শিশির অধিকারী। — ফাইল চিত্র।
রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিচ্ছেন ঘরের ছেলে। কাঁথির অধিকারী বাড়ি শনিবার সকালে তাই ছিল প্রায় ফাঁকা। শুভেন্দু অধিকারীর ভাইয়েরা, ভ্রাতৃবধূরা থেকে ভাইপো-ভাইঝি, সকলেই গিয়েছিলেন কলকাতার ব্রিগেডে, শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে। তবে ‘শান্তি কুঞ্জ’ আগলে ছিলেন শিশির অধিকারী। টিভির পর্দাতেই তিনি সাক্ষী থেকেছেন মেজো ছেলের ইতিহাস সৃষ্টির মুহূর্তের।
দেরিতে ঘুম থেকে ওঠেন বর্ষীয়ান রাজনীতিক শিশির। তবে আদরের ‘বুড়ি’ (শুভেন্দুকে এই নামেই ডাকেন বাবা) মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবে বলে কথা, এ দিন তাই সকালে উঠে তৈরি হয়ে বসার ঘরে চলে এসেছিলেন। টানা চোখ ছিল টিভিতে। ঘনঘন শুভেচ্ছাবার্তা এসেছে মোবাইলে। বয়সজনিত কারণেই ব্রিগেডে যাননি শিশির ও তাঁর স্ত্রী গায়ত্রী। শিশির বলেন, “ব্রিগেডে ভিড় হবে। যদি অসুবিধা হয়, তাই যাইনি। তবে টিভিতে পুরোটা দেখছি।” তাঁর কথায়, “শুভেন্দুকে আটকানোর অনেক চেষ্টা হয়েছে। কিন্তু গ্রামের পান্তা খাওয়া ছেলেটা ঠিক জিতল। ছেলের শপথে দেশের কত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী, কাশ্মীরের পণ্ডিত এসেছেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী কবিগুরুর জন্মদিনের শুভলগ্নে এই শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান করলেন। এটাই ঐক্যবদ্ধ ভারত।” তাঁর কথায়, “এক বার ইন্দিরা গান্ধী ছোট্ট শুভেন্দুকে হেলিকপ্টারে নিয়ে যেতে চেয়েছিলেন। গনি খানও বলেছিলেন, ওকে বাড়িতে নিয়ে রাখবেন। সেই ছেলে আজ কোথায় পৌঁছল!” গায়ত্রী বলেন, “আমাদের বিশ্বাস ছিল, ও এক দিন মুখ্যমন্ত্রী হবে। এখন চাইব, অভয়ার খুনের তদন্ত হোক। বেকারেরা কাজ পাক। গরিবের মাথার উপরে ছাদ হোক।”
এগরার মাধবসানকিবাড় গ্রামে শুভেন্দুর পৈতৃক বাড়ির কুলদেবতা রাধাকৃষ্ণের মন্দিরে এ দিন বিশেষ পুজো হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর বড় কাকিমা ৭৪ বছরের কবিতা অধিকারী বলেন, “আগে বুবাই (শুভেন্দুর ডাকনাম) এসে পুকুরে মাছ ধরত। গাছে উঠে ফল পাড়ত। ওর পছন্দ ছিল মৌরলা মাছের টক দিয়ে পান্তাভাত। ভাই-বোনেদের সঙ্গে খুব দুষ্টুমিও করত।”
যে নন্দীগ্রামের জমি আন্দোলনের হাত ধরে শুভেন্দুর রাজনৈতিক উত্থান, সেখানকার ‘শহিদ পরিবার’-এর একাংশ সদস্য এ দিন গিয়েছিলেন ব্রিগেডে। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দুর শপথগ্রহণ সামনে থেকে দেখেছেন পলাশ গিরি, তাপস কর, আলোকবালা দাসেরা। ২০০৭ সালে নিহত সোনাচূড়ার রাখাল গিরির ছেলে পলাশ বলেন, “দু’দশক ধরে শুভেন্দুদা সুখে-দুঃখে সঙ্গে থেকেছেন। বড্ড আনন্দের দিন।” আলোকবালা দাসের আশা, “ঘরের ছেলে মুখ্যমন্ত্রী হলেন। এ বার উন্নয়ন হবেই।”
জঙ্গলমহলের নেতাই আন্দোলনের সঙ্গেও জড়িয়ে শুভেন্দুর নাম। ঝাড়গ্রাম জেলার লালগড়ের নেতাই গ্রামে গুলিচালনায় জখম অনেকে শনিবার ব্রিগেডের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে ছিলেন। তাঁদের অন্যতম সংকীর্তন রায় বলেন, “গ্রামের কুটুম আজ মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন। আর চিন্তা নেই।”
সহ-প্রতিবেদন: কিংশুক গুপ্ত
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে