West Bengal Budget

নতুন সরকারের প্রথম বাজেট সোমবার, স্বপন কি পারবেন নতুন স্বপ্নের বীজ বুনে দিতে? শিল্প থেকে ডিএ, তাকিয়ে রাজ্য

কয়েক দিন আগেই দিল্লিতে যান রাজ্যের অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। সেখানে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। বৈঠক হয় নীতি আয়োগের ডেপুটি চেয়ারম্যান অশোক লাহিড়ীর সঙ্গেও।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২১ জুন ২০২৬ ২১:০৪
Share:

(বাঁ দিকে) মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত (ডান দিকে)। — ফাইল চিত্র।

সোমবার রাজ্যে বিজেপির সরকার প্রথম বাজেট পেশ করবে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের কাছ থেকে রাজ্যবাসীর প্রত্যাশা অনেক। নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলির কতটা প্রতিফলিত হবে নতুন সরকারের এ বারের বাজেটে? রাজ্যকে শিল্পমুখী করতেই বা কী পদক্ষেপ করবে বিজেপির সরকার? সরকারি কর্মীদের মহার্ঘভাতা নিয়ে থাকবে কি কোনও ঘোষণা? তা নিয়ে আগ্রহ ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে জনমানসে।

Advertisement

গত বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হয়েছে বিধানসভার বাজেট অধিবেশন। সোমবার দুপুর ১২টায় বাজেট পেশ করবেন রাজ্যের অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর নেতৃত্বে গঠিত সরকারের প্রথম বাজেট কেমন হবে, তা নিয়ে ইতিমধ্যে কৌতূহল বৃদ্ধি পেয়েছে। রাজ্য সরকারও এই বাজেটের উপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। কয়েক দিন আগেই, গত বুধবার দিল্লিতে গিয়ে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণের সঙ্গে বৈঠক করেছেন স্বপন। নীতি আয়োগের ডেপুটি চেয়ারম্যান অশোক লাহিড়ীর সঙ্গেও একপ্রস্ত বৈঠক করেন তিনি। রাজ্য বাজেট পেশের আগে এই জোড়া বৈঠক যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। দিল্লিযাত্রার আগে স্বপন বলেছিলেন, “কর না বাড়িয়ে রাজ্য সরকারের আয় বাড়ানোই চ্যালেঞ্জ।”

দিল্লির বৈঠকে বাজেট নিয়ে যে আলোচনা হয়েছে, তা নিয়ে কোনও রাখঢাক রাখেননি স্বপন। তবে নির্দিষ্ট ভাবে কোন কোন বিষয়ে কথাবার্তা হয়েছে, তা খোলসা করতে চাননি শুভেন্দুর সরকারের অর্থমন্ত্রী। স্বপনের কথায়, পশ্চিমবাংলার অর্থনীতির জন্য ‘বিশেষ নজরদারির’ প্রয়োজন রয়েছে। কেন্দ্র এবং রাজ্য সরকার তা নিয়ে কী ভাবে যৌথ ভাবে কাজ করতে পারে, তা নিয়ে আলোচনা হয় দিল্লির বৈঠকে। রাজ্যের অর্থমন্ত্রীর এই বার্তা আসন্ন বাজেট নিয়ে কৌতূহল আরও বৃদ্ধি করেছে।

Advertisement

সম্প্রতি ফলতায় গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু বলেছেন, কৃষকদের জন্য একটি নতুন প্রকল্প আসতে চলেছে। সে ক্ষেত্রে বাজেটে কৃষকদের জন্য কোনও ঘোষণা থাকে কি না, সে দিকে নজর থাকবে। রাজ্যের সরকারি কর্মীদের ডিএ নিয়ে কোনও ঘোষণা থাকবে কি বাজেটে, তা নিয়েও কৌতূহল বেড়েছে সরকারি কর্মচারী সংগঠনগুলির অন্দরে। মুখ্যমন্ত্রী সম্প্রতি জানিয়েছেন, তাজপুরের পরিবর্তে দাদনপাত্রবাড়ে সমুদ্রবন্দর তৈরির পরিকল্পনা চলছে। সে বিষয়ে কোনও ঘোষণা থাকে কি না, নজর থাকবে সে দিকেও।

উল্লেখ্য, এ বারের বিধানসভা ভোটের প্রচারের সময়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ রাজ্যবাসীকে অর্থনৈতিক সঙ্কট থেকে উদ্ধার করার আশ্বাস দিয়েছেন। ঘটনাচক্রে, শনিবারই প্রধানমন্ত্রী মোদী জানিয়েছেন, রাজ্য সরকারকে ৪০ হাজার কোটি টাকা ইতিমধ্যে দেওয়া হয়েছে। আরও ৬০ হাজার কোটি টাকা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। সে ক্ষেত্রে ক্ষমতায় আসার পর বিজেপির নতুন সরকার রাজ্যের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার, শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, কৃষি ও পরিকাঠামো উন্নয়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলিতে কী ধরনের রূপরেখা গ্রহণ করে, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে আগ্রহ দেখা দিয়েছে। মনে করা হচ্ছে, নতুন সরকারের অর্থনৈতিক অগ্রাধিকার এবং আগামী পাঁচ বছরের উন্নয়ন পরিকল্পনার দিশা মিলতে পারে এই বাজেট থেকে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement