কলকাতার ব্রিগেড প্যারাড গ্রাউন্ডে বিজেপি সরকারের শপথগ্রহণের প্রস্তুতি। ছবি: পিটিআই।
সকাল ১১টায় শপথগ্রহণ শুরু হওয়ার কথা। তার আগেই চলে আসবেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। কলকাতা বিমানবন্দর থেকে হেলিকপ্টারে রেসকোর্সে আসার কথা তাঁর। সেখান থেকে ব্রিগেডে পৌঁছোবেন।
হাওড়া এবং শিয়ালদহ স্টেশনে বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের ভিড়। দলে দলে ব্রিগেডের দিকে যাচ্ছেন তাঁরা। কারও হাতে পদ্মফুল, কারও হাতে বিজেপির পতাকা। দূরের জেলা থেকেও অনেকে কলকাতায় এসেছেন শপথগ্রহণের সাক্ষী থাকতে।
হাওড়া স্টেশনে বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের ভিড়। শনিবার সকালে। —নিজস্ব চিত্র।
ঝাড়গ্রামে নির্বাচনী প্রচারে গিয়ে রাস্তার ধারের দোকান থেকে ঝালমুড়ি খেয়েছিলেন মোদী। সেই থেকে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে ঝালমুড়ির আলাদা তাৎপর্য তৈরি হয়েছে। শনিবার সকাল থেকে ব্রিগেড চত্বরেও ঝালমুড়ির কাউন্টার দেখা যাচ্ছে। অনেকে সকাল থেকেই ঝালমুড়ি খেতে শুরু করেছেন।
কালীঘাট মন্দিরের আদলে ব্রিগেডে শপথগ্রহণের মঞ্চ প্রস্তুত করেছে বিজেপি। মঞ্চে মা কালী, মা দুর্গার ছবি রয়েছে। রয়েছে গঙ্গাসাগরের সাধুদের ছবিও। ২৫ বৈশাখ রবীন্দ্রজয়ন্তী উপলক্ষে আলাদা করে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে সম্মান জানানো হচ্ছে ব্রিগেডে। বাজছে রবীন্দ্রসঙ্গীত।
বিজেপি সরকারের শপথগ্রহণের সকালে দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘‘এই দিনটার জন্য আমরা ৭৫ বছর অপেক্ষা করেছি। মানুষের আশীর্বাদে বিজেপি ক্ষমতায় এসেছে।’’
সকাল থেকেই ধীর ধীরে ব্রিগেডমুখী হয়েছেন মানুষ। বিজেপি কর্মী-সমর্থকেরা দূরদূরান্ত থেকে কলকাতায় আসছেন প্রথম বিজেপি সরকারের শপথের সাক্ষী থাকবেন বলে।
নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হয়েছে ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ড। কলকাতা পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানেরাও রয়েছেন।
ব্রিগেডে বিজেপি সরকারের শপথগ্রহণে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে হিংসায় নিহত বিজেপি কর্মীদের পরিবারের সদস্যদেরও। তৃণমূল জমানায় রাজনৈতিক কারণে বা ভোট-পরবর্তী হিংসায় যে সমস্ত বিজেপি কর্মী খুন হয়েছেন, তাঁদের পরিবার ব্রিগেডে থাকবেন।
প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে শনিবার কলকাতায় যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। কলকাতা পুলিশ শুক্রবারই বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানিয়েছে, এসপ্ল্যানেড র্যাম্প, কেপি রোড, হসপিটাল রোড, লাভার্স লেন, ক্যাসুরিনা অ্যাভিনিউ, কুইনস্ওয়েতে যান চলাচল নিয়ন্ত্রিত হবে। ভোর ৪টে থেকে রাত ৮টে পর্যন্ত মালবাহী গাড়ির যাতায়াত বন্ধ থাকবে। তবে জরুরি পরিষেবা সংক্রান্ত ছাড় রয়েছে। যেমন এলপিজি সিলিন্ডারবাহী মালগাড়ি, সিএনজি, পেট্রোলিয়াম, তেল, লুব্রিক্যান্ট, অক্সিজেন, শাক-সব্জি, ওষুধপত্র, মাছ, ফল, দুধ ভর্তি গাড়ির ছাড়পত্র থাকবে।
শনিবার শহরের কয়েকটি জায়গায় গাড়ি পার্কিংয়ের ক্ষেত্রেও নিষেধাজ্ঞা থাকছে। যেমন, ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল হলের পাশের রাস্তা, এজেসি বোস রোডের কিছু অংশ থেকে হেস্টিংস ক্রসিং, ক্যাথিড্রাল রোড, খিদিরপুর রোড, হসপিটাল রোড, কুইনস্ওয়ে, লাভার্স লেন ইত্যাদি রাস্তার ধারে গাড়ি রাখা যাবে না।
শপথগ্রহণ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও কলকাতায় আসছেন। সকালেই শহরে চলে আসবেন তিনি।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ শুক্রবার কলকাতায় এসেছেন। বিকেলে বিজেপির জয়ী ২০৭ জন বিধায়ককে নিয়ে নিউ টাউনে বৈঠক করেন তিনি। সেখানেই সর্বসম্মতিক্রমে শুভেন্দুকে মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে বেছে নেওয়া হয়। পশ্চিমবঙ্গ জয়ের তাৎপর্য ব্যাখ্যা করে শাহ মনে করিয়ে দিয়েছেন বিজেপি কর্মীদের দায়িত্বের কথা। নেতাৃ-কর্মীদের জানিয়েছেন, রাজ্যবাসীর বিশ্বাস যেন না ভাঙে।