(উপরে) সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির চলছে এসআইআর মামলার শুনানি। আইনজীবীদের সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (নীচে)। ছবি: সংগৃহীত।
মুখ্যমন্ত্রীর আইনজীবী: যাদের নাম তথ্যগত অসঙ্গতি বা লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির তালিকায় রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে কারণ উল্লেখ করে নাম আপলোড করতে হবে। বর্তমানে নোটিসে শুধু লেখা হচ্ছে, ‘ডিসক্রিপেন্সি ফর ম্যাপিং’। কিন্তু কী কারণে ডিসক্রিপেন্সি বা অসঙ্গতি রয়েছে, তা বলা নেই।
প্রধান বিচারপতি: ভোটারকে অবশ্যই জানতে হবে কেন তার নাম তালিকায়। প্রশ্ন হল, কোন পদ্ধতিতে জানানো হবে।
নির্বাচন কমিশন: শুধু তালিকা নয়, ব্যক্তিগত নোটিসও পাঠানো হচ্ছে। নোটিসে কারণ লেখা আছে।
মুখ্যমন্ত্রীর আইনজীবী: বহু ক্ষেত্রে কেবল নামের সামান্য বানান পার্থক্যের জন্য নোটিস দেওয়া হচ্ছে। তিনি হিসাব দিয়ে বলেন, প্রায় ৭০ লক্ষ মানুষকে এই কারণে শুনানিতে ডাকা হয়েছে। উদাহরণ হিসাবে কয়েকটি পদবির ইংরেজি বানানের রকমফেরের কথা উল্লেখ করেন তিনি।
প্রধান বিচারপতি: ২০০২ সালের ভোটার তালিকা ছিল বাংলায়। অনুবাদের সময় এই সমস্যা হওয়া স্বাভাবিক। রাজ্য সরকার যদি বাংলা ও স্থানীয় উপভাষা বোঝেন, এমন কর্মকর্তাদের টিম দেয়, তবে তারা যাচাই করে জানালে নির্বাচন কমিশনের কাজ সহজ হবে। এই ধরনের কারণে কোনও প্রকৃত ভোটারকে বাদ দেওয়া যাবে না।
মুখ্যমন্ত্রী: তিনি কোনও রাজনৈতিক দলের জন্য নয়, মানুষের অধিকারের জন্য এসেছেন। এসআইআর প্রক্রিয়া কার্যত শুধু নাম বাদ দেওয়ার জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে। বিয়ের পর মেয়েরা শ্বশুরবাড়ির নাম ব্যবহার করলে সেটাকেও ‘মিসম্যাচ’ ধরা হচ্ছে। অনেক জীবিত মানুষকে মৃত বলে বাদ দেওয়া হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী: শুধু পশ্চিমবঙ্গকেই নিশানা করা হয়েছে। ২৪ বছর পর হঠাৎ ৩ মাসে কাজ কেন? এটা ফসল কাটার মরশুম, মানুষর বাইরে থাকার সময়। ১০০-র বেশি মানুষ মারা গিয়েছেন, বহু বিএলও অসুস্থ। ইআরও-দের ক্ষমতা কেড়ে নেওয়া হয়েছে। বিজেপিশাসিত রাজ্য থেকে ৮৩০০ মাইক্রো অবজ়ারভার অফিসে বসেই নাম বাদ দিচ্ছে। ফর্ম-৬ জমা দিতে দেওয়া হচ্ছে না। বিচারের বাণী নীরবে-নিভৃতে কাঁদছে।
কমিশন: রাজ্য সরকার পর্যাপ্ত গ্রুপ বি/ক্লাস ২ অফিসার দেয়নি। তাই বাধ্য হয়ে মাইক্রো অবজ়ারভার নিয়োগ। এগুলি আইনসম্মত কাজ।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ ও পর্যবেক্ষণ: সময় খুব সীমিত, এক সপ্তাহ সময় দেওয়া যাবে না।
সোমবারের মধ্যে রাজ্য সরকার জানাবে—
কতজন গ্রুপ বি অফিসার দিতে পারবে
আদালত জানিয়েছে—
বিএলও-র সই ছাড়া কোনও নথি বৈধ হবে না।
অফিসার এলে মাইক্রো অবজ়ারভার প্রয়োজন হবে না।
নির্বাচন কমিশনকে আরও সংবেদনশীল হতে হবে।
মুখ্যমন্ত্রীর আইনজীবী শ্যাম দিওয়ান সুপ্রিম কোর্টে সওয়াল করে বলেন, চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের আর মাত্র ১১ দিন বাকি। শুনানি শেষ করার জন্য হাতে আছে মাত্র ৪ দিন। ৩২ লক্ষ ভোটারকে ‘আনম্যাপড’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।” তিনি আরও বলেন যে, “খসড়া তালিকা প্রকাশের পর ১.৩৬ কোটি ভোটার (প্রায় ২০ শতাংশ) প্রভাবিত হয়েছেন। ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে এখনও পর্যন্ত ৮৮ লক্ষ মানুষের শুনানি হয়েছে। প্রতি দিন গড়ে ১.৮ লক্ষ মানুষের শুনানি হয়েছে। এখনও ৬৩ লক্ষ মানুষের শুনানি বাকি। নির্ধারিত সময়ে শুনানি শেষ করতে হলে প্রতি দিন ১৫.৫ লক্ষ শুনানি করতে হবে – যা বাস্তবে অসম্ভব। ৮৩০০ জন মাইক্রো অবজ়ারভার নিয়োগ করা হয়েছে, যার কোনও আইনি ভিত্তি নেই। মুখ্যমন্ত্রীর আইনজীবী এ-ও বলেন যে, পরিবারপঞ্জী (ফ্যামিলি রেজিস্টার), আধার কার্ড, ওবিসি শংসাপত্র— কোনওটাই আদালতের নির্দেশ সত্ত্বেও আলাদা ভাবে গ্রহণ করা হচ্ছে।”
রাজ্য সরকার যেন বাংলা ভাষা বোঝে, এমন অফিসারদের তালিকা দেয়।
নির্বাচন কমিশন যেন নামের ছোট ভুলে কাউকে বাদ না-দেয়।
শুনানির নোটিস দেওয়ার সময় আরও সতর্ক হতে হবে।
সোমবার আবার শুনানি হবে।
এসআইআর প্রক্রিয়া কার্যত শুধু নাম কাটার জন্য।
বিয়ের পর মেয়েরা শ্বশুরবাড়ি গেলে নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে।
গরিব মানুষ বাড়ি বদলালে নাম কাটা হচ্ছে।
পশ্চিমবঙ্গকে ইচ্ছাকৃত ভাবে নিশানা করা হয়েছে।
যা করতে দু’বছর লাগে, সেটা দু’মাসে করতে গিয়ে মানুষ হয়রান হচ্ছে।
আমি দল নয়, মানুষের অধিকার রক্ষার জন্য কথা বলছি।
প্রধান বিচারপতির উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “গণতন্ত্রকে রক্ষা করুন।” মুখ্যমন্ত্রীর মামলায় নোটিস জারি করল সুপ্রিম কোর্ট। তার পরেই মমতা বলেন, “আমি খুবই ধন্য হয়েছি। মানুষের অধিকার রক্ষা করুন।” শুনানি শেষ হওয়ার পর এজলাস উঠে যায়। আইনজীবীদের সঙ্গে কথা বলতে দেখা যায় মুখ্যমন্ত্রীকে।
আগামী সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) মুখ্যমন্ত্রীর করা এসআইআর মামলা ফের শুনবে সুপ্রিম কোর্ট।
মমতা: ইআরও-র কোনও ক্ষমতা নেই। রোল পর্যবেক্ষক বিজেপিশাসিত রাজ্য থেকে নিয়ে আসা হয়েছে। ৫৮ লক্ষের নাম বাদ দিয়েছে। অনেকে জীবিত রয়েছেন। মাইক্রো অবজার্ভার নাম মুছে দিচ্ছেন।
প্রধান বিচারপতি: আমরা এই বিষয়ে নির্দেশ দেব
প্রধান বিচারপতি: ম্যাডাম মমতা ২-৩টি বিষয়ে ব্যাখ্যা করছি।
প্রধান বিচারপতি: আধার কার্ড নিয়ে আমরা মামলা শুনেছি। রায় ঘোষণা বাকি রয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী: আপনারা আধার কার্ড নিতে বলেছিলেন। কিন্তু নেওয়া হয়নি। অন্য নথি চাওয়া হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী: ১০০ জনের বেশি মারা গিয়েছেন। ভাবতে পারেন।
মুখ্যমন্ত্রী: বাংলাকে টার্গেট করা হয়েছে
মুখ্যমন্ত্রী: কেন অসমে করা হয়নি?
মুখ্যমন্ত্রী: আমার কাছে কয়েকটি ছবি রয়েছে। সেটি দেখানোর অনুমতি দেওয়া হোক। সেটি আমার ছবি না। সংবাদমাধ্যমের ছবি।
মুখ্যমন্ত্রী: আমাকে সাবমিশন করতে দেওয়া হোক।
মুখ্যমন্ত্রী: আপনার নির্দেশ লঙ্ঘন করা হয়েছে।
৫ মিনিট বলার অনুমতি চাইলেন মুখ্যমন্ত্রী । প্রধান বিচারপতি বললেন, “৫ মিনিট কেন? আপনি ১৫ মিনিট বলতে পারেন, তাতে অসুবিধা নেই। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের মামলায় আইনজীবীরা সওয়াল করছেন।” একই সঙ্গে তাঁর সংযোজন, “পশ্চিমবঙ্গ সরকার একটি মামলা করেছে। এই আদালতের অন্যতম সেরা আইনজীবীরা সেখানে উপস্থিত রয়েছেন। কপিল সিব্বল সেখানে সওয়াল করছেন।”
মুখ্যমন্ত্রী বলার সময়েই তাঁকে থামালেন প্রধান বিচারপতি। প্রধান বিচারপতি বললেন, “দুঃখিত ম্যাডাম আপনাকে বিরক্ত করছি।”
শুনানি চলাকালীন বলার জন্য অনুমতি চাইলেন মুখ্যমন্ত্রী। মঞ্জুর করলেন প্রধান বিচারপতি।
শুনানিতে আইনজীবীদের সঙ্গে সামনের সারিতে দাঁড়িয়ে রয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শীর্ষ আদালতে সওয়াল করছেন মুখ্যমন্ত্রীর আইনজীবী শ্যাম দিওয়ান।
তৃণমূল সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েনের করা এসআইআর সংক্রান্ত মামলা শুনছে প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ। এই মামলার সঙ্গেই মমতার করা মামলাটি শুনবে সুপ্রিম কোর্ট।
দৃষ্টি আকর্ষণের পর প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত জিজ্ঞাসা করেন, ওই সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে কি নতুন মামলা দায়ের হয়েছে? আইনজীবী জানান, তালিকায় ৩৬ এবং ৩৭ নম্বরে নতুন মামলা রয়েছে। প্রধান বিচারপতি বলেন, শুনানি হবে।
অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে পশ্চিমবঙ্গের এসআইআর মামলার শুনানি করা হোক। এই আর্জি জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির দৃষ্টি আকর্ষণ করা হল। অন্য মামলার শুনানি চলাকালীন দৃষ্টি আকর্ষণ করেন আইনজীবী গোপাল শঙ্করনারায়ণ।
সকাল সাড়ে ১০টায় মুখ্যমন্ত্রীর মামলাটি শুনানিক্রমে ৩৭ নম্বরে থাকলেও অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে শুনানির কথা জানানো হয়েছিল। কিন্তু প্রধান বিচারপতির এজলাস বসার পর নতুন শুনানিক্রমে অগ্রাধিকার তালিকায় মুখ্যমন্ত্রীর করা এসআইআর সংক্রান্ত মামলাটি নেই। এখন তালিকার ৮ নম্বর মামলার শুনানি চলছে।
তালিকা ধরে ধরে মামলার শুনানি হয়। তবে কোন মামলা আগে এবং কোনটি পরে শুনানি হবে, মামলার ধরন এবং গুরুত্বের বিচারে বিচারপতিরা সেই সিদ্ধান্ত নেন। এ ক্ষেত্রে শুনানির তালিকায় মুখ্যমন্ত্রীর মামলা রয়েছে। কিন্তু কোন সময় শুনানি হবে নিশ্চিত ভাবে তা বলা হচ্ছে না।
প্রাথমিক ভাবে শুনানিক্রমে পশ্চিমবঙ্গের এসআইআর মামলার উল্লেখ নেই। সুপ্রিম কোর্টের তরফে জানানো হয়েছে, প্রধান বিচারপতির এজলাসে শুনানির ক্রম হল ১ থেকে ৫। তার পরে তালিকার ৩৫ নম্বর মামলার শুনানি হবে। সেটি শেষ হলে তালিকার ৬ থেকে ১৬ নম্বর মামলার শুনানি হবে। এর পরে রয়েছে ৪০ এবং ৪১ নম্বর মামলার শুনানি। পশ্চিমবঙ্গের এসআইআর মামলার শুনানি রয়েছে তালিকার ২১ নম্বরে। ৩৭ নম্বরে রয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর মামলা। সকাল সাড়ে ১০টায় কোর্ট বসার আগে শুনানিক্রমে ৩৭ নম্বর মামলাটি থাকলেও, এখনকার শুনানিক্রমে তা নেই। তবে মুখ্যমন্ত্রীর মামলাটি শুনানির তালিকায় আছে। শুনানির জন্য সেটি উঠবেও। তবে মামলাটির শুনানি কখন হবে, সেই সময় জানানো হচ্ছে না। এখন তালিকায় ৩ নম্বরে থাকা মামলার শুনানি চলছে।