচিবের নাম-ছবিসহ একটি নথিও তুলে ধরেন কল্যাণ। তিনি বলেন, ‘‘রাজ্যের মুখ্যসচিবের ভোটার হিসেবে যোগ্যতার বিষয়টিও বিচারধীন। আন্ডার অ্যাজুডিকেশন। নির্বাচন কমিশন কোন পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছে ভাবুন। এর পরে আমার ভোটার হিসেবে যোগ্যতাও বিচারাধীন রয়েছে কি না, দেখতে হবে।’’
বিজেপি নেতা অমিত মালবীয় পাল্টা প্রশ্ন তুলেছেন, এসআইআর প্রক্রিয়ায় বিচার বিভাগের অফিসারদের প্রশিক্ষণ নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার অস্বস্তিতে কেন? তার পরে তিনি যোগ করেন, আসলে এটা যাচাই বন্ধ করার মরিয়া চেষ্টা যাতে, ভুয়ো ও বেআইনি ভোটারদের বাঁচানো যায়।
সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছিল, পশ্চিমবঙ্গে তথ্যগত অসঙ্গতি ও ‘আন-ম্যাপড’ তালিকার ভোটাররা যে সব নথি জমা দিয়েছেন, তা যাচাই করতে জেলা বিচারকদের নিয়োগ করা হবে। এখনও পর্যন্ত ৫৩০ জন বিচারককে এ কাজে নিয়োগ করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন সুপ্রিম কোর্টেই বলেছিল, এই বিচারকদের প্রশিক্ষণ দিয়ে নিতে হবে।
আজ রাজ্য সরকারের তরফে আইনজীবী কপিল সিব্বল জরুরি ভিত্তিতে সুপ্রিম কোর্টে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত ও বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চে এই প্রসঙ্গ উত্থাপন করেন। তিনি অভিযোগ করেন, সুপ্রিম কোর্ট কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতিকে সব কিছু ঠিক করতে বলেছিল। কিন্তু নির্বাচন কমিশন বিচারকদের প্রশিক্ষণ দিয়ে বলে দিচ্ছে, তাঁরা কোন নথি গ্রহণ করবেন, কোনটা করবেন না। বিচারপতিরা বলেন, নির্বাচন কমিশন যদি বিচারকদের প্রশিক্ষণ দেয়, তাতে অস্বাভাবিক কিছু নেই। কারণ, বিচারকরা সাধারণত যে কাজ করেন না, তার বাইরে গিয়ে তাঁদের কাজ করতে হবে। সিব্বল বলেন, ‘‘কিন্তু তাঁরা নির্বাচন কমিশনের থেকে নির্দেশ নিতে পারেন না।’’ বিচারপতি বাগচী বলেন, ‘‘তা হলে কারা বিচারকদের প্রশিক্ষণ দেবে? প্রক্রিয়াটা ওঁদের বুঝতে হবে। আমাদের নির্দেশ দিনের আলোর মতো স্পষ্ট। তার উপরে গিয়ে কমিশন নিজের কোনও নির্দেশ চাপিয়ে দিতে পারে না।’’ সিব্বল বলেন, মহকুমাশাসকের দেওয়া ডমিসাইল সার্টিফিকেট পরিচয়ের প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ না করার নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। বিচারপতি বাগচী বলেন, নির্বাচন কমিশনের বিজ্ঞপ্তিতে এবং আমাদের নির্দেশে এই সংক্রান্ত কিছু থাকার পরেও সমস্যা হলে তা খতিয়ে দেখা হবে।
রাজ্যের মুখ্যসচিবের ভোটার তালিকায় নাম থাকা সংশয়ে রয়েছে বলে সিব্বল বলেন, মুখ্যসচিবকে সমন পাঠিয়ে তাঁর ভোটার হিসেবে যোগ্যতা প্রমাণের নথি দিতে বলা হয়েছে। এসআইআর-এ তাঁকেও নোটিস দেওয়া হয়েছে। মুখ্যসচিব এজলাসে রয়েছেন, তা-ও জানান সিব্বল। সুপ্রিম কোর্ট অবশ্য নতুন করে আর কোনও নির্দেশ জারি করতে রাজি হয়নি। বিচারপতি বাগচী বলেন, ‘‘আমরা এমনিতেই যা নির্দেশ দিয়েছি, তাতে রাজ্যের বিচারবিভাগ প্রায় ফাঁকা হয়ে গিয়েছে।’’ সিব্বল বলেন, ‘‘তাঁদের কাজে কেউ যেন প্রভাব না খাটায়।’’ নির্বাচন কমিশনের আইনজীবী ডি এস নায়ডুকে বিচারপতি বাগচী বলেন, চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের পরে যখন যেমন নাম উঠবে, তা যেন সঙ্গে সঙ্গে ‘আপডেট’ করা হয়।
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে